নীড় পাতা / ব্রেকিং / এমএন লারমার স্মরণ সভায় যা বললেন গৌতম চাকমা
parbatyachattagram

এমএন লারমার স্মরণ সভায় যা বললেন গৌতম চাকমা

১০ নভেম্বর রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত স্মরণ সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য গৌতম কুমার চাকমা দাবি করেছেন, অক্টোবর মাসে রাঙামাটিতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে যে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো, তারা তা জানেন না। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির ৪র্থ সভায় ঢাকাতে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহের সঙ্গে আমাদের নেতা সন্তু লারমার সাথে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। সেখানে সন্তু লারমা বলেছিলেন, উক্ত সভায় তিনি আমন্ত্রণ পাননি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তাকে ফোন করেছিলেন। সচিবের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, সভায় কে কে উপস্থিত থাকবেন। তখন সচিব বলেছিলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও এ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

তখন সন্তু লারমা বলেছিলেন, তিনি বুঝেছিলেন এটা নির্দিষ্ট বক্তব্যের জন্য নির্দিষ্ট মানুষের একটা বৈঠক। সেখানে পার্বত্য চট্টাগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা বিষয় নিয়ে বিশেষ কিছু মূল্যায়ন করা বা কিভাবে কী পদক্ষেপ নিলে এখানকার পরিস্থিত একটা আয়ত্বে আনা যাবে, সে ব্যাপারে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই, তাই তিনি অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন। তবে পার্বত্য মন্ত্রী বলেছিলেন, এমন সভা চাইলে আবার করা যায়, তখন আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহও বলেছিলেন হ্যাঁ করা যায়।

গৌতম কুমার চাকমা আরও দাবি করেন, ওই অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, এখন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের দায়িত্ব আমার কিন্তু আমিতো জানলাম না এমন একটা সভা ওখানে হয়েছে। র‌্যাব প্রসঙ্গে গৌতম চাকমা বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে বলেছিলাম, এখানে যাতে র‌্যাব ক্যাম্প করা না হয়, তাহলে হয়তো নতুন কোনো সমস্যা হতে পারে। তখন তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন এটা হবে না। তবে এখন কী ভাবা হচ্ছে তা আমি জানি না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের এই সদস্য বলেন, আমাদের মহান নেতার নেতৃত্বই জনসংহতি সমিতি গঠিত হয়েছিল। আমরা তার আদর্শ নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু পাহাড়িদের জন্য নয়, এখানে বাঙালি ভাইরাও বাস করেন তাই সবাইকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়েই থাকতে হবে। আমাদের নেতা এমএন লারমা এমনটাই ভাবতেন। পৃথিবীর কোনো দেশ তার একটি অংশকে পেছনে ফেলে রেখে দেশ এগুতে পারে না। আমাদের বেলায়ও একই ভাবে প্রযোজ্য। আমরা পিছিয়ে পড়ে থাকলে বাংলাদেশতো এগিয়ে যেতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা চুক্তি করেছি, আমি আশাবাদী, সহসাই এ চুক্তি বাস্তবায়ন হবে। আমরা একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছি, আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। সরকার কোটা প্রথা বাতিল করলেও আমরা দাবি জানিয়েছিলম যাতে এ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য যাতে কোটা সংরক্ষণ করা হয়। এবং প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, পার্বত্য এলাকাটা তিনি দেখবেন, তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সন্তানরা কোটায় ভর্তি হতে পেরেছে। আমরা একদম কিছুই পাচ্ছিনা বা সরকার কিছুই দিচ্ছে না এটা সত্য নয়, এখানে চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক কিছু কাজ যেমন আছে তেমনি চুক্তি বাস্তবায়নেরও কিছু কাজ চলমান আছে। তাই আমি আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।

রবিবার রাঙামাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখছিলেন গৌতম চাকমা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো লেকার্স

মঙ্গলবার রাঙামাটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত বঙ্গবন্ধু স্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় লেকার্স পাবলিক স্কুল বর্তমান …

Leave a Reply