ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

একজন মাদক ব্যবসায়ীকেও ছাড় দেয়া হবে না

‘নেশা ছেড়ে কলম ধরি, মাদক মুক্ত সমাজ গড়ি’- এই স্লোগানে রাঙামাটি শহরের রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে এ সভার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণতোষ মল্লিকের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি ছিলেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের রাঙামাটি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর হামিদ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট প্রতীম রায় পাম্পুসহ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

সভায় জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, মাদক একটা জাতিকে ধ্বংস করে দেয়। এ ফাঁদে একবার পা দিলে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা যায় না। তাই আপনার সন্তানের প্রতি আপনার সবসময় নজর রাখবেন। সে কী করে, কোথায় যায় কাদের সাথে মিশে, তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসছে কিনা। যদি পরিবর্তন আসে তাহলে তার প্রতি যতœবান হতে হবে। ট্রিনেজার বয়সে তাদের মনের মাঝে কৌতুহল বাড়ে। তাই অনেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে। আমি মনে করি, অভিভাবকরা সচেতন হলে সন্তানরাও নিরাপদ থাকবে।

সভায় পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে আপনারাই আমাদের মাধ্যম। আমরা চাকুরি করি এলাকায় হয়তো সর্বোচ্চ ৩ বছর থাকতে পারি। আমরা সকলকে চিনতে পারি না। কিন্তু আপনারা এখানেই থাকেন। সকলকে চিনেন, কে কে মাদক ব্যবস্যা করে, কারা সেবন করে সব জানেন। দয়া করে সুনির্দিষ্ট করে আমাদের জানান, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। আপনারা তথ্য দিবেন, কিন্তু আমার কোনো পুলিশ যদি আপনার পরিচয় জানতে চায় তাহলে পরিচয় দিবেন না। আমাকে জানাবেন, সাথে সাথে আমি সে পুলিশ কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমার কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্য আছে যারা মাদক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আমি তাদের ২৪ ঘন্টা ডিউটিতে রাখি, মনিটরিং করি, যাতে তারা মাদকগ্রহণ করতে না পারে। এ কাজ আমি কেন করি এমন প্রশ্ন আসতেই পারে, কাজটা করি কারণ আমি ওদের অভিভাবক, চেষ্টা করছি তারা যাতে সঠিক পথে আসে। যদি না আসে তখন আইনি ব্যবস্থা নিব। আপনারা যেমন আপনাদের সন্তানদের জন্য করে থাকেন। মাদক নিয়ন্ত্রণে আপনাদের সহযোগিতা না পেলে আমরা সফল হতে পারব না।’

আলমগীর কবীর বলেন, ‘মাদকের ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছে। একজন মাদক ব্যবসায়ীকেও ছাড় দেয়া হবে না। তাদের কোনো পরিচয়কে বিশেষ বিবেচনা করা হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা মাদক নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছি। তবে আমাদের রাঙামাটি জেলা সমতলের মতো এতো মাদক প্রবণ না। দেশের অন্য এলাকায় লাখ রাখ পিস ইয়াবার চলান ধরা পরে, সেখানে রাঙামাটিতে এর সংখ্যা তিন ডিজিট অতিক্রম করেনি। তারপরও আমরা অপারেশন অব্যাহত রেখেছি। এক পিস মাদকেও যেন রাঙামাটিতে না থাকে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সভায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের রাঙামাটি কার্যারয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর হামিদ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সহযোগীতা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সরকারে নির্দেশনা পালন করছি। মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আভিভাবকদের অনুরোধ করবো, আপনার সন্তানের পাশাপাশি সমাজে মাদক প্রসারকারীদের সম্পর্কে সচেতন হবেন। আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করবেন। আপনাদের পরিচয় গোপন থাকবে। সমাজে যদি মাদকের বিস্তার থাকে তবে আপনার সন্তানও নিরাপদ নয়। কারণ একজন মানুষকে সব সময় চোখে চোখে রাখা যায় না। তাই আসুন আমরা সকলে মিলে মাদক মুক্ত সমাজ গড়ে তুলি। তাহলে আমরা সকলেই নিরাপদ থাকতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট চালু হয়েছে। আপনার সন্তান যদি মাদকাসক্ত হয় তাহলে সে জীবনে সরকারি চাকরি পাবে না। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে মাদকমুক্ত সমাজ তথা দেশ গড়তে সরকারকে সহযোগিতা করি। এটা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button