রাঙামাটিলিড

‘এসো রক্তে জেতা বর্ণমালা সুন্দর করে লিখি’

রাঙামাটি শহরে টানা ১৮ বছরের আয়োজন

সুহৃদ সুপান্থ
‘এসো রক্তে জেতা বর্ণমালা সুন্দর করে লিখি’-এই শ্লোগানে পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে টানা আঠারো বছরে আয়োজিত হলো একুশের চিত্রাঙ্কন-বর্ণলিখন-আবৃত্তি প্রতিযোগিতা।

২০০৪ সালে প্রথম শুরু হওয়া এই আয়োজনটি শুরু করে গ্লোবাল ভিলেজ নামে একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,যা প্রতিবছর একুশের সকালে রাঙামাটি শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এবার আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ডিবেট ফেডারেশন,আবৃত্তি সংগঠন আফ্রোদিতি,শুভসংঘ এবং স্কুলবেলা নামক স্থানীয় শিশু কিশোরদের একটি পত্রিকা।

সকালে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মারকভাস্কর্য চত্বরে চিত্রাঙ্কন ও বর্ণলিখন প্রতিযোগিতা,এতে অংশ নেয় দুই শতাধিক শিশু কিশোর। প্রতিযোগিতা শেষে শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে আবৃত্তিকাররা অংশ নেন।

প্রতিযোগিতায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরষ্কার বিতরণ ও বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল হক খন্দকার,বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংগঠক নিরূপা দেওয়ান,রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও গণসঙ্গীতশিল্পী কালায়ন চাকমা,নাট্যজন ও সংস্কৃতিকর্মী মনি পাহাড়ী। বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ডিবেট ফেডারেশন এর সংগঠক তুষার ধর, আফ্রোদিতির সংগঠক সাইফুল হাসান,শুভসংঘের সভাপতি মং চিং মারমা। পুরো প্রতিযোগিতার সামগ্রিক আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় বরাবরের মতই ছিলেন রাঙামাটির দুই প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী রেজাউল করিম রেজা ও মোহাম্মদ ইব্রাহীম। 

প্রতিযোগিতায় পৃথক পৃথক ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ৮০ জন শিশু কিশোরের সাথে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ডিবেট ফেডারেশন এর সংগঠক তুষার ধর জানিয়েছেন, ‘ টানা ১৮ বছর ধরে আয়োজিত এই উদ্যোগটি রাঙামাটি শহরের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি,শিশু কিশোরদের সর্বোচ্চসংখ্যক পুরষ্কার দিয়ে তাদের সৃজনশীলতার বিকাশে সহায়তা করতে। এটি নিয়মিতভাবেই আয়োজনের ইচ্ছা আছে আমাদের।’

রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল হক খন্দকার বলেন- এই আয়োজনটিকে আমি বলব,ছোট শহরের বড় উদ্যোগ। এইদেশে যেকোন ভালো কাজ যখন দুয়েকবছর করার পর নানান বাধা বিপত্তিতে মুখ থুবড়ে পড়ে,তখন টানা ১৮ বছর ধরে এমন আয়োজন সাধুবাদযোগ্য। আমি আয়োজকদের অভিনন্দন জানাই এবং প্রত্যাশা করি আরো বহুবছর ধরে এই আয়োজনটি চলমান থাকবে।’

শিক্ষাবিদ নিরূপা দেওয়ান বলেন-‘এই কর্মসূচীর আয়োজকরা এই শহরের সন্তান। আমি তাদের সম্পর্কে জানি,তাদেরকে বেশ ভালো করেই চিনি। এখনো এই জনপদে আশা ভরসার প্রতীক এরাই। আমি সবসময় এদের পাশে ছিলাম এবং থাকব।’

গণসঙ্গীত শিল্পী কালায়ন চাকমা বলেন-‘শিশুদের জন্য এমন ধারাবাহিক উদ্যোগ আমাদের আশাবাদি করে তোলে। নিশ্চয়ই আঁধার ভেদ করে একদিন আলো আসবেই।’

পুরষ্কার বিতরণ শেষে বিজয়ীদের শহীদ মিনারের বেদীতে দেশাত্ববোধের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − two =

Back to top button