নীড় পাতা / ব্রেকিং / ‘এবার আর ভোট ডাকাতির সুযোগ দেয়া হবেনা’

আঞ্চলিক দলগুলোকে সতর্ক করলেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা

‘এবার আর ভোট ডাকাতির সুযোগ দেয়া হবেনা’

‘সর্বশেষ নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে যারা দীপংকর তালুকদারকে পরাজিত করেছেন, এবারও নৌকাকে পরাজিত করবেন এটা যদি চিন্তা করেন তাহলে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাঙামাটি জেলার প্রাক্তনদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি শহরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়,এতে অংশ নেয় ঐতিহ্যবাহি এই ছাত্র সংগঠনটির প্রাক্তন হাজারখানেক নেতাকর্মী।

এনামুল হক শামীম এসময় আরো বলেন, যারা গত নির্বাচনে যারা ভোট কারচুপি ডাকাতি আমাদের প্রার্থী জননেতা দীপংকর তালুকদারকে পরাজিত করেছেন, তাদের বলছি, এবারও যদি একই চিন্তা করে থাকেন তবে ভুল করবেন। এবার আর ভোট ডাকাতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

এ কে এম এনামুল হক শামীম আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। এখন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন। তাঁর ছেলে হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন। জনগণ এখন আর তাদের সাথে নেই। বেগম জিয়া আন্দোলনের অনেক হুমকি দিয়েছেন। যারা আন্দোলনে সফল হয়না তারা নির্বাচনেও সফল হবেন না।

জাতীয় ঐক্যজোট প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগের এই নেতা বলেন, ‘অতীতে এমন জোট অনেক হয়েছে; ভবিষ্যতেও হবে। তবে ড. কামাল হোসেনকে বললো, আপনার এলাকায় গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার পদে নির্বাচন করেন। সেখানেও আপনি জয়ী হতে পারবেন না। জাতীয় নির্বাচন তো দূরের কথা।’

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘হুমকি দিয়ে লাভ নেই। বহু কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ঈদের পরে, চাঁদের পরে অমাবশ্যা-পূর্ণিমার পরে, কিন্তু দশ বছরে দশটি মিছিলও করতে পারেননি। তাদের আবার আন্দোলন। মনে রাখবেন, যারা আন্দোলনে পরাজিত হয়েছে, তারা ভোটেও তারা কোনও দিন জয়ী হতে পারবে না। আর ড. কামাল হোসেনরা তাদের সাথেই ঐক্য করেছেন।’

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক অংসুই ছাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর হায়দার চৌধুরী রোটন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাবেক সহ-সভাপতি শাহাজাদা মহিউদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সকালে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাক্তন সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

উদ্বোধকের বক্তব্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাক্তন সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘ এক সময় জামাত- শিবিররা ভাবতো যারাই মুসলমান তাদেরই জামাত-শিবির করতে হবে। সেইভাবে এখানকার কিছু আঞ্চলিক সংগঠন চিন্তা করেন পাহাড়ি যারা আছেন তাদেরও তাদের দলের সদস্য হতে হবে। জাতীয় রাজনীতি করতে বাধা দেয় তারা।

তিনি আরো বলেন, গত নির্বাচনে ৫৩ টি কেন্দ্রে অস্ত্র দিয়ে ভোট ডাকাতি করে একটি আঞ্চলিক দল নির্বাচিত হয়েও রাঙামাটির যে উন্নয়ন তা থমকে গেছে। এখন সাধারন মানুষ তা হারে হারে টের পাচ্ছে। প্রত্যেকেই আগামী নির্বাচের জন্য বসে আছে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের অংশিদার হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর হায়দার চৌধুরী রোটন বলেন, ‘অস্ত্র দিয়ে যারা পার্বত্য গনমানুষের নেতা দীপংকর তালুকদারকে হারিয়েছে। এবার নির্বাচনে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে গনমানুষের নেতাকে জয়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপহার দিবেন আশা করি। যারা অস্ত্র দিয়ে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন তাদের বলতে চাই, আপনি এখানে কিছু করলে সারাদেশে আপনাদের মানুষজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,তাদের কথাও মাথায় রাখবেন। এখানে হামলা হলে সারাদেশে হামলা হবে।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাবেক সহ-সভাপতি শাহাজাদা মহিউদ্দিন বলেন, ‘৯৬ এর আগে তিনটা বাজলে গ্রামে থাকা যেতনা। তিনটার পর অস্ত্রধারীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতো না। আমাদের নেত্রী পার্বত্য এলাকার শান্তির জন্য শান্তিচুক্তি করেছেন। সেই শান্তি বিনষ্টকারীদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না। ৯৬ সনের পর অনেকের জাতীয় পতাকা গেলেও একজনের পতাকা সব সময় ছিল। এটি প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার উপহার। সেটি ভুলে গেলে বড় ভুল করবেন।’

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, ‘জোটের নামে পার্বত্য রাঙামাটিতে অন্য কোন প্রার্থী দেওয়া হলে আমরা তা মেনে নিব না। এর জন্য যদি পদও চলে যায় তাও অন্য কোন প্রার্থীকে মেনে নিব না। পার্বত্য এলাকায় আওয়ামীলীগকে ধংস করতে একটি গোষ্ঠি সব সময় কাজ করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মহিলা আওয়ামীলীগের রাঙামাটি জেলার সভানেত্রী এই সংসদ সদস্য।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর বলেন, ‘জননেতা দীপংকর তালুকদারকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী করতে যদি আমার জীবন দিতে হয় তাও আমি প্রস্তুত আছি। তারপরও এই আসনটি নৌকা মার্কা তথা দীপংকর তালুকদারকে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে উপহার দিতে চাই। তিনি আরো বলেন, গত নির্বাচনে আমাদেরও কিছু ভুল ছিল, সেটি ভুলে গেলে চলবে না। আমরা কি সবাই ভোট কেন্দ্রে এসেছিলাম? আগামী নির্বাচনে সবাইকে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার আহবান জানান তিনি।

এর আগে সকালে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাঙামাটি শহরের ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে স্মৃতিচারণা আর আড্ডায় মেতে উঠেন সাবেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এইসময় পুরো চত্বর মুখর হয়ে উঠে।

আরো দেখুন

ক্যাম্পাসবার্তার সম্মাননা প্রদান বিধান চন্দ্র বড়ুয়াকে

রাঙামাটি সরকারি কলেজের বিদায়ি উপাধ্যক্ষ প্রফেসর বিধান চন্দ্র বড়ুয়া সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণে বিদায়ী …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × four =