এখনো রহস্যেই জেএসএস !

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা হয়েছে। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে দেশের সব দল নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করলেও এখনও চুপচাপ রয়েছে পাহাড়ের সবচে বড় আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। নির্বাচন নিয়ে তাদের ভাবনা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করায় পাহাড়ের নির্বাচনী আমেজ এখনো তেমনটা শুরু হয়নি। নির্বাচন নিয়ে এখনো দলটি রহস্যের মধ্যে থাকায় অন্যান্য দলগুলোও এখনো তাদের কৌশল নির্ধারণ করতে পারছে না। দলটি কি নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিবে নাকি কাউকে সমর্থন দিবে এই বিষয়টি নিয়ে এখন জেলার রাজনীতির মাঠ সরগরম রয়েছে।

দশম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রাঙামাটি আসনে জয়লাভ করে জনসংহতি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার। তিনি প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ও তৎকালীন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারকে পরাজিত করে। সারা দেশে আওয়ামীলীগের জয়জয়কারের মধ্যেও পাহাড়ের একটি আসনে প্রভাবশালী আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে হারিয়ে আঞ্চলিক একটি দলের প্রার্থীর জয়ে সারা দেশে তখন আলোচনার জন্ম দেয়। সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই রাঙামাটির বিভিন্ন নির্বাচনে জনসংহতি সমিতির জয়ের ঝান্ডা উড়তে থাকে। জাতীয় নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনেও দলটি বেশিরভাগ প্রার্থী জয়লাভ করে। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে জনসংহতি সমিতি। যেন জনসংহতি সমিতির মনোনয়ন পাওয়া মানেই জয়লাভ সুনিশ্চিত। তবে পৌরসভা নির্বাচনে দলটি ব্যর্থ হয়। জনসংহতি সমিতি এই আধিপত্যের কারণে এখানকার রাজনীতির প্রেক্ষাপটও সমতলের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। জাতীয় দলগুলো কৌশল সাজায় দলটির সিদ্ধান্ত কি নিচ্ছে তার ওপর।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে দীপংকর তালুকদার ইতোমধ্যে এককভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি বিএনপির একাধিক নেতা ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু জনসংহতি সমিতি এখনো প্রকাশ্যেও কোনও নড়াচড়া করছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জনসংহতি সমিতি রাঙামাটি আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে তাদের দলের কাউকে মনোনয়নের ব্যাপারে তদবির চালিয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাথে সুসম্পর্কের কারণে এই আসনটি থেকে তারা মনোনয়নের ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সাংসদ ঊষাতন তালুকদারও সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘কোনও কিছুকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এজন্য দুইদলকে এগিয়ে আসতে হবে। একটি দল এগিয়ে গেলো, আরেকটি দল আসলো না, এমনটা হলে হবে না। আমরাও অসাম্প্রাদয়িক, গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি। তাই তো এক সাথে দুই দল কাজ করলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে।’

তবে ইতোমধ্যে রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়েছে মনিস্বপন দেওয়ানকে কেন্দ্র করে। তিনি ইতোমধ্যে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ফরম সংগ্রহ করেছেন। ২০০১ সালে রাঙামাটি আসনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন পায় মনিস্বপন দেওয়ান। তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত না থাকলেও আসনটি নিশ্চিত করার জন্য তাঁকে মনোনয়ন দেয়। তিনি সেবার জনসংহতি সমিতির ‘অন্তরালের সমর্থনে’ সংসদ নির্বাচিত হন। পরে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীও নির্বাচিত হন। তবে জনসংহতি সমিতি প্রকাশ্যে ঐ নির্বাচন বয়কট করার ঘোষণা দেয়। ঐ সরকারে শেষ দিকে এসে মনিস্বপন দেওয়ান দলত্যাগ করে অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে অবশ্যই সেই দল থেকেও তিনি অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে স্থানীয় বিএনপির দলীয় বিরোধকে কাজে লাগিয়ে আবারো মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করছেন। মনিস্বপন দেওয়ানের দৌঁড়ঝাঁপের পেছনে অনেকেই জনসংহতি সমিতির সমর্থনের বিষয়টিও চিন্তা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মনিস্বপন দেওয়ান তখনই প্রার্থী হবেন, যখন তিনি নিশ্চিত হবেন যে জনসংহতি সমিতি তাঁকে সমর্থন দিবে।

তাই জনসংহতি সমিতি কি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছে, কিংবা মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন নাকি অন্য দলের কোন প্রার্থীকে অন্তরালে সমর্থন দেবেন এই বিষয়টি এখনও চুড়ান্ত নয়। তবে এই তিনটির যেকোনও একটি অপশনে তারা যেতেন পারেন বলে ধারণা করছেন এখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে এই বিষয় নিয়ে বারবার জনসংহতি সমিতির নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনও কথা বলতে চাচ্ছেন না। তফসিল ঘোষণার কিছুিদন আগে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বর্তমান সাংসদ ঊষাতন তালুকদার। তিনি তখন বলেন, ‘জনসংহতি সমিতি গণতান্ত্রিক দল। তাই তো দলটিও এবারও নির্বাচনে অংশ নিবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নজরদারি করছি। সময় এলে সবই খোলাশা করা হবে।’

আরো দেখুন

‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’

রাঙামাটির ২৯৯নং আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী দীপংকর তালুকদার প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণা নেমে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × two =