করোনাভাইরাস আপডেটখোলা জানালাব্রেকিংরাঙামাটিলিড

এবার আমরা মানুষ হই

বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি দিয়েই শুরু করি ‘সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি’। বর্তমান বাস্তবতায় নিজেকে বাঙালি বা বাংলাদেশি বলে গর্ব করার চাইতে লজ্জাটাই বেশি মনে হচ্ছে। পৃথিবী যখন নভেল করোনা ভাইরাসের মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে দিশেহারা তখন বাংলাদেশের মানুষের মাঝে এটা নিয়ে উৎকণ্ঠা বা উদ্বেগ নেই। দিন দিন আমাদের দেশেও আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

তবে আমাদের জনসাধারনের ভাব দেখে মনে হচ্ছে আমার তো কিছু হয়নি অথবা আমার পরিবার ভালো আছে চিন্তা কসের। অনেকটা এ টাইপের। সরকার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে দিনরাত চেষ্টা করছে এ মহামারির হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে। কিন্তু আমরা মানুষ হিসেবে এতটুকু বিবেচনাবোধ থেকে সতর্ক হচ্ছি না। আমরা দলবদ্ধ হয়ে ঘুরে বেড়াই, বাজার করি, আড্ডা দেই। আক্রান্তদেও কেউ কেউ আবার হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে। এত করে সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়ছে। আমরা আমাদের পরিবারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছি। সব জেনেও আমরা মানছি না। পুলিশ আসলে লুকিয়ে থাকি আবার তারা চলে গেলে সব ভুলে যাই। তাহলে কি নিজেদের মানুষ না বলে বাঙালি বলা দোষের কিছু হবে।

এবার আসি উচ্চ শিক্ষিত, জ্ঞানী ও মেধাবী হয়েও যে আমরা প্রকৃত মানুষ হতে পারিনি এ প্রসঙ্গে। হয়তো বলতে পারেন তুমি মিয়া দুই কলম লিখেই একদম জ্ঞানী মানুষ হয়ে গেছো। না মশাই, আমার হয়তো পর্যাপ্ত মানবিক গুণাবলি নাই বা এখনো পুরোপুরি হয়ে উঠিনি। তবে খুব কষ্টের সাথে উপলব্ধি করছি যে, এমন দুঃসময়ে আমাদের চিকিৎসকরা তাদের পরম ব্রত মানবিক সেবা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে। চিকিৎসার অভাবে নারায়ণগঞ্জের এক মা মারা গেলেন। তার ছেলে একটার পর একটা হাসপাতালে দৌড়ে মাকে বাঁচাতে পারলেন না। অথবা বলতে পারি চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণ শিক্ষার্থী সুমন চাকমা মারা গেলেন বিনা চিকিৎসায়। তাঁর শ্বাস কষ্ট ছিলো বলে করোনা সন্দেহে চিকিৎসকরা তাঁকে ভর্তি করেনি। কি নির্মম ব্যবস্থার মধ্যে আমরা বেঁচে আছি। একজন মানুষ শুধুমাত্র চিকিৎসকদের অবহেলায় বা বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। পৃথিবীর কোথাও এমনটি আছে বলে মনে হয় না। তাহলে এবার তো সেই একই কথা বলতে হয় আমরা কি মানুষ হতে পেরেছি….?

করোনার প্রভাবে যখন মানুষের কাজ বন্ধ, সরকারি অফিস আদালত বন্ধ ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ, তখন কিন্তু সবচেয়ে কষ্টে আছে নিন্ম আয়ের দরিদ্র নাগরিকেরা। তাদের হাতে কাজ নাই, পকেটে টাকা নাই , খাবারের ব্যবস্থা নাই। এমন অবস্থায় সরকার যতসামান্য চেষ্টা করছে দরিদ্র মানুষের খাবারটা নিশ্চিত করতে। অন্তত এমন কর্মহীন ঘরবন্ধি সময়ে চারটা ডাল-ভাত খেয়ে আমরা বেঁচে থাকতে পারি। অথচ গরিব ক্ষুধার্থ মানুষের জন্য বরাদ্ধের সরকারি ত্রানের চাল চুরি হয়ে যাচ্ছে।

কারা চুরি করছেন? আমরা যাদেরকে ভোট দিয়ে মেম্বার চেয়ারম্যান বানিয়েছি। সমাজের এলিট শ্রেণির লোক চেয়ারম্যান সাহেব ,মেম্বার সাহেব, কমিশনার সাহেব। এই অমানুষ সাহেবরাই চুরি করছেন গরীবের চাল ডাল। গত কয়েকদিন ধরে করোনার বিস্তারের সাথে সাথে চোরদের উৎপাতও সমানে বেড়ে চলছে। এর মধ্যে আবার হাটহাজারী এলাকার এক চেয়ারম্যান সাহেব ত্রাণ বিতরণের ছবি তোলার পর ত্রাণ কেড়ে নিয়েছেন। আমাদের যদি নুন্যতম মানবিক বোধ থাকে তাহলে তো এমনটা হওয়ার কথা না। এমন পরিস্থিতিতে আমাদেরতো প্রয়োজন অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাড়ানো। তা না করে কিভাবে পারি গরীবের চাল ডাল চুরি করতে।

এরপরও কি নিজেকে মানুষ বলার যায়গা আছে…? এখন তো নিজেকে বাঙালি বা বাংলাদেশী বলতেও সংকোচ হয়। এখনও সময় আছে । আসুন আমরা একটু মানবিক হই। অসুস্থকে সেবা দেই। দরিদ্রদেও খাবারের ব্যবস্থা করি এবং অবশ্যই ঘরে থাকি , নিরাপদে থাকি।

লেখক : সংবাদকর্মী

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button