করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

ওরা ১১ জন

করোনার কঠিন সময়ে যখন সকল সরকারি কর্মচারীরাই নিজ নিজ বাসায় অলস সময় কাটাচ্ছে তখন সব ভুলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বাড়ী বাড়ী ছুটছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ১১ কর্মচারি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য,এই কঠিন কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পেয়েও বিব্রত কিংবা ক্ষুদ্ধ নয় এরা। বরং এদেরই একজন তোরণ চাকমা সামাজিক যোগাযোম মাধ্যমে নিজের টাইমলাইনে লিখেছেন-‘ এই রেসপন্স টীমের সদস্য হতে পেরে নিজে গর্ববোধ করছি। ধন্যবাদ স্যারকে, আমাকে এই মহৎ কাজে নিয়োজিত করার জন্য।’ শুধু তোরণ চাকমাই নয়, এই টীমের বাকি সদস্য ফোরকানউদ্দিন,সৌমিত্র পারিয়াল,মোঃ দিদারুল আলম,মোঃ মনিরুল ইসলাম,বাবুল কান্তি দে,মোঃ ইব্রাহীম,অনন্ত চাকমা,সূবর্ণ চক্রবর্তী,মোঃ মানিক এবং কালিপদ দে’র চোখে মুখে যেনো যুদ্ধজয়ের স্বপ্নই চিকচিক করছে। এরা সবাই রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি। অন্যান্য সহকর্মীরা যখন বাসায় সপরিবারে নিরাপদ জীবনযাপনে,তখন এই তরুণরা দৌড়াচ্ছে মানুষের ঘরে ঘরে ত্রান পৌঁছে দিতে,জেলা প্রশাসনের কুইক রেসপন্স টীমের সদস্য হিসেবে।

কুইক রেসপন্স টীম কি ?
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে একজন মানুষও যেনো না খেয়ে থাকে, সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর রাঙামাটির স্বপ্নবাজ জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ। তিনি করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার প্রধান সেনাপতি নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশকে সমন্বয়ক করে নিজ কার্যালয়ের এই ১১ জন তরুণ কর্মচারীকে নিয়ে গঠন করেছেন ‘কুইক রেসপন্স টীম’। এদের সবার নিজস্ব ব্যক্তিগত মোটর সাইকেল আছে। যখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা অন্যকোন উপায়ে কোথাও থেকে কেউ ত্রাণ না পাওয়ার তথ্য আসছে,তখনই সেই তথ্য ক্রসচেক করে মোটর সাইকেল নিয়ে ওই ঠিকানায় হাজির হচ্ছে তারা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, মাত্র ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাচ্ছে ত্রাণ সহায়তা।

এই কুইক রেসপন্স টীম গঠিত হওয়ার প্রথম দুইদিনেই অন্তত শতাধিক মানুষকে তাৎক্ষনিক পৌঁছে দেয়া হয়েছে ত্রাণ সেবা।

কুইক রেসপন্স টীমের সমন্বয়ক এনডিসি উত্তম কুমার দাশ জানিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উদ্যোগে এই টীম গঠিত হয়েছে। আমরা নানাসূত্র থেকে পাওয়া তথ্যগুলো তাৎক্ষনিক ক্রসচেক করে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের ছেলেরা দুর্দান্ত কাজ করছে। আমরাও তাদের কাজে খুশি।’

যখন বিশ্বজুড়ে ‘জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দিন রাত লড়ছে বিপন্ন মানুষ। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের জীবন যখন ক্লান্ত অজানা প্রতিপক্ষের সাথে লড়াইয়ে, মানবিকতার রং যখন ফিঁকে হয়ে আসছে চারদিকে,তখন বাংলাদেশের ছোট্ট এক পার্বত্য শহরে,১১ জন সরকারি কর্মচারির দিনরাতের এইসব শ্রম হয়তো ততবেশি আলোচনায় আসবেনা। কিন্তু দিনান্তে তাদের ঘামেভেজা পরিশ্রমে পৌঁছানো একমুঠো চাল যদি কোন নিরন্নের ঘরে ‘এক টুকরো চাঁদের ফালি’ হয়ে হাসি ফোঁটায়,তাও বা কম কি ! জীবনতো এমনই..কখনো কখনো বড় বেশি মুগ্ধতা ছড়ায় চারদিকে,নীরবে..নি:স্বার্থে…

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button