পার্বত্য পুরাণব্রেকিংরাঙামাটিলিড

এক মুগ্ধ মায়াবতী সন্ধ্যায় সাহিত্য আরাধনা

তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা প্রায়। শহরের ঠিক প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মফস্বলের ছোট্ট শহুরে জীবনের সারাদিনমানের খবর বেঁচার প্রতিষ্ঠান দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম অফিসে ধীরলয়ে বাড়ছে চেনা মুখের উপস্থিতি,যাদের কেউ কবিতা লিখেন,কেউবা গল্প-উপন্যাস কিংবা গবেষনা গ্রন্থ,আবার কেউ কেউ আবৃত্তি বা সঙ্গীত শিল্পি,আবার কেউ কেউ নিছক সমাজকর্মী। ছিলেন সংবাদকর্মীরাও। এমন জনা বিশেষ মানুষের উপস্থিতি দ্যোতনা ততক্ষণে মুগ্ধতা ছড়াতে শুরু করেছে ছোট্ট অফিস ঘরটিতে।

শনিবারের সন্ধ্যাটা তাই আর দশটা দিনের সন্ধ্যাতেই ঠেকে থাকলো নাহ্ ! এই পার্বত্য শহরেরই এক সাবেক নাগরিক কিংবা গল্প-উপন্যাস-গবেষনা ও চলচিত্রের কাহিনী নির্মাণে সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচিত হওয়া আজাদ বুলবুল,যিনি একাডেমিক আলোচনায় ড. গাজী গোলাম মাওলা নামেই সমধিক পরিচিত,তার সম্মানার্থে আয়োজন করা ‘ আজাদ বুলবুল’র সাথে এক মুগ্ধ সন্ধ্যা’টি শেষাবধি ঠিকই মুগ্ধতা ছড়িয়েছে প্রাণিত আয়োজন,উপস্থিতি আর খোশ আলাপে। কি ছিলো না সেই আলোচনায় ? আজাদ বুলবুলকে নিয়ে বলেছেন সবাই,ভালো দিক-মন্দ দিক,তিনিও সহাস্যে কিংবা মৌনতা সম্মতি দিয়েছেন সেই আলাপে,তখনো তখনো নিজেই শব্দের ভান্ডার থেকে উপচে দিয়েছে প্রচলিত সমাজের চোখে প্রায় নিষিদ্ধ শব্দ আর বাক্যবাণ। সবমিলিয়ে বেশ মজার,ভালোবাসর আর উঞ্চতার একটা সন্ধ্যাই কাটালো যেনো এই শহরের কিছু মুগ্ধ নাগরিক।

যারা ছিলেন সেই আড্ডায় : শহরের সবচে পুরণো দুই সংবাদকর্মীর একজন-সুনীল কান্তি দে,শক্তিমান সাহিত্যিক, কবি ও উন্নয়নকর্মী জান-ই আলম,কবি ও গবেষক জগৎজ্যোতি চাকমা,সাহিত্যিক ও শিক্ষকদের শিক্ষক সামসুদ্দিন শিশির,কবি ও গবেষক শাওন ফরিদ, মমতাময়ীর সম্পাদক কবি মলয় ত্রিপুরা কিশোর,কবি সুকৃতি ভট্টাচার্য,উন্নয়কর্মী ওমর ফারুক, স্কুলবেলার প্রথম সম্পাদক জসীমউদ্দীন,কবি সুশীল জীবন চাকমা,রেজাউল করিম,সঙ্গীতশিল্পি ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার,আবৃত্তিশিল্পী তুষার ধর,সামাজিক সংগঠনের নেতা অসীম গুপ্ত,সংবাদকর্মী হেফাজত সবুজ,শংকর হোড়,প্রান্ত রনি এবং দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য সম্পাদক হাসান মনজু।

সাহিত্যিক ও গবেষক আজাদ বুলবুলের জন্য এই আয়োজনের উদ্যোক্তা পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাড়া জাগানো ছোট কাগজ ‘পার্বত্য পুরাণ’। দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম’র সম্পাদক ফজলে এলাহীর সম্পাদনায় ২০০৩ সালে প্রথম সংখ্যা প্রকাশ করেই বাজিমাত করা এই সাহিত্য পত্রিকার সাথে নিবিঢ়ভাবে জড়িত ছিলেন আজাদ বুলবুলও।

আড্ডা-গল্পে আর নানান আলোচনায় কখন যে দুই ঘন্টা পাড় হয়ে গেছে যেনো খেয়ালই করেনি কেউ। হঠাৎ ঘড়ির কাঁটা যেনো মনে করিয়ে দিলো,সময় অনেক বয়ে গেছে,এবার উঠতে হবে…চা-পিঠার আপ্যায়ন শেষে,শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান আর ছবিবন্দী করার কিছু মুহুর্তকে ফ্রেমে ধারণ করে একে এক বিদায় নিতে থাকলো পুরোটা সন্ধ্যা একটি ছোট পত্রিকার অফিস মাতিয়ে রাখা এক মফস্বল শহরের কিছু স্বপ্নবাজ মানুষ,সৃষ্টির নেশাই যাদের অনেকের কাছ থেকেই আলাদা করেছে,নির্মাণই বাড়িয়ে দিয়েছে যাদের নৈকট্য !

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button