ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

আস্থা ও বিশ্বাস ভঙ্গের প্রতিশোধ নিচ্ছে পাহাড়!

পাহাড় ও মানুষের মাঝে ছিলো প্রেমময় এক সম্পর্ক। পাহাড়কে ঘিরে ছিলো মানুষের বসবাস ও জীবন-জীবিকা। পাহাড় মানুষকে দিয়েছে অজ¯্র কিছু। দিয়েছে থাকার জায়গা, জীবন-জীবিকার জন্যে নানান উপহার। কিন্তু হঠাৎ পাহাড় হয়ে উঠলো মানুষের শত্রু। কারণ মানুষ ভঙ্গ করেছে পাহাড়ের আস্থা ও বিশ^াস। প্রতিনিয়ত ক্ষতি করেছে পাহাড়কে। পাহাড়ের বুকে হাজারো ক্ষত চিহ্ন বসিয়েছে মানুষ। তাই তো পাহাড় আজ প্রতিশোধ নিচ্ছে মানুষের বিরুদ্ধে। পাহাড়কে দেওয়া মানুষের প্রতিটি ক্ষত আজ চাপা দিেেচ্ছ মানুষের নিথর দেহকে।

এক সময় মানুষের ওপর আস্থা রেখে পাহাড় নিজের বুকে আশ্রয় দিয়েছিলো মানুষকে। বিশ^াস করেছিলো মানুষ কখনো তাকে কষ্ট দিবে না। তার বুকে কখনো আঘাত করবে না। কিন্তু মানুষ বছরের পর বছর বিশ^াস ভঙ্গ করে আঘাত করেছে পাহাড়ের বুকে। ক্ষতবিক্ষত করেছে পাহাড়কে। তাই তো আজ পাহাড় নিচ্ছে প্রতিশোধ।

রাঙামাটিতে গেল বছর আর এই বছর মিলে দু বছরে এ পর্যন্ত পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছে ১৩১জন, আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ। পাহাড়ের এমন আচরণকে কর্মদোষ হিসাবে মানুষকে দোষারোপ করছেন প্রকৃতি প্রেমি, পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিক সমাজ। পাহাড় ধসের কারণ হিসাবে প্রতি নিয়ত গাছ কাঁটা আর পাহাড় কাঁটাকে অন্যতম কারণ হিসাবে দেখছেন তারা। তাই তো বলছেন প্রবাদে আছে ‘কখনো কারো ক্ষতি করার চেষ্টা করো না। কখন যে তোমার ক্ষতি হয়ে যাবে টেরই পাবে না’।

প্রকৃতি প্রেমি ললিত সি চাকমা বলেন, পরিবেশের ওপর অবিচার করছি। প্রতিনিয়ত তার ক্ষতি করছি, সে তো তার প্রতিশোধ নিবেই। এটার পিছনে আমি আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিষয়কে দোষারোপ করতে চাই, কোন না কোনও ভাবে এটাও দায়ি। কারণ আমাদের এখানে ভারসাম্য রক্ষা করার যে চিন্তা ভাবনা, সেখান থেকে আমরা এখানে অন্য স্থানের জনগণ এনে বসতি করার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যার কারণে তারা বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন করেছে। মানুষ স্বার্থ লোভী, সে জন্যে তারা পাহাড় কাটছে, গাছপালা কাটছে। যার কারণে মূলত পাহাড় ধস হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনকে দায়িত্বশীলতা নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

রাঙামাটির পরিবেশবাদি সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজ’র পরিচালক হেফাজত সবুজ বলেন, পাহাড় ধসের জন্যে আমরাই দায়ি। আমাদের অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার জন্যে পাহাড় ধস হচ্ছে। পাহাড়ে বসবাস করার কিছু বৈশিষ্ট রয়েছে। সে বৈশিষ্টগুলো জানি না বলে কোথায় বসতি করা যাবে এবং কোথায় যাবে না তা না জেনে নিজেদের ইচ্ছে মত বসতি স্থাপন করছি। যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং তার ফলাফল আমরা পাচ্ছি।

এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, উত্তরণের উপায় বের করতে হলে আমাদেরকে প্রান্তিক পর্যায়ে চলে যেতে হবে। বিশে^র বিভিন্ন দেশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে মানুষ কি ভাবে বসবাস করছে, তারা কোন ধরণের গবেষণা করে পরিকল্পিত বসতি স্থাপন করছে তা লক্ষ্য করে আমাদেরকে পরিকল্পিত পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া সরকারকে কঠোর হতে হবে, শুধু পাহাড়কে বাঁচাতে নয়, মানুষকে বাঁচাতে পাহাড় বাঁচাতে হবে। যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসতি স্থাপন করেছে তাদেরকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হলে এভাবে প্রতিবার পাহাড় ধস হবে মানুষ মারা যাবে আর সরকার শুধুই ত্রাণ দিয়ে যাবে।

সচেতন নাগরিক সমাজ (সনাক) রাঙামাটির সভাপতি অমলেন্দু হাওলাদার বলেন, ‘পাহাড় কাটার কিছু নিয়ম আছে, কিন্তু পাহাড় কাটার কোনও নিয়ম মানছে না কেউ। যে যার মত করে পাহাড় কেটে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করছে। এছাড়া পাহাড়ের সম্পদ গাছ প্রতিনিয়ত কাটা হচ্ছে। কিন্তু গাছ লাগাচ্ছে কয় জনে? পাহাড় তো প্রতিশোধ নিবেই। সে আর কত সহ্য করবে। আমাদেরকে পাহাড় ধস রোধে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পাহাড় ধস বন্ধের জন্যে কিছু বিদেশি গাছ রয়েছে, যা পাহাড় ধস রোধের ক্ষমতা রাখে। সে গাছগুলো রোপণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

১টি কমেন্ট

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: