রাঙামাটিলিড

ঈদের দিন শতভাগ বর্জ্য অপসারণ হলো না রাঙামাটি শহরে !

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুুল আযহার দিনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যে প্রশংসা ও সক্ষমতা দেখায় রাঙামাটি পৌরসভা,এবার তার বেশ বড় ব্যত্যয় ঘটেছে। ঈদের দিনতো পারেইনি,ঈদের পরদিনও শহরের বিভিন্নস্থান থেকে কোরবানির বর্জ্য ও পশুর চামড়া পথেঘাটে,সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে,শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুই ওয়ার্ড ৪নং এবং ৫ নং ওয়ার্ডে ঈদের দিন রাত অবধি পৌরসভার পরিচ্ছন্নতার গাড়িই প্রবেশ করনি ! এমনকি এদিন রাতেও পৌরসভার নির্ধারিত পশু জবাই স্থান থেকেও অপসারণ করা হয়নি বর্জ্য ! এনিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পৌরবাসি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। ক্ষুদ্ধ কাউন্সিলররাও।

তবে পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘গাড়ী ও কর্মচারী সীমাবদ্ধতা’র কারণে বর্জ্য অপসারণে ব্যর্থতা চোখে পড়ছে। ‘চেষ্টার কোন ক্রটি ছিলোনা’ বলেও দাবি তাদের।

রাঙামাটি পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নুরনবী জানাচ্ছেন, গাড়ী সমস্যার কারণে ঈদের দিন আমার ওয়ার্ড তবলছড়ি এলাকার বর্জ্য অপসারণ করতে পারেনি। তবে ঈদের পরদিন করেছে। কিন্তু ঈদের দিনই করতে পারলে ভালো হতো। মানুষের কথা শুনতে হতনা। কিন্তু গাড়ী সমস্যা,তাদেরই বা কি করার আছে।’

পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ জামালউদ্দিন বলছেন, এনিয়ে কথা বলতেও আর ইচ্ছে করেনা। শুধু শুধুই মানুষের কথা শুনতে হয়। আমরা পারিনি এটাতো সত্য। আমাকে মানুষজন ফোন করে এটাসেটা বলেছে। কি আর করা মানুষের কথা শুনতে হচ্ছে। তবে বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সবারই ভাবা উচিত। সবসময় গাড়ী নষ্ট-এই কথা মানুষ আর শুনতে চায়না।’

পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হেলালউদ্দিন বলছেন,‘ এটা খুবই দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক আমাদের সবার জন্যই। ছোট্ট একটি এলাকার বর্জ্যই যদি আমরা অপসারণ করতে না পারি,তাহলে কিইবা আর বলার থাকে। মানুষ নানা কথা বলে। এসব নিয়ে ছুটির পর মেয়র মহোদয়ের সাথে কথা বলব। আশা করছি ভবিষ্যতে এমন সংকট আর হবেনা।’

অন্যদিকে পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী দাবি করছেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি বলছেন, আমাকে তো কেউ কিছু জানায়নি। যদি আগে থেকে জানাতো তাহলে প্রয়োজনে গাড়ী ভাড়া হলেও করা যেতো। মেয়র জানান, বিষয়টি আমি দেখছি,ভবিষ্যতে যেনো একই ধরণের সমস্যা আর না হয়,সেই জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলব। আশা করছি একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি আর হবেনা।’ বর্জ্য অপসারণে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন মেয়র।

পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২, কালায়ন চাকমা বলছেন,‘ আমরা ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডে গাড়ী পাঠাতে পারিনি এটা সত্য। গাড়ী সংকট যেমন আছে তেমনি স্টাফ না পাওয়ার কারণেও পুরো পৌর এলাকার বর্জ্য অপসারণ করতে আমরা পারিনি। আবার কোথাও এমনও দেখা গেছে, আমরা বর্জ্য অপসারণ করে আসার পর সেখানে অনেকেই আবার বর্জ্য ফেলেছে,ফলে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়ে জটিলতা হয়েছে। তবে আমরা পরদিন চেষ্টা করেছি শতভাগ অপসারণ করতে। আর চামড়ার দায়ভারতো পৌরসভার নয়, যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা যদি ঠিকঠাক তা পালন করত এবং যাদের চামড়া তারাও যদি ঠিকভাবে সহযোগিতা করত,তাহলে হয়ত সংকট হতনা।

এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাদেরকে চামড়া সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও দায়িত্ব ঠিকমত পালন না করার অভিযোগ উঠেছে। ফোন করেও তাদের সাড়া মিলেনি কিংবা চামড়া সংগ্রহ করতে আসার কথা বলেও শেষাবধি তারা আসেনি এমন অভিযোগ করেছেন অনেকেই। ফলে চামড়া নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে পৌরবাসিকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিরক্ত’ হয়ে পোস্ট করতে দেখা গেছে অনেককেই।

প্রসঙ্গত,সম্প্রতি রাঙামাটি পৌর শহরে রাতের বেলায় আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে রাঙামাটি পৌরসভা। তবে গাড়ী সংকটের কারণে বরাবরই আবর্জনা অপসারণের সামগ্রিক কার্যক্রমে বেশ বিপাকেই থাকতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। পার্বত্য মন্ত্রনালয়,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কিংবা পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যদি প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিক বর্জ্য অপসারণের গাড়ী দেয়া হয়,তাহলে পর্যটন শহরখ্যাত রাঙামাটি শহর আরো পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব বলেই মনে করেন শহরবাসি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + 6 =

Back to top button