ব্রেকিংরাঙামাটি

এবার ফ্রেন্ডস ক্লাবের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ পরিবেশ অধিদপ্তরের

পরিদর্শন শেষে দেয়া প্রতিবেদনে

কাপ্তাই হ্রদ দখল করে ফ্রেন্ডস ক্লাবের ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার মামলার সুপারিশ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক। ফ্রেন্ডস ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আফজারুল ইসলাম এই সুপারিশ করেন। এর আগে কাপ্তাই হ্রদ দখল করে অবৈধ ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় রাঙামাটি সদর উপজেলা ভ‚মি অফিস। এরপর হ্রদ দখল করে এই ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে এর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসককে চিঠি লিখে জাতীয় নদী কমিশন। বর্তমানে ভবনটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ক্লাবটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব কাম কমিউনিটি সেন্টার’ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পাঁচ কোটি টাকার দরপত্র আহŸান করা হয়। ফ্রেন্ডস ক্লাবের মূল ভ‚মি অক্ষত রেখে হ্রদের ভেতর থেকে পুরো ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা ভ‚মি অফিস থেকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ও সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য সহকারী পরিচালক মো. আফজারুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ফ্রেন্ডস ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনের কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি উপ-পরিচালক বরাবরে একটি সুপারিশ প্রণয়ন করেন।

সুপারিশ পত্রে তিনি বলেন, ‘রাঙামাটি ফ্রেন্ডস ক্লাব লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি রাঙ্গামাটির একটি পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাব যা ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হ এবং সংগঠকদের চাঁদায় পরিচালিত হয় ও নানা রকম সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের পাশে কিছু জায়গা নেপাল চন্দ্র নামক ব্যক্তি হতে ক্রয় সূত্রে এবং কিছু জায়গা পার্বত্য জেলা পরিষদ হতে বন্দোবস্তি সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরিদর্শনকালে উপস্থিত জনাব মুজিবুর রহমান, ডাইরেক্টর, রাঙামাটি ফ্রেন্ডস ক্লাব লিমিটেড জানান নতুনভাবে নির্মিত ভবনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ হতে বন্দোবস্তিকৃত জায়গার উপর(যা সরেজমিন পরিদর্শনে কাপ্তাই লেকের উপর বলে মনে হয়েছে) করা হচ্ছে এবং ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২৪-২৫টি পিলার(প্রতিটি পিলারের গড় দূরত্ব ১০ ফুট) ৬০ ফুট করে পাইলিং করে লেকের পানির মধ্যে করা হয়েছে(স্থাপনার নকশা সংযুক্ত)।’

এই বিষয়টি উল্লেখ করে সহকারী পরিচালক তাঁর মতামত অংশে লিখেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শনে পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে লেকের মধ্যে স্থাপনাটি নির্মাণ হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। লেকের মধ্যে অনুমোদনবিহীনভাবে স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫(সংশোধিত ২০১০), পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা ও এনফোর্সমেন্ট মামলা রুজু করা যেতে পারে।’

এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার উপ পরিচালক জমিরউদ্দিন বলেন, ‘সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে রিপোর্ট তৈরি করে তা আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক মোজাম্মেল হোসাইন বলেন, রিপোর্ট আমরা পেয়েছি,রিপোর্টে দেয়া সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে হ্রদ দখল করে ফ্রেন্ডস ক্লাবের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় নদী কমিশন। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠানো এক চিঠিতে সংস্থাটির পক্ষে সহকারী পরিচালক (গবেষণা ও পরিকল্পনা) মো. আশরাফুল হক এর পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে- ‘জরুরিভিত্তিতে রাঙ্গামাটির ফ্রেন্ডস ক্লাব ভবন নির্মাণ বন্ধকরণ এবং অবৈধদখল উচ্ছেদসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী অপরাধযোগ্য মামলা রুজুসহ আইনী ব্যবস্থাগ্রহণপূর্বক প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে কমিশনে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

এর আগে রাঙামাটি সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পৃথক এক চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে ফ্রেন্ডস ক্লাবের এই অবৈধ ভবন অপসারণ করে নেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিলেন ক্লাব কর্তৃপক্ষকে। রাঙামাটির এসিল্যান্ড ফাতিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত ওই – নোটিশে বলা হয়, ‘নোটিশ প্রাপ্তি ১৫ দিনের মধ্যে নির্মাণ কাজ বন্ধসহ অবৈধভাবে নির্মিত পাকা ইমারত/অবকাঠামো সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা জানিয়েছিলেন, এসিল্যান্ড থেকে চিঠি পাওয়ার পর আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button