খাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

‘উন্নয়নবঞ্চিত খাগড়াছড়ি’ : জাহিদ, ‘আমাকে বান্দরবানের মন্ত্রী বললে ভুল হবে’ :বীর বাহাদুর

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি বার্ষিক কাউন্সিল ও সম্মেলন। দীর্ঘ ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ উদ্দীপনা। শ্লোগান আর হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মুখর ছিল সম্মেলন এলাকা।
রবিবার সকালে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনকে সফল সম্মেলন বলে আখ্যায়িত করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রত্যেকের বক্তব্যে ছিল সম্মেলন নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ জাতীয় ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য রাখলেও তিনজনের বক্তব্য ¯্রােতাদের দিয়েছে বাড়তি খোড়াক। আর তাঁরা হলেন পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা এবং আলোচিত আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জাহেদুল আলম।
মূূলত সম্মেলনে জাহেদুল আলম তাঁর বক্তব্যে অতীতের ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এক পর্যায়ে পার্বত্যমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে সব ধরনের উন্নয়ন বান্দরবান এবং রাঙ্গামাটিতে হচ্ছে বলে জানান। এরই প্রেক্ষিতে রণ বিক্রম ত্রিপুরা তাঁর বক্তব্যে অতীতে দল বিরোধী কর্মকান্ডের কথা স্মরণ করে দেন। অপর দিকে জাহেদুলের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা জবাব দিয়েছেন পার্বত্য মন্ত্রী।
সম্মেলনে জাহেদুল আলম তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, অতীতে আমার অনেক ভুল-ভ্রান্তি ছিল। আমি তাঁর জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমার বয়স হয়ে গেছে। এখন নতুনদের সময়। আমি নতুনদের চলার পথে সারথী হয়ে থাকতে চাই।

এক পর্যায়ে তিনি বলেন, তিন পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে খাগড়াছড়ি পিছিয়ে আছে। পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর বান্দরবানের হওয়ার কারণে বান্দরবান এবং রাঙ্গামাটিতে উন্নয়ন হচ্ছে বেশি। বান্দরবানে বিশ^বিদ্যালয় হয়েছে। তিনি মন্ত্রীকে খাগড়াছড়িতে উন্নয়নের জন্য নজর দেয়াসহ খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ^বিদ্যালয়ের দাবী জানান তিনি।

এরপরি জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দল আওয়ামীলীগ। এটি কারো ব্যক্তিগত দল ভাবার সুযোগ নেই। কেন্দ্র মনে করে খাগড়াছড়িতে বিভক্তি আছে। আপনারা এই সম্মেলন দেখে বলেন বিভক্তি আছে কিনা। কেউ যদি দলে থেকে, দলের সুযোগ সুবিধা নিয়ে দল বিরোধী কর্মকান্ড করে তা পুরো দল দায় নেবেনা। যারা বার বার দলে থেকে দল বিরোধী কর্মকান্ডে যুক্ত থাকে তাদের বিষয়ে তিনি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, জাহেদুল আলম খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক। গত পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়াসহ একাধিক অভিযোগে তাকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়।
এদিকে পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুুর উশৈসিং জাহেদুল আলমের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এক পর্যায়ে বলেন, আমি তিন জেলার মন্ত্রী। আমাকে বান্দরবানের মন্ত্রী বললে ভুল হবে। সবখানে সমানভাবে উন্নয়নের কাজ চলছে। বান্দরবানে যে বিশ^বিদ্যালয় হয়েছে সেটি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়। আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে করেছি। এসময় তিনি জাহেদুল আলমকে দেখিয়ে বলেন, পারলে আপনারা উদ্যোগ নিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে বিশ^বিদ্যালয় করার উদ্যোগ নেন। আমিসহ যেখানে যেখানে যাওয়ার দরকার যাবো। প্রয়োজনে বিল্ডিং করে দিব। এদিকে তিনি প্রত্যেক উপজেলায় যাওয়ার কথা বলেন। আগামী চার বছর উন্নয়ন করতে না পারলে খাগড়াছড়ি আর আসবেননা বলেও জানান তিনি।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এতে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি, পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি , ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার সম্পাদক মোঃ আমিনুল ইসলাম, তিন পার্বত্য জেলা নারী সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা এমপি।

সম্মেলন শেষে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষনা করেন প্রধান অতিথি। কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপিকে পুনঃরায় সভাপতি, নির্মলেন্দু চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক এবং দিদারুল আলমকে সাংগঠনিক সম্পাদক ঘোষনা করা হয়।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button