নীড় পাতা / করোনাভাইরাস আপডেট / আলোচনায় নেই,নীরবেই কাজ করে যাচ্ছেন তারা তিনজন
parbatyachattagram

আলোচনায় নেই,নীরবেই কাজ করে যাচ্ছেন তারা তিনজন

সারাদেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা নিজ নিজ উপজেলায় সাধারন লোকজনদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় শিরোনাম হচ্ছেন। তবে কি আলোচনায় না থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ কাজ করছেন না, সেবা পাচ্ছেন না উপজেলার সাধারন লোকজন? এমনটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক। প্রকৃত সত্য হচ্ছে-নিউজের আলোচনায় না থাকা এসব উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণও রাতদিন কাজ করে চলেছেন। দুর্গম পাহাড়ের আনাচে কানাছে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন ত্রান সহায়তা ও সরকারি সেবা। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতেও কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। রাঙামাটি জেলার দশটি উপজেলার অধিকাংশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কার্যক্রম বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যেভাবে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। সেখানে সংবাদের প্রচারে নেই দুর্গম নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী রহমান তিন্নী, বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী এবং রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শেখ ছাদেকের কার্যক্রম। তাঁরাও প্রতিদিন ত্রান নিয়ে ছুটছেন নিজ নিজ উপজেলার দুর্গম পল্লীগুলোতে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতেও সেনাবাহিনী, পুলিশের সাথে কাজ করে চলেছেন।
পাহাড়ের দুর্গম পাড়াগুলোতে যেতে দীর্ঘ পথ হেঁটে রীতিমত হাফিয়ে উঠেন। তাঁরপরেও দমে থাকেননা তাঁরা। পরের দিন আবারো ত্রান নিয়ে ছুটে চলেন এই গ্রাম থেকে ওই গ্রামে। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে।
নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী রহমান তিন্নী মুঠোফোনে জানান, ‘‘সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই আমরা কাজ শুরু করেছি। উপজেলার প্রত্যেকটা গ্রামের লোকজন যাতে সরকারি সহায়তা পায় সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। উপজেলার এক হাজার চারশত পরিবারের মাঝে ত্রান সহায়তা দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। জনসমাগম যাতে বেশি হতে না পারে সেজন্য অল্প অল্প করে বিতরণ করছি, এতে করে আমাদের কষ্ট হচ্ছে বেশি। তবুও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি জানান, উপজেলার চার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছে। এরপরেও তালিকা তৈরি করতে ইউপি চেয়ারম্যানগণ ফোনে ও মেইলে নামের তালিকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। উপজেলার অধিকাংশ লোকজন আইন মানছেন। কিছু লোক যারা আইন মানছেন না, তাদের জন্য কষ্ট হচ্ছে। তারপরেও তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করছি। উপজেলায় সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি’’।
রাঙামাটির হ্রদ বেষ্টিত উপজেলা বিলাইছড়ি। জেলার সাথে যোগাযোগের বাহন লঞ্চ-বোট। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী জানান, ‘‘একেতো হ্রদ বেষ্টিত উপজেলা তার উপরে উপজেলার পাড়াগুলো একেকটি ছোট ছোট টিলায় কিংবা পাহাড়ের চুড়ায় হওয়াতে অনেকটা লক ডাউনের মতই আছে উপজেলাবাসী। এখান থেকে জেলায় বা অন্য উপজেলায় যাওয়ার বাহন যেহেতু বোট। আর সেই বোট চলাচলেও আমরা যথেষ্ট নজরদারি করছি। শুরু থেকেই আমরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে লোকজনদের উৎসাহিত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি স্থাপন করেছি। লোকজনদের সচেতন করতে এলাকায় মাইকিংসহ প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। ওয়ার্ড ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে। তারাও কাজ করছে। গ্রাম পুলিশকেও কাজে লাগিয়েছি। পুলিশ , সেনাবাহিনী ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিগণও সহযোগিতা করছেন। প্রতিদিনই তালিকানুযায়ী লোকজনদের ত্রান সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। যদিও বা এখানকার পাড়াগুলোর দূরত্ব বেশি এবং অনেকটা পথ পায়ে হেঁটেই যেতে হয়। তারপরেও নিজে গিয়েই লোকজনদের সহায়তা দিয়ে আসছি। প্রায় আটশত পরিবারকে ত্রান সহায়তা পৌঁছে দেয়ার কাজ চলছে। কোনো রকম যাতে দুর্নীতি না হয় সেজন্য ফোনে ফোনেও যোগাযোগ রাখছি। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ লোকজন ত্রান সহায়তা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে যারা এসেছিলেন তাদেরকে হোমকোয়ারান্টাইনে রাখার ব্যাপারে হেডম্যান-কার্বারী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও সহযোগিতা করছেন। উপজেলায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন এই ইউএনও’’।
জনসংখ্যার দিক দিয়ে দেশের সবচেয়ে ছোট উপজেলা রাজস্থলী। রাঙামাটি ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী এই উপজেলার পল্লীগুলোও বেশ দুর্গম। রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শেখ ছাদেক জানান, ‘‘এই উপজেলায় জনসংখ্যা কম, কিন্তু এখানকার পাড়াগুলো একটার চেয়ে আরেকটার দূরত্ব অনেক বেশি। তারপরেও সরকারি নির্দেশনা পেয়ে প্রতিদিন উপজেলার লোকজনদের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। উপজেলার এক হাজার ছয়শত লোকজনদের মাঝে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ লোকজন সহায়তা পেয়েছেন। আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে বাকি লোকজনের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। এ কাজে উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানগণও যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পুলিশ, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনও কাজ করে চলেছে। লোকজনদের সচেতন করতে ইতোমধ্যে মাইকিং সহ নানা প্রচার প্রচারনা করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে এই উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।’’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব …

Leave a Reply