ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

আবার ফিসারি বাঁধে অবৈধ স্থাপনা !

বহু বছরের লড়াই সংগ্রাম আর চেষ্টার পর একটি ছাড়া সকল স্থাপনা অপসারণের পর রাঙামাটির ফিসারি সংযোগ সড়কটিকে ঘিরে যখন পর্যটন সম্ভাবনার বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে নয়নাভিরাম পরিকল্পনা, সেই সময়ে আবার এই সংযোগ সড়কেই আবার নির্মাণ করা হচ্ছে একটি বড় একচালা টিনের ঘর ! জানা গেছে, কয়েকজন মৎস ব্যবসায়ি মিলে এই ঘরটি নির্মাণ করছেন বরফ ভাঙ্গার জন্য।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ধারে ফিসারি বাঁধের উপরে এক চালা বিশিষ্ট টিনের ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। সেখানে কাজ করছে কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক। সেখানে থাকা মৎস্য ব্যবসায়ি জহিরুল ইসলাম টুলু জানান, এই টিনের সেটের নিচে শুধুমাত্র মাছের বরফ ভাঙ্গা হবে, তাও কিছু দিনের জন্য। বিএফডিসির ভিতরে তেমন কোন জায়গা না থাকায় ১০ জন মৎস্য ব্যবসায়ি মসজিদ কমিটি থেকে এই জায়গাটি ভাড়া নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, বিএফডিসির ব্যবস্থাপক এই বিষয়ে অবগত আছেন।

ফিসারি জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক এবং মৎস্য ব্যবসায়ি মো: হারুনুর রশিদও এই ঘর নির্মাণের অংশিদার। তার সাথে এ প্রসঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, বিএফডিসি’র ভিতরে এখন পর্যাপ্ত জায়গা নেই মাছ প্যাকিং ও বরফ ভাঙ্গার জন্য। তাই শুধুমাত্র বরফ ভাঙ্গার জন্য রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ি সমিতির চারজন এবং ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ি সমিতি ছয়জন মিলে এই টিনের ঘর তৈরি করছি। আমরা এই ঘরটি শুধু মাত্র আগামী দুই-তিন মাস ব্যবহার করবো। এটা অস্থায়ীভাবে করা হয়েছে। দুই-তিন মাস পরে আবারো ভেঙ্গে ফেলা হবে বলেও জানান তিনি।

রাঙামাটি বিএফডিসি ব্যবস্থাপক কমান্ডার আসাদ্জ্জুামান বলেন, ফিসারি মসজিদ এবং এর সংলগ্ন জায়গাটি আমার অধিনে, এটা আমি যে কোন কারণে ব্যবহার করতে পারি। আমার বিএফডিসি এলাকার ভিতরে মাছের বরফ ভাঙ্গার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই বলে আমি অস্থায়ীভাবে টিনের ঘর নির্মাণ করার জন্য মৎস্য ব্যবসায়িদের বলেছি। এতে করে কোন অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। আমার জায়গায় আমি যে কোন প্রয়োজনে, যে কোনভাবে ব্যবহার করতে পারি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে রাঙামাটির পরিবেশবাদি সংগঠন গ্লোবার ভিলেজ এর নির্বাহী প্রধান হেফাজত উল বারি সবুজ বলেন, অনেক লড়াই সংগ্রামের পর প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বছর কয়েক আগে ঠিক এই জায়গা থেকেই বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছিলো,একটি টিকে আছে উচ্চ আদালতে রিট করে। সেই একই স্থানে আবার স্থাপনা নির্মাণ অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা। সম্প্রতি এই ফিসারি সংযোগ সড়ককে ঘিরে যে পর্যটন মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে, এইরকম স্থাপনা নির্মাণের কারণে তা ব্যহত তবে।

এ বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি, রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।

উল্লেখ্য, গত বেশ কয়েক বছর পূর্বে একইস্থানে অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণের কথা বলে ঘর তৈরি করা হলে তা অপসারণে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রশাসনকে। শেষাবধি সবগুলো স্থাপনা অপসারণ করা হলেও, একট দোকানঘর আজও উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি । বাঁধে এমন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে ফিসারি বাঁধ ধসে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে অনেকে। একইসাথে পর্যটন নগরী রাঙামাটির সৌন্দর্যও ম্লান হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 + 1 =

Back to top button