নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / পাহাড়ে নির্বাচনের হাওয়া / এবার তিন দেওয়ানে ‘ভর’ রাঙামাটি বিএনপির !

এবার তিন দেওয়ানে ‘ভর’ রাঙামাটি বিএনপির !

গত কয়েকবছর ধরে মাঠে থাকা দুই দেওয়ান নাকি একসময় অভিমান করে সড়ে যাওয়া পুরনো দেওয়ান’কে রাঙামাটিতে মনোনয়ন দিবে বিএনপি,এনিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। একদিকে আছেন সরকারি চাকুরি ছেড়ে ২০০৬ সালে বিএনপিতে আসা সাবেক যুগ্ম জেলা জজ ও পরে আইনজীবি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা দীপেন দেওয়ান এবং ২০১০ সালে দলে আসা সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলকারি বীর মুক্তিযোদ্ধা লে.কর্ণেল (অব.) মনীষ দেওয়ান আর অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ফের আলোচনায় আসা ২০০১ সালে নির্বাচনের মাত্র কদিন আগেই বিএনপিতে যোগ দেয়া সাবেক জাসদ নেতা,সাবেক পৌরসভা ও উপজেলা চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই পার্বত্য উপমন্ত্রী হওয়া এবং পরে বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে যোগ দেয়া মনিস্বপন দেওয়ান। যিনি গত সপ্তাহের বিএনপির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করিয়ে আবারো দলীয় মনোনয়ন নিয়ে জন্ম দিয়েছেন আলোচনার। ফলে তিন দেওয়ানের মধ্যে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন এনিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়,আলোচনা ও বিতর্ক।

তবে যাকেই দল মনোনয়ন দিক না কেন সকলেই একসাথে মাঠে থাকবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। ব্যক্তি নয়,দলীয় স্বার্থ এবং নির্বাচিত হয়ে আসনটি ছিনিয়ে নেয়াই বিএনপির প্রধান টার্গেট,এমনটাই ভাবছেন দলটির তৃণমূল।

১৯৯১ সালে নির্বাচনের পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যে কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে ৯১ সালে নাজিম উদ্দীন আহমেদ, ৯৬ সালে পারিজাত কুসুম চাকমা, ২০০১ সালে মনিস্বপন দেওয়ান, ২০০৮ সালে মৈত্রী চাকমা নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বিএনপির নির্বাচনী ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, নির্বাচন আসলেই দলটি একেক সময় একেক নেতাকে নিয়ে হাজির হয়। তার মধ্যে ২০০১ সালে মনিস্বপন দেওয়ান এসে চমক দিতে সক্ষম হয়। তিনি পরাজিত করেন আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী দীপংকর তালুকদারকে।

এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণার পর রাঙামাটির বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসব ভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে দলটির মধ্যে দুইটি গ্রুপ সক্রিয় থাকার কারণে কোন অংশটির নেতা মনোনয়ন পাবেন, সেটা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতুহল আছে। এরই মধ্যে ২০০১ সালে হঠাৎ’ই বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ নির্বাচিত হওয়া ও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা মনিস্বপন দেওয়ান দীর্ঘ এক যুগের রাজনৈতিক অবসর শেষে আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। ২০০৬ সালে চার দলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে এসে বিএনপি থেকে তিনি অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে যোগদান করেন। সেই সময় বিএনপি থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এলডিপিতে থাকাকালীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ২০০৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন জমা দেন। সেই সময় মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে তাঁর নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়। পরে নানান বাস্তবতায় আওয়ামীলীগ নির্বাচন বয়কট করলে এক-এগারো সরকার ক্ষমতায় আসে। পরে এলডিপি থেকেও মনিস্বপন দেওয়ান রাজনৈতিক অবসরে যান। পাঁচ বছর মন্ত্রীত্ব থাকলেও বিএনপির দুঃসময়ে এক দশক তিনি রাজনৈতিক অবসর কাটিয়েছেন। দীর্ঘ এক দশকের অবসর শেষে তিনি স্থানীয় বিএনপির বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে আবারো মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ইতোমধ্যে সেই বিএনপির’ই মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেছেন। আর স্থানীয় বিএনপির বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে ও আঞ্চলিক একটি প্রভাবশালী দলের সমর্থন মিললেই মনিস্বপন দেওয়ান পুনরায় মনোনয়ন পাবেন এটা অনেকটা নিশ্চিত বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সেক্ষেত্রে কপাল পুড়তে পারে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এডভোকেট দীপেন দেওয়ানসহ মনোনয়নপ্রত্যাশী মনীষ দেওয়ান বা শাহ আলমের মতো পোড় খাওয়া নেতাদের, যারা গত ১২ বছর বিএনপির দুঃসময়ে মাঠে কাটিয়েছেন।

এদিকে বিএনপি থেকে আবারো মনিস্বপন দেওয়ান মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় রাজনীতির মাঠে নানান আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর আগমনে পুনরায় বিএনপি উজ্জীবিত হবে এমন ধারণা করছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী। তাদের ধারণা, রাঙামাটি আসনটি একমাত্র মনিস্বপন দেওয়ানই জিততে পারে। তাই দলের এমন সঙ্কটকালে যিনি দলকে আসন উপহার দিতে পারবেন তাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন। তবে আবারো হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতাকে না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যারা রাজপথে পড়ে আছেন, তাদেরকেই মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান অনেক নেতাকর্মীই। তারা বলেন, যারা গত ১০ বছর সরকারি বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। এতে দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত হয়।

জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম শাকিল বলেন, তৃণমুল থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসা এমন কাউকে মনোনয়ন দিলে ভালো। তবে যেহেতু বিএনপি বর্তমান বিভিন্ন সঙ্কটকাল পার করছে আর পার্বত্য রাজনীতির প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন তাই কেন্দ্র সব কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তাঁর পক্ষে কাজ করবো। এক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ থাকবে না।

সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মনিস্বপন দেওয়ান বলেন, এক যুগ আহে যে বৈরি বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে আমি বিএনপি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম বর্তমানের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে এখনো বিএনপিকে দেওয়ার মতো আমার অনেক কিছু আছে। সেসময় আমি বিএনপি ছেড়ে গেলেও বিএনপির ক্ষতি হয় এমন কোনও কাজ আমি কখনই করিনি। বর্তমানে আমি বিএনপিতে ফিরে আসার পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমার সাথে যেভাবে যোগাযোগ রাখছেন এতে প্রমাণ হয়, তারা উজ্জীবিত ও দলে আমার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো: শাহ আলম জানিয়েছেন, আমি মনোনয়ন নিয়েছি এবং জমাও দিয়েছি। আরো অনেকেই দিয়েছেন। দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই মনোননয় দিবে। আমার বিশ্বাস আমাদের ত্যাগ,শ্রম এবং অবদানকে মূল্যায়ন করবে দল। এসব বিবেচনায় নিয়ে দল যাকেই মনোনয়ন দিবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।

এই বিষয়ে লে.কর্ণেল (অব) মনীষ দেওয়ান বলেছেন, আমি রনাঙ্গনের বিজয়ী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা,আমার বিশ্বাস স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার দল বিএনপি নেতা আমাকে মূল্যায়ন করবে এবং আমি নিজেও শতভাগ আশাবাদি। রাঙামাটি বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরাও আমাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়,তারা আমাকে ভালোবাসে।’

তবে এখনই কোন কিছু বলতে চান না বলে জানিয়েছেন আরেক প্রার্থী এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

আরো দেখুন

বাঘাইছড়িতে সংঘাতে আহত ১৭

রাঙামাটির দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × 5 =