আলোকিত পাহাড়রাঙামাটিলিড

একজন অসহায় ছফুরা খাতুনের পাশে মানবিক ইউএনও মাইনুল

রাঙামাটির লংগদুতে

আরমান খান, লংগদু
বিধবা ছফুরা খাতুনের স্বামী সৈয়দ আহাম্মদ মারা গেছে ৪০ বছর আগে। ঠিক মারা যায়নি, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষ পিটিয়ে মেরেছিল। মামলা হলেও তা চালিয়ে নেয়ার সামর্থ ছিলনা বিধবা অসহায় ছফুরা খাতুনের। স্বামী হারানোর পর ছোট ছোট ২ ছেলে ও ৪ মেয়েকে নিয়ে জীবনের কঠিন সময় পার করেছেন ছফুরা খাতুন। ছেলেরা বড় হয়ে সংসারের হাল ধরেছিল, কিন্তু ভাগ্য এখানেও নিরাশ করেছে ছফুরা খাতুনকে।
দশ বছর আগে বড় ছেলে আবুল হোসেন সড়ক দূর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বর্তমানে শশুরবাড়ীতে বসবাস করছে। ছোট ছেলে দেলোয়ার হোসেন ২০১৪ সালে প্যারালাইজড হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ছেলেকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন ছফুরা খাতুন। ছোট ছেলের পাঁচ ছেলে মেয়ে ও ছেলের বৌসহ কোনো রকম খেয়ে পড়ে জীবন চালান ছফুরা খাতুর। ছোট ছেলের স্ত্রী হেলেনা বেগম অন্যের ক্ষেতে খামারে কাজ করে সংসারের হাল ধরে আছেন। ছোট একটি থাকার ঘরের চালার টিন নষ্ট। বৃষ্টি হলেই ভিজে যায় সব। জানালা ও দরজাবিহীন ঘরের অবস্থা এমন যে একটু ঝড়ো হাওয়ায় সব উড়ে যাবে এখনি।

ছফুরা খাতুনের পুরনো ঘর

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় এক শিক্ষক অসহায় দরিদ্র ছফুরা খাতুনের ভাঙ্গাচোড়া ঘরবাড়ির ভিডিওসহ একটি পোষ্ট করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন ‘সরকার ত্রাণের ঘর তৈরী করে দিচ্ছেন গরীব অসহায় মানুষকে। কিন্তু ছফুরা খাতুনের মতো অসহায় দরিদ্র মানুষ একটি ঘর পেল না।’ বিষয়টি লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাইনুল আবেদীনের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ছফুরা খাতুনের খোঁজ নেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ওই শিক্ষকের মাধ্যমে ছফুরা খাতুনের সাথে সাক্ষাত করেন ইউএনও। অসহায় দরিদ্র ছফুরা খাতুনের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনে তার জন্য একটি ত্রাণের ঘরের বন্দোবস্ত করেন।
বৃহস্পতিবার উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়নের পূর্ব রাঙ্গিপাড়া এলাকায় নির্মানাধীন ছফুরা খাতুনের ঘর দেখতে যান ইউএনও মাইনুল আবেদীন। এসময় তিনি ছফুরা খাতুনের সাথে কথা বলেন ও খোঁজ খবর নেন। পাশাপাশি সফুরা খাতুনকে আর্থিক সহযোগিতাও করেন। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন, ইউপি সদস্য ফারুক আহাম্মদ, ঠিকাদার মোহাম্মদ চানমিয়া উপস্থিত ছিলেন।
বিধাব অসহায় দরিদ্র ছফুরা খাতুনে (৭০) বলেন, জীবনের পুরাটা সময় দুঃখ কষ্ট করে কাটিয়ে দিয়েছি। স্বামী নাই , সন্তান নাই, দেখার মতো কেউ নাই। শেষ বয়সে এসে একটা থাকার ঘর পেলাম এতেই আমি খুশি। আমি চলে গেলে আমার নাতিরা এখানে থাকতে পারবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাইনুল আবেদীন বলেন, ছফুরা খাতুনের মতো অসহায় দরিদ্ররাই সরকারী সাহায্য সহযোগীতা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু সঠিকভাবে তাদের তথ্য আমাদের কাছে আসে না, ফলে অনেক সময় তারা বঞ্চিত হয়। আমরা চেষ্টা করছি অসহায় দরিদ্র প্রান্তিক মানুষের কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিতে।

নির্মাণাধীন নতুন ঘরের সামনে ইউএনও মাইনুলসহ ছফুরা খাতুন

প্রসঙ্গত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ভূমি ও গৃহ প্রদান কর্মসূচীর আওতায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর মাধ্যমে রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় প্রথমধাপে ৪৫টি এবং ২য় ধাপে ১০০টি গৃহ বরাদ্ধ হয়েছে। যার মধ্যে ৪৫টি ঘর ইতোমধ্যে সুবিধাভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১০০ টি ঘরের কাজ চলমান রয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button