রাঙামাটিলিড

‘আল্লাহ মরণ রাইখলে এইহ্যানে মরুম’

জিয়াউল জিয়া ॥
রাঙামাটি টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের শঙ্কা বাড়ছে। আর পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে প্রশাসন রাঙামাটি পৌর এলাকায় ২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। কিন্তু রাতের পর দিনেও প্রশাসন শত চেষ্টার পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। ঝুঁকি জানার পরও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নারাজ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীরা। তবে বিকেলের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে না আসলে প্রশাসন কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগে ২০১৭ সালে রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে ১২০ জন ও ২০১৮ সালে ১১জনের মৃত্যু হয়।

রবিবার সকাল থেকে শহরের রূপনগর এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে আহ্বান জানাচ্ছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এসময় জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন পুলিশ, আনসার, ফায়ান সার্ভিস, রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা।

রূপনগর এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আল্লাহ মরণ রাইখ্লে এইহ্যানে মরুম, কই যামু। যে বৃষ্টি পড়তাছে, তাতে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওনের দরকার নাই। আরও বেশি বৃষ্টি হইলে তখন দেখা যাইবো। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা ফাতেমা বিবি বলেন, আমরা যেখানে আছি, এইটা ঝুঁকিপূর্ণ না। আমাদের অভিজ্ঞতা আছে যখন বৃষ্টি বেশি পড়বে তখন ঘর থেকে বের হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাব। যে বৃষ্টি পড়ছে তাতে এখন যাওয়ার দরকার নাই।

স্বেচ্ছাসেবক ও রেডক্রিসেন্টের দাবি বসবাকারীরা আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে বার বার বলার পরও বিভিন্নভাবে তারা তালবাহানা করছে।

যুব রেডূক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক রিকু চাকমা বলেন, গত রাত(শনিবার) থেকে প্রশাসনের সাথে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজনদের সচেতন করছি একই সাথে তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতেও আহ্বান করেও কাজ হচ্ছে না। নিরাপদ স্থানে তাবু তৈরি করা হলেও সেখানেও কেউ আসছে না।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মামুন বলেন, ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করছি। অনেকে আসছে, আবার অনেকে আসছে না। বিকেলের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে কেউ যদি সরে না আসে তাহলে আইন প্রয়োগ করতে বাধ্য হবো আমরা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 − thirteen =

Back to top button