নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / আলোচনায় আওয়ামীলীগের ৮ নেতা !
parbatyachattagram

২৫ নভেম্বরের সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক পদে

আলোচনায় আওয়ামীলীগের ৮ নেতা !

আসছে ২৫ নভেম্বর রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে ঘিরে জমে উঠেছে জেলার রাজনীতি। সভাপতি পদ নয়,গত তিন দশক ধরেই মূলত: সাধারন সম্পাদক পদ নিয়েই লড়াই হওয়া এই জেলায় এবারো এখন অবধি আটজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে নেতাকর্মীদের মুখে মুখে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে। যদিও এখনো প্রকাশ্যে মাঠে নামেননি কেউই। তবে থেমে নেই নিজস্ব স্টাইলের প্রচারণা,মোবাইল সংযোগ কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও দেখা সাক্ষাত। পাহাড়টোয়েন্টিফোর এর পলিটিক্যাল ইনভেস্টিগেজন টীম এন অনুসন্ধানে যাদের নাম পাওয়া গেছে সাধারন সম্পাদক হিসেবে তারা হলেন,বর্তমান সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর,সাবেক সাধারন সম্পাদক হাজী কামালউদ্দিন,বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জসীমউদ্দীন বাবুল,সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিন,বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক জমীরউদ্দীন, সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল,বর্তমান কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মমতাজুল হক, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী। এ আটজনের নামই শোনা যাচ্ছে সর্বত্র।

হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর : শহরের রিজার্ভবাজারের মাতব্বর পরিবারের সন্তান ও কাঠ ব্যবসায়ি হিসেবে পরিচিত মুছাকে বলা হয় রাঙামাটির রাজনীতির ‘সৌভাগ্যের বরপুত্র’। সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী মুছা সফল কাঠ ব্যবসায়ি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন শহরে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে নির্বাচিত হন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান। এরপর তিনি হেভিওয়েট কামালকে ভোটযুদ্ধে পরাজিত করে নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক। উপজেলা চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষে নির্বাচনে অংশ না নিলেও পরে তিনি মনোনীত হন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে। একদিকে দলের জেলা সম্পাদক আর সাথে প্রভাবশালী জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে গত কবছর জেলায় বেশ দাপটেই রাজনীতি করে যাওয়া মুছা এবারও জেলা সম্মেলনে একই পদে প্রার্থী এবং বেশ শক্তিশালী প্রার্থীই বলা যায়।

হাজী কামালউদ্দীন : মুছা মাতব্বরের কাছে পরাজিত হওয়ার আগে বেশ দাপটেই সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা কামাল,একসময়কার বিখ্যাত ফুটবলার। ক্রীড়া সংগঠক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তার আছে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিও। জেলা সম্পাদকের পদ হারানোর পর তিনি দলের আরেক নেতা মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্থলে মনোনীত হন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য হিসেবে। এবার সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী তিনিও। মুছার সাথে সম্ভবত সবচে কঠিন লড়াইটা শেষাবধি তারই হতে পারে।

আব্দুল মতিন : সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান জেলা কমিটির অন্যতম নেতা আব্দুল মতিন দলের পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিলেন একদা। কিন্তু দলের নেতাকর্মীদের একাংশের বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজিত হলেও নেতাকর্মীদের কাছে কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবেই পরিচিত তিনি। বিগত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া মতিন এবার সাধারন সম্পাদক পদে লড়তে চান।

জসীমউদ্দীন বাবুল : আওয়ামীলীগের তৃণমূলের কাছাকাছি থাকা এবং পরীক্ষিত নেতা জসীমউদ্দীন বাবুল। জেলায় যে কজন নেতাকে কর্মী অন্তপ্রান বলে প্রচার করা ও বিশ্বাস করা হয়,তাদেরই একজন বাবুল। মাঝে কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাবুল এবার সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে চান।

জমিরউদ্দীন : সাবেক যুবলীগ সভাপতি ও বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জমীর উদ্দিন রাঙামাটি পৌরসভারও একাধিকবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। আওয়ামীলীগের ত্যাগি ও পরীক্ষিত এই নেতা এবার জেলা আওয়ামীলীগের দ্বিতীয় শীর্ষ পদে লড়তে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। বরাবরই প্রতিবাদি ও ঠোঁটকাটা স্বভাবের জন্য আলোচিত এই নেতা প্রার্থী হলে জমবেও বেশ।

সাখাওয়াত হোসেন রুবেল : বর্তমানে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে টানা তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করা সাখাওয়াত হোসেন রুবেল একসময়কার ডাকসাইটে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা। ছিলেন রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ ও জেলা যুবলীগের সভাপতিও। এরপর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় রুবেল সর্বশেষ কাউন্সিলেও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। এবারো তিনি প্রার্থী হতে চান। ইতোমধ্যেই দাদা দীপংকর তালুকদারের সফরসঙ্গী হিসেবে বেশ কয়েকটি উপজেলায় যোগ দিয়েছেন দলীয় সম্মেলন ও বিভিন্ন কর্মসূচীতে।

মমতাজুল হক : রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম ত্যাগি ও পরীক্ষিত নেতাদের একজন মমতাজুল হক। ১৯৮৭ সাল থেকে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই নেতা হঠাৎ করেই এবার সাধারন সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন। এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছে বলছেন,তাকে নির্বাচিত করতে।

জাকির হোসেন চৌধুরী : সাধারন সম্পাদক পদে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের মধ্যে বয়সে সবচে নবীন জাকির হোসেন চৌধুরী। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি, এবারের জেলা সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক পদের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ইমেজও এর প্রার্থীও। মাঝে ৫ বছর পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকরের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা রাজনীতিতে তাকে কিছুটা পিছিয়ে দিলেও তিনি যচেষ্ট সেই পুরনো অবস্থান আবার পুনরুদ্ধার করতে। তারই ছোটভাই পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগ সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী। নানা পরিস্থিতি বিশ্লেষনে জাকির বেশ শক্তিশালি প্রার্থীও।

এখনো জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের প্রায় ১৫ দিন বাকি। প্রার্থী হিসেবে আপাতত এই ৮ জনের নাম শোনা গেলেও শেষাবধি এদের মধ্যে কয়জন রেসে থাকবেন,সেটা স্পষ্ট হতেও আরো সময় লাগবে। শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হয়ে মাঠে কে কে থাকবেন,তার উপরই নির্ভর করছে সাধারন সম্পাদক পদে আদৌ লড়াই হয় কিনা !

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১

বান্দরবানের হাফেজঘোনায় চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। পুলিশ …

Leave a Reply