খাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

ইউপিডিএফের ৩ কর্মী নিহত

পার্বত্য জনপদ খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের তিন কর্মী নিহত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দীঘিনালা ইউনিয়নের বড়াদম এলাকার দুর্গম দজর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার দীঘিনালা ইউনিয়নের ইন্দ্রমনি কার্বারি পাড়ার তংগ চাকমার ছেলে ভুজেন্দ্র চাকমা (৪৫), কবাখালি ইউনিয়নের হাচিনসনপুর এলাকার সুজিত প্রিয় চাকমার ছেলে রুচিল চাকমা ওরফে রাসেল (২৫) এবং পানছড়ি উপজেলার পুজগাং ইউনিয়নের যুব নকশা পাড়া এলাকার ধন্যসেন চাকমার ছেলে নবীন জ্যোতি চাকমা (৩২)। নিহত তিনজনই পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বিরোধী সংগঠন ও পাহাড়ে পূর্ণশায়ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলরত প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কর্মী।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, পাহাড়ে সন্ত্রাস বন্ধে সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সোমবার সকালে বড়াদম এলাকার দজর পাড়ায় সেনা টহল যাচ্ছিল। দুর্গম এলাকায় সেনা উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এ্যম্বুস নিয়ে সেনাবাহিনীর ওপর গুলি চালায়। আত্মরক্ষার স্বার্থে সেনাবাহিনীও পাল্টাগুলি চালায়। কিছুক্ষণ সময় গুলি বিনিময়ের পর বেশ কিছু সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে অজ্ঞাতনামা তিন সন্ত্রাসীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ দেখতে পাওয়া পায়। পাশে পড়ে থাকা তাদের ব্যবহৃত দুইটি বিদেশি পিস্তল ও ৮রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দেব জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ তিনজনের লাশ ও গুলিসহ দুইটি পিস্তল উদ্ধার করে। লাশ থানায় আনার পর বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে নিহতদের স্বজনদের সাথে কথা বলে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।’

এদিকে বিকালে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফ নিহত জনকেই নিজেদের কর্মী বলে স্বীকার করেছে। ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বরত নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘নিহত তিনজনই আমাদের সংগঠনের কর্মী। এবং ঘটনাস্থলে গোলাগুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি। উপজেলার কৃপাপুর এলাকায় সুমন চাকমার বাড়ি থেকে তাদের ভোর রাতে তোলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সকালে কয়েক কিলোমিটার দূরে বিনন্দচোখ পাহাড়ে তাদের লাশ পাওয়া যায়।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৮ আগস্ট রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দা ইউনিয়নেও সেনাবাহিনীর গাড়িতে হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। সেদিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নাসিম (১৯) নামে এক সেনাসদস্য মারা যান। এর পাঁচ দিনের মাথায় ২৩ আগস্ট (শুক্রবার) সকাল পৌনে ১১টার দিকে বাঘাইছড়ির বাঘাইহাট উজু বাজার এলাকায় একইভাবে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সুমন চাকমা নামে একজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় ইউপিডিএফ নিহত সুমন চাকমাকে নিজেদের সাবেক কর্মী বলে দাবি করে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button