রাঙামাটিলিড

এবার চাচা-ভাতিজা’র বাকযুদ্ধ,সম্পর্কচ্ছেদ !

রহিম-রকিব বৈরিতা

সুহৃদ সুপান্থ
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়,বেঁচে থাকলে বদলায়,কারণে অকারণে বদলায়’-জীবনের মতো এই আপ্তবাক্য যেনো রাজনীতিতেও বিপুল সত্যই বটে ! নইলে যে ভাতিজার জন্য মাঠে নেমে দল থেকেই পদ হারালেন চাচা,মাস ফুরোনোর আগেই সেই ভাতিজাকেই কেনো ‘তাজ্য’ ঘোষণা করতে হবে হেভিওয়েট চাচাকে ! ‘যুদ্ধ প্রেম আর রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই’ এই কথাটিই যেনো আরো একবার সত্যি হলো লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি,একাধিকবারের ইউপি চেয়ারম্যান,বর্তমান রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রহিম এবং তার ভাতিজা রকিব হোসেন’র বেলায়।

৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া লংগদু উপজেলার গুলশাখালি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন রহিমের ভাতিজা রকিব,যিনি নিজেও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক। ভাতিজা প্রার্থী হওয়ায় জেলা আওয়ামীলীগ অব্যাহতি দেয় রহিমকে। নড়েচড়ে বসেন বিপাকে পড়া রহিম এবং রকিব। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন রকিব আর নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনায় নামেন রহিমও। সেখানে ভোটে জিতেছেও নৌকার প্রার্থী শফিক। কিন্তু ‘অজ্ঞাত’ কারণে বিপুল সংখ্যক ভোটও পান নির্বাচন থেকে সড়ে যাওয়া রকিব। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরও নিজের রাগ দমিয়ে রাখতে পারেননি রকিব। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক জেলা আওয়ামীলীগ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতাকে নিয়ে নানা মন্তব্য করেন। যার কারণে বিপাকে পড়েন দল থেকে অব্যাহতি পেয়ে বিপাকে থাকা চাচা রহিমও। এমন অবস্থায় ২৫ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে আব্দুর রহিম তার ভাতিজা রকিব ও তারভাই আলমগীরের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। তিনি লিখেন-‘আমি মোঃ আব্দুর রহিম, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কে এবং জননেতা দীপংকর তালুকদার কে ভালবেসে দল করে আসতেছি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, লংগদু উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক হিসেবে ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, লংগদু উপজেলা শাখার সহ সভাপতি,জেলা পরিষদের সদস্য এবং ৩ বার নির্বাচিত গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। আমি নিষ্ঠার সাথে এ যাবৎ সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করেছি। প্রতিটা সংসদ নির্বাচনে আমার প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য সর্বোচ্চ কাজ করেছি। ইদানীং গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার ভাতিজা মোঃ রকিব হোসেন, নৌকার প্রতিক না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলে, আমি এবং আমার পরিবার সকলে তাকে নির্বাচন করতে নিষেধ করেছি। আমার কথা উপেক্ষা করে নির্বাচন শুরু করে তখন আমি তাকে বুঝিয়ে শেষ মুহুর্তে নির্বাচনে প্রার্থীতা থেকে সরে সাংবাদিক সম্মেলন করার পর আমি এবং আমার পরিবার সকলে মিলে নৌকার নির্বাচন করে বিজয়ী করি। নির্বাচন পরবর্তী কিছু অসৎ ব্যাক্তি নিজ স্বার্থে আমার চরিত্র হনন করিয়া মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে যাহা অত্যান্ত নিন্দনীয়। তাছাড়া উল্লেখ করি যে নির্বাচনের পর আমার ভাতিজা মোঃ রকিব হোসেন এবং মোঃ আলমগীর হোসেন, আমার দল, আমার নেতা এবং আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে যাহা আমার বোধগম্য হওয়ায় অদ্য ২৫/০২/২০২২ ইং তারিখ হইতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাহাদের আমি ত্যাজ্য ঘোষণা করিলাম। তাহারা আমার কেউ না, তাহাদের কোন প্রকার দায় দায়িত্ব আমার রহিল না। যদি কেহ আমার ভাতিজা হিসেবে পরিচয় দেয় বা কোন অপরাধ করে, সে অপরাধে আমাকে দায়ী করিতে পারিবে না। আমি আমার দলকে ও দলের নেতৃবৃন্দ কে সম্মান করি এবং ভালবাসি।

রহিমের এই ঘোষণা প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলেন তিনি পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে বলেন- যে ভাতিজার জন্য আমার দল আমাকে ভুল বুঝেছে এবং আমার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়েছে,সেই এখন আমার দল ও নেতাদের বিরুদ্ধে নানান আজেবাজে কথা লিখছে,যার কারণে আমি ও আমার দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। ভাতিজার চেয়েও আমার কাছে আমার দল ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি তাদের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষনা দিয়েছি। রকিব,আলমগীর এর কোন অপরাধ,কাজ বা ভালোমন্দের দায় আমি বহন করতে পারিনা। নির্বাচনের আগেও সে আমার কথা শোনেনি,আমার অনুরোধ রাখেনি,এরপরও রাখছেনা। তাই আমি তাকে তাজ্য করেছি।’

এমন ছবি হয়ত স্থায়ী স্মৃতিই হতে চলেছে……

বিপরীতে এই বিষয়ে রকিব হোসেন পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে বলেন-‘ আমিতো রহিম চেয়ারম্যানের খাইওনা,পড়িওনা। সে আমাকে তাজ্য করার কে ? বরং তার কারণে আমার সাথে বারবার অন্যায় করেছে আওয়ামীলীগ ও তাদের নেতারা। সে আমার চাচা হওয়ার কারণে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে বারবার।’

রকিব বলেন-‘ আমি আওয়ামীলীগ করিনা,আমাকে যে পদে রাখা হয়েছে সেটাও আমাকে না জানিয়েই রাখা হয়েছে। আমি গুলশাখালির মানুষকে ভালোবাসি,তারাও আমাকে ভালোবাসে। আমি আওয়ামীলীগের সুবিধাভোগিও না। বরং আওয়ামীলীগ ও রহিম চেয়ারম্যানের সাথে আমার সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ায় আমার জন্যই ভালো হয়েছে। এখন আমি নিজের মত করে কাজ করতে পারব।’

তবে চাচা রহিম কিংবা ভাতিজা রকিব,যাই বলেন না কেনো, তাদের বক্তব্য বা অবস্থান নিয়ে ঠিকই সংশয় আছে উপজেলার নেতাকর্মীদের।  প্রকাশ্যে চাচা-ভাতিজা পরস্পরকে দুষছেন,তবুও কারো কারো সন্দেহ,পুরো ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোন গল্প আছে ! যদিও চাচা এবং ভাতিজা দুজনই বলছেন-সম্পর্কের বাঁক বদলে গেছে, এটা সহজে আর ঠিক হবার নয় !

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 1 =

Back to top button