পার্বত্য পুরাণলিড

আমিও শ্বাস নিতে পারছি না জর্জ ফ্লয়েড

আমাকে মুক্ত করে দাও ঈশ্বর।
আট মিনিট ছেচল্লিশ সেকেন্ড…
আমি আর শ্বাস নিতে পারছিনা।
বাঁচার আর্তি শুনে আরো জোরে চেপে বসলো ঘাড়ের ডানপাশে
শওভিনের কঠোর হাঁটু ।
বুকের ভেতর অবরুদ্ধ হলো শেষ নিঃশ্বাস।
এই পরিণতি তোমার বর্ণবাদের।
এ কেমন খেয়ালিপনা তোমার? বিশ্বসংসারে কেন এই অবিচার? কোন বিবেচনায় পৃথিবীর শাসনভার শ্বেতদের কব্জায়?
আর কোন অপরাধে কালোরা শোষিত, মজলুম।
কেন এই ধর্ম, বর্ণ, জাতের ভেদাভেদ।
কেনো শ্বাসরোধে হত্যা ?
কি অপরাধ?
জন্মই কি আজন্ম পাপ?
আমরা কি খুব বেশী অবাঞ্চিত? আমার রক্ত কি লাল নয়? তোমার নামে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও শওভিনের মন গলেনি কেন? প্রতিটি হত্যাই কি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ নয়? দেখো মানবতা জ্বলছে আজ আগুন হয়ে মিনেসোটা, ম্যানিয়াপোলিস, নিউইয়র্ক, ম্যানহাটন শহরে । মৃত্যুশোক শক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে আমেরিকার প্রতিটি ঘরে ঘরে জন্ম নিয়েছে ফ্লয়েড ।
আর কতো বিস্তৃত করবে তুমি বর্ণবাদী বৈষম্য, ফ্যাসিবাদী শাসন, পুঁজিবাদী শোষণ ?
লজ্জা আর ঘৃণায় নত হয়ে যায় স্ট্যাচু অব লিবার্টি।
ফ্লয়েডের স্তব্ধ হয়ে আসা কণ্ঠস্বর যখন পৃথিবীর বুকে এতোটুকু আশ্বাস খোঁজে,
তখন বধির হয়ে যায় হোয়াইট হাউজ, সিনেট, হাউজ অব লর্ডস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
তার নিস্পলক চোখে যখন অন্ধকার নামে,
নিয়ন আলোয় উদ্ভাসিত হয় এমেনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল।
তার আত্মচিৎকার যখন কেঁপে কেঁপে বাতাসে মিলিয়ে যায়
বালিয়াড়িতে মরুঝড়ে পড়া উটের মতো মুখ গুঁজে থাকে জাতিসংঘ।
জর্জ ফ্লয়েড কি বলতে চেয়েছিলে তুমি? নিজের? নাকি জগতজোড়া মানুষের কথা ?
তুমি পৃথিবীর মানুষকে ক্ষমা করে দিয়ো শেষ নিঃশ্বাস নিতে না দেয়ার জন্য।
তুমি যে রূদ্ধ করে দিলে পৃথিবীর নিঃশ্বাস!

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 − 5 =

Back to top button