নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / ইন্দোনেশিয়ান জাতের আম চাষ সম্প্রসারণের স্বপ্ন দেখছেন মটেন ত্রিপুরা
parbatyachattagram

খাগড়াছড়িতে

ইন্দোনেশিয়ান জাতের আম চাষ সম্প্রসারণের স্বপ্ন দেখছেন মটেন ত্রিপুরা

খাগড়াছড়িতে ইন্দোনেশিয়ান জাতের আম চাষ সম্প্রসারণের স্বপ্ন দেখছেন চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারি মটেন ত্রিপুরা। সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে নিজের নার্সারীতে ইন্দোনেশিয়ান আমের চারা-কলমও করেছেন তিনি। খেতে সুস্বাদু আর অন্য আমের তুলনায় বেশি ফলন হয় এই জাতটিতে। বাজারজাতও করা যায় অন্যসব আমের আগেই, ফলে দরও পাওয়া যায় ভালো।

বছর দশেক আগে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি আমের চারা আনিয়েছিলেন মটেন ত্রিপুরা। পরে তা জেলার সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের হরিদয়াল পাড়া এলাকায় নিজের বাগানে চারা রোপণ করেন। রোপণের বছর খানেক পর থেকেই ফলন দিতে শুরু করে গাছটি। দশ বছরের ব্যবধানে এখন ওই গাছের প্রতিটি পরিপক্ক আমের ওজন ৬শ’ থেকে ৭শ গ্রাম’। আর প্রতি কেজি আম বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১শ’ থেকে ১২০ টাকায়। গেলো মৌসুমে এই একটি গাছেই ফলন হয়েছে প্রায় দেড়শো কেজির মতো। এবার দু’শ কেজির বেশী আম পাবেন বলে আশা মটেন ত্রিপুরার।

মটেন ত্রিপুরা জানান, আ¤্রপালির মতোই সুস্বাদু এই ইন্দোনেশিয়ান আম। খেতে যেমন সুমিষ্ট তেমনি ফলনও হয় অন্য আমের তুলনায় বেশী, তাই ইন্দোনেশিয়ান জাতের এই আমের প্রচুর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ১২-১৫ হাজার টাকার আম বিক্রি করা যায়। একটি বাগানে যদি ১০০টি ইন্দোনেশিয়ান জাতের আম গাছ থাকে তবে তা থেকে বছরে ১০-১৫ লাখ আয় করা সম্ভব। এই জাতটি সম্প্রসারণ করা গেলে চাষিরা লাভবান হবে তাই আমি এটি সম্প্রসারণের চেষ্টা করছি।

মটেন ত্রিপুরা পেশায় একজন চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারি। কাজ করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রামগড় হর্টিকালচার সেন্টারে। চাষি হিসেবেও সফল তিনি। রয়েছে নিজস্ব নার্সারী। নিজস্ব নার্সারীতেই ইন্দোনেশিয়ান এই আমের জাত সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে চারা-কলম করেছেন। তিনি জানান, এই জাতটি সম্প্রসারণের জন্য মাতৃগাছ হিসেবে তিনি চাষিদের চারাগাছ দিতে চান। যদি কেউ চারা সংগ্রহ করতে চায় তাহলে তার সাথে মুঠোফোনে (০১৮২৩২১৮৮০৬) যোগাযোগ করার কথা বলেছে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ান এই আমের স্বাদ ও গুনগতমান যাচাই করে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানালেন খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মো. মোজাম্মেল হোসেন।

ইন্দোনেশিয়ান জাতের এই আম ছাড়াও দু’একরের বাগানে বারি-৪, আ¤্রপলি, বেনানা ম্যাংগোসহ বেশকিছু জাতের আম রয়েছে মটেন ত্রিপুরার বাগানে। তবে এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ান জাতের এই আমের চাষ সম্প্রসারিত করা গেলে চাষিরা বেশী লাভবান হবেন বলে মনে করেন মটেন ত্রিপুরা। তাই স্বপ্ন দেখছেন সম্প্রসারণের।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে অপহৃত ৬ পাহাড়ি মুক্ত

অপহরণের ২৪ ঘন্টা পর মুক্তি পেয়েছে বান্দরবানের রুমা থেকে অপহৃত ৬ পাহাড়ী। সোমবার বিকাল ৪টার …

Leave a Reply