খাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

আবুল খায়ের কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালায় তামাক কোম্পানি আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছে তামাক চাষিরা। চাষিদের দিয়ে তামাক চাষ করানোর পর চাহিদা অনুযায়ী পাতা না নেওয়া এবং প্রথম মানের পাতা ব্যাতিত দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মানের পাতা ক্রয় না করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, নিদ্দিষ্ট তামাক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয়ে তামাক চাষ করতে হয় চাষিদের। এক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশনভূক্ত চাষি অন্য কোম্পানিতে তামাক পাতা বিক্রয় করতে পারে না। স্ব স্ব তামাক কোম্পানির বাইং কোর্টে (বিক্রয় আদালত) চাষিদের নেওয়া পাতার গ্রেড (মান) নির্ধারণ করেন তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিরা। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় মানের পাতার মূল্যও হয় পৃথক পৃথক।

আবুল খায়ের কোম্পানির মধ্যবেতছড়ির তামাক চাষি বাবুল মিয়া (৩৫) জানান, ‘চার একর জমিতে তামাক চাষ করেছিলেন। কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার সময় জানিয়েছিলো, প্রতি একরে কমপক্ষে ৮০০ কেজি তামাক পাতা ক্রয় করা হবে। কিন্তু পাতা বিক্রয়ের জন্য নেওয়ার পর প্রতি একরে সর্বোচ্চ ৬০০ কেজির বেশি পাতা নিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শুধুমাত্র প্রথম মানের (এ গ্রেড) পাতা নেওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় মানের পাতা ফেরত দিয়েছেন। তাই বাইং কোর্ট থেকে প্রথম দিনেই প্রায় ৫০০ কেজি পাতা ফেরত আনতে হয়েছে। চাষের খরচের পর আবারো শ্রমিক দিয়ে পাতা বাছাই করানো, বেল (বাঁধাই) করানো এবং বাইং কোর্টে গাড়ি ভাড়া দিয়ে নিয়ে যাওয়ার খরচ পুরোটাই লোকসানে পরিনত হয়েছে।’

বাবুল মিয়ার দাবি, অন্যান্য তামাক কোম্পানি দ্বিতীয় ও তৃতীয় মানের পাতা ক্রয় করলেও শুধুমাত্র আবুল খায়ের কোম্পানি এর ব্যতিক্রম করছে। তাতে আবুল খায়ের কোম্পানির চাষিরা এখন বিপাকে।

আবুল খায়ের কোম্পানির প্রতি চাষিদের এমন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে চাষিদের দুর্ভোগের কথাও স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মাঠ সুপার ভাইজার কৃষ্ণ চাকমা। কৃষ্ণ চাকমা জানান, প্রতি একরে ৮০০কেজি পাতার পরিবর্তে এখন নিচ্ছে ৬০ কেজি। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় মানের পাতা না নেওয়ার কারণে চাষিরা বিপদে পরেছেন। তিনি মাঠ সুপারভাইজার তাই চাষিরা তাঁকেই এসব সমস্যার কথাগুলো বলছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে কথা বললেও কোম্পানি তাঁর কথার কোনও গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

তবে চাষিদের এমন অভিযোগের বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন আবুল খায়ের কোম্পানির খাগড়াছড়ির অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন। সাজ্জাদ জানান, ‘পাতা ক্রয় প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রথম মানের পাতার মূল্য দেওয়া হয়েছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকা এবং সর্বশেষ মানের পাতার মূল্য দেওয়া হয়েছে ৮৫ টাকা।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − 18 =

Back to top button