নীড় পাতা / করোনাভাইরাস আপডেট / এলে দাম কমে, গেলে দাম বাড়ে, কে দেখে?
parbatyachattagram

এলে দাম কমে, গেলে দাম বাড়ে, কে দেখে?

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় করোনা ভাইরাস (কোভিড-    ১৯) প্রতিরোধে, সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে কাজ করছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন। ফলে বেড়েছে সচেতনতা। ফলে ঘরের বাহিরে জনসমাগম কম দেখা যাচ্ছে।

নোবেল করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে পানছড়ি উপজেলাবাসীকে সচেতন করার লক্ষে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী যুবকেরা স্বদ্যোগে কাজ করে যাচ্ছে।  বুধবার প্রশাসনের আহবানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যবসায়ীগণ দোকানপাট বন্ধ রাখছেন। জনসাধারণ থাকছেন ঘরবন্দী। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে কেবল ঔষধ, কাঁচাবাজার, মাছ, মাংস, জ্বালানী তেল ও মুদি দোকান খোলা থাকছে। জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি, ট্রাক, এ্যাম্বুলেন্স, ঔষধ, খাদ্যপণ্য, সংবাদপত্রবাহী গাড়ী চলছে।

বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা সারার কাজেও ছিল চোখে পড়ার মতো সচেতনতা। এসময় জনসমাগম ছিলো একেবারে কম। সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে শহীদ মিনারের পাশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান চন্দ্র দেব চাকমা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুলাল হোসেন।  আনুষ্ঠানিকতা সারার পর উপজেলা প্রশাসন, পানছড়ি থানা পুলিশ ও সাব জোন সেনাবাহিনীর একটি দল উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে নিরন্তর প্রচারণা চালিয়েছে। প্রচারণায় জনসাধারণকে ঘরে থাকা, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, দোকানের সামনে সাবান, পানি ও মগ রাখাসহ জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে। কাউকে আইনভঙ্গ করতে দেখলে, থানা পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তারা।

এদিকে দিন যত গড়াচ্ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম ততো সহনশীলতার মাত্রা অতিক্রম করছে বলে অভিমত কয়েকজন ভোক্তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, কাঠ ব্যবসায়ী, এনজিও মহিলা কর্মী, দিনমজুর-শ্রমিক শরিফা, রফিক, জাফর, কালামসহ কয়েকজন জানান, চাল, ডাল, ডিম, পেয়াজ, আদা, হলুদ, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, আলু, ঔষধসহ প্রায় সবকিছুর বেশি দাম বাড়তে থাকলে, এভাবে টিকে থাকা দায় হয়ে যাবে। কে দেখে? বাজারে ইউএনও আসার খবর পেলে দাম কমে। চলে গেলে দাম বাড়ে। করোনায় উদ্ভুত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাজারকেন্দ্রিক অসাধু সিণ্ডিকেট চক্র, নিত্যপণ্যের দাম বাঁড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে তারা মনে করছেন। ভোগ্যপণের দাম সহনশীল রাখতে, জোর গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে  অনুরোধও জানান তারা।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা আতঙ্কে বাসায় মজুদের উদ্দেশ্যে জনসাধারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সদাই করছে। ফলে বাজারে পণ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আবার শহর থেকেই বেশি দামে মাল কিনতে হচ্ছে। অনেকসময় আমরা অগ্রিম টাকা দিয়েও মাল পাচ্ছি না। স্থানীয় পণ্যের সরবরাহও কম। এসবের কারণে সমস্যা হচ্ছে। তাই পণ্যের দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। শহরে দাম কমলে আর সরবরাহ ঠিক হলে এখানেও সব ঠিক হয়ে যাবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিপাকে পড়া মানুষের টিসিবি পণ্য সংগ্রহে ভিড়

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রভাবে বিপাকে পড়া মানুষের মাঝে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের …

Leave a Reply