ব্রেকিংরাঙামাটি

‘উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এখন বাংলাদেশ’

স্বল্পোন্নত দেশের স্ট্যাটাস হতে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে বুধবার কাপ্তাই উপজেলা রেস্ট হাউজ হল রুমে এক প্রেস ব্রিফিং” অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারি তথ্য কর্মকর্তা মো: হারুন, উপজেলা আইসিডি কর্মকর্তা সলিল চাকমা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কর্মকর্তা মিয়া মো: আরিফুল আজম, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম লাভলু, কাজী মোশারফ হোসেন, মাহফুজ আলম, নুর হোসেন মামুন, আলমগীর কবির প্রমুখ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে সহকারি তথ্য কর্মকর্তা মো: হারুন বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের ধারণাটি ১৯৬০ এর দশকে প্রবর্তিত হয়। তবে ১৯৭১ সালে জাতিসংঘ মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিভিন্ন নির্ধারিত সূচকে থাকা দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের তথ্যমতে বর্তমানে সারাবিশ্বে সর্বমোট ৪৭ টি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তভুক্ত হয় ১৯৭৫ সালে। স্বল্পোন্নত দেশ নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান আঙ্কটাডের নেতৃত্বে ১৯৮১, ১৯৯০, ২০০১ ও ২০১১ সালে চারটি সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ২০১১ সালের মে’ মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত স্বল্পোন্নত দেশ সমূহের ৪র্থ জাতিসংঘ সন্মেলনে অংশগ্রহন করেন। সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশ সমূহের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইস্তাম্বুল ঘোষণা ও পরিকল্পনা গৃহীত হয়। পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো, ২০২০ সালের মধ্যে অর্ধেক সংখ্যক দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে উত্তরন ঘটানো। সে অনুযায়ী এপযর্ন্ত পাঁচটি দেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরন ঘটেছে। দেশগুলো হল ১৯৯৪ সালে বোতসোয়ানা, ২০০৭ সালে কেপ ভারদে, ২০১১ সালে মালদ্বীপ, ২০১৪ সালে সামোয়া, ২০১৭ সালে ইকুয়েটরিয়াল গিনি।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরনে ২০১৮ সালে সিডিপি কর্তৃক যে পর্যালোচনা হয়, তাতে একটি দেশের মাথা পিছু আয় ধরা হয় ১,২৩০ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে বাংলাদেশের মাথা পিছু আয় বর্তমানে ১,২৭২ মার্কিন ডলার। মানব সম্পদ সূচকে থাকার কথা ৬৬ বা তার বেশি। বর্তমানে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে ৭২.৮। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে থাকার কথা ৩২ বা তার কম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ২৫।

প্রধান অতিথি ইউএনও তারিকুল আলম বলেন, একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনের প্রত্যয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে সরকার সফলভাবে সহ¯্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। জাতির জনকের যোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সাফল্য অর্জনের মধ্যদিয়ে রূপকল্প ২০২১ এর সফল বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এখন বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ২০৪১ সালে বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের উন্নত দেশের তালিকায়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button