খোলা জানালাব্রেকিং

উৎসবের শহরে তোমায় আমন্ত্রন……

বারো মাসে তেরো পার্বনের স্বত্তা বহন কারি বাঙালীর পূজো পার্বনের আদর্শ রুপ ধরা পড়ে পার্বত্য শহর রাঙামাটি জুড়ে। নৃতাত্ত্বিক এবং বাঙালী মিলিয়ে চৌদ্দটি জাতিস্বত্তার এই শহরে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও নানা পূজো পার্বনে জমে উঠে ভ্রাতৃত্বের স্বমহিমায়।
শহর জুড়ে জমে আছে উৎসবের ঘ্রাণ।দেবী দূর্গার বিসর্জনের বেলা ফুরোতে না ফুরোতে হাতে শঙ্খ,চক্র,ধনুক,বাণ,গলায় নাগযজ্ঞোপবীত সাজে সজ্জিত হয়ে হাজির ত্রিনয়া,চতুর্ভূজা দেবী জগদ্বাত্রী।হিন্দু শ্রাস্ত্রে তিনি শক্তিদেবী।মূলত বঙ্গ দেশেই প্রচলিত এই পূজোর আয়োজন হয় কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে।দেবী জগ্বদ্বাত্রী কে ঘিরে এই পূজো আয়োজনে মেতে উঠেছে শহর রাঙামাটির প্রাণকেন্দ্র হ্যাপির মোড়ে অবস্থিত শ্রী শ্রী জগদ্বাত্রী মন্দিরও।তিনদিন ব্যাপী এই পূজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও জমেছে মেলা।কে নেই তাতে।হ্যাপীর মোড় থেকে বনরুপা বাজার অব্দি ব্যাপ্তি এবারের মেলার।শহরের ছোটবড়,নানা ধর্মাবলম্বী মানুষের সরব বিচরন মেলা এবং পূজো প্রাঙ্গণ জুড়ে।আহা শহর আমার শহর।
এই পূজো শেষ হবে ৩১অক্টোবর।এখানেই শেষ নয়,এই পূজো শেষ হতে না হতেই আগামী ২ ও ৩ নভেম্বর রাজবনবিহার মাঠে অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের “কঠিন চীবর দানোৎসব”।”চীবর”শব্দটির মানে হচ্ছে বস্ত্র।ধর্মপ্রাণ মানুষেরা পূন্য লাভের আশায় নিজে হাতে বোনা ত্রি-চীবর তুলে দেন বৌদ্ধ ভিক্ষুদের হাতে।ত্রি-চীবর চার খন্ডের বস্ত্র যাতে থাকে দোয়াজিক, অন্তর্বাস,চীবর ও কটি বন্ধনী।দীর্ঘ একমাস ধরে চলমান এই উৎসবের সবচেয়ে বড় আয়োজনটি হয় এই রাজবনবিহারেই।যেখানে চাকমা রাজা স্বয়ং উপস্থিত থেকে নিজ হাতে চীবর তুলে দেন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষের হাতে।মূল অনুষ্টানের ৩/৪দিন আগে থেকেই এখানে সমাগম ঘটে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন জনগোষ্টির।এই চীবর দান সম্পন্ন হয় চারটি প্রক্রিয়ায় তুলা সংগ্রহ,তুলা থেকে সুতা কাটা, সুতা রঙ করা এবং সর্বশেষ কাপড় বোনার বাঁশের ফ্রেমে চীবর বুনন। আর এই পুরো কাজটি শেষ করতে হয় ২৪ ঘন্টার মধ্যে। আগের দিনের উদ্ভোধনী আয়োজনের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া এই বুনন শেষ হতে হতে পরদিন ভোর-দুপুর।মিলেমিশে সবাই বুননে ব্যস্ত।আর বিহারের চারপাশ জুড়ে জমে মেলা।পিঠাউৎসব।আদিবাসীদের বানানো পিঠা নানা খাবার সামগ্রী সহ তাদের নানান ঐতিহ্যবাহীর পন্যের দেখা মিলবে এই আয়োজনে। কেবল পূন্য লাভের আশায় চীবর দানই শেষ কথা নয় এই চীবর দানের আরেকটি বিশেষ এবং গুরুত্বপূর্ন মাহাত্ন্য হচ্ছে, যেহেতু চীবরবোনা হয় বেইন বা বাঁশের তৈরী ফ্রেমে তাই এই আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এর মাধ্যমে একই সাথে পাহাড়ি জনগোষ্টির ঐতিহ্যও সংরক্ষিত এবং পরিচিত হয়।অন্যান্য বছরের ন্যায় চীবর,কল্পতরু দান,ধর্মসভা,এবং আকাশে ফানুস উড়ানোর মাধ্যমে শেষ হবে এই আয়োজন।
তারপর পরই শহরের তবলছড়িস্থ মাঝেরবস্তি এলাকায় অবস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ইস্কন ভাবধারার আশ্রমকে ঘিরে জমবে “রাসপূজা”। শ্রী কৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকুরনে বৈষ্ণবীয় ভাবধারার এই আয়োজন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি বাৎসরিক আয়োজন।শ্রী কৃষ্ণের জীবনাচারণ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ন ঘটনাপ্রবাহ ফুটে উঠে প্রতিমূর্তির ধারাবাহিক স্থাপনের মাধ্যমে।আশ্রম ভেতর বাহির জুড়ে চলে পূজা অর্চনা এবং ভোগবন্টন।আর এই পূজোকে ঘিরে জমবে দুদিনের মেলা।নানা ধর্ম বর্ণের সরব উপস্থিতিতে এ কটা দিন মেতে থাকবে এই শহরটা।এই ভ্রাতৃত্ব এই স্বতঃস্ফূর্ততাই এই শহর এই শহরের মানুষগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি।।
প্রকৃতির অপার বিস্ময় এই শহরের উৎসবের রঙ দেখতে হাজির হয়ে যেতে পারেন যে কোনদিন….শহর তার চির আতিথীয়তায় জড়িয়ে নিবে আপনায়……..

এই বিভাগের আরো সংবাদ

১টি কমেন্ট

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: