নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / আলোকিত পাহাড় / আন্তরিকতাই দু’ভাইয়ের ব্যবসায়ের বড় পুঁজি
parbatyachattagram

আন্তরিকতাই দু’ভাইয়ের ব্যবসায়ের বড় পুঁজি

রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র রিজার্ভ বাজারে আবাহনী ক্লাবের সামনেই ‘প্রতিদিন সেলুন’ এর মালিক এবং নরসুন্দর কারিগর বিনু এবং নিরুর মুখের ব্যবহার ও আন্তরিকতাই মুগ্ধ রাঙামাটি শহরবাসি। ভাঙ্গা দোকানটিতে আধুনিকার কোন ছাপ নেই। নেই কোন দামী আসবাবপত্র, নেই প্রসাধনীসহ হেয়ার স্টাইল করার বিভিন্ন সরঞ্জামাদিও। তবুও ছোট বড় বিভিন্ন বয়সের কাস্টমারের ভিড় লেগেই থাকেন সব সময়।

প্রায় ৩০ বছর আগে বিনু ও নিরু এই দু’ভাই মিলে শহরের রিজার্ভ বাজারে প্রতিদিন সেলুন নামে একটি দোকান দেয়। তার আগে অন্য ভাইদের সাথে আট বছর কাজ শিখে বিনু আর নিরু। তখন থেকে এখনো পর্যন্ত শহরের অনেক নামি দামি মানুষ, সমাজকর্মী ,ব্যবসায়ি দিনমজুর, মানসিক রোগি ও প্রতিবন্দিসহ ছোট বড় বিভিন্ন বয়সের মানুষের চুল ও দাঁড়ি কামিয়ে মুগ্ধ সবাই।

তাদের মধ্যে শহরের হাজি মহসিন কোম্পানি এবং লঞ্চমালিক হাজি ইউছুপ আলীও প্রায় ২০ বছর ধরে বিনু এবং নিরুকে দিয়ে চুল ও দাঁড়ি কামিয়েছেন। বনরূপার কাঠালতলী থেকে হাজি আবদুল খালেক কোম্পানিকেও তারা দু’ভাই চুল ও দাঁড়ি কামিয়েছেন অনেক বছর ধরে।

রিজার্ভ বাজারের বাসায় গিয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ নজু কন্ট্রাক্টর সাহেবকে ২০ বছর ধরে নিয়মিত এখনো চুল ও দাঁড়ি কামিয়ে আসছেন। ১৫/২০ বছর ধরে নিয়মিত এখনো চুল ও দাঁড়ি কামিয়ে আসছেন লঞ্চমালিক গনি কোম্পানি ও মাছ ব্যবসায়ি শাহ আলমসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষসহ অনেক নামি দামি ব্যাবসায়িরাও।

দুলাল মিয়া নামে এক মৌসুমি ব্যবসায়ি বলেন, শহরে অনেকগুলো সেলুন থাকার পরেও আমি সুবলং থেকে এখানে এসে নিরু বা বিনুকে দিয়ে চুল দাঁড়ি কামিয়ে যাই। অন্যকোনও কারণে না শুধু তাদের মুখের ব্যবহার এবং আন্তরিকতার টানে ছুটে আসি। হাজি শফিউল আলম নামে এক প্রবাসী বলেন, তাদের দু’ভাইয়ের আন্তরিকতার জন্য একমাত্র তাদেরকে দিয়েই চুল দাঁড়ি কামিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। শহরের লঞ্চমালিক গনি কোম্পানি বলেন, আমি তাদের সহজ-সরল হাসি আর আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে ছুটে যায় ‘প্রতিদিন সেলুনে’।

প্রতিদিন সেলুনের নরসুন্দর কারিগর নিরু এবং বিনু বলেন, কোন মানসিক রোগি বা প্রতিবন্দীদের কাছ থেকে আমরা কোন পারিশ্রমিক নিই না এবং কোন দাবিও করি না। অনেক সময় অনেক অসুস্থ রোগিকে বাসাই গিয়েও আমরা চুলদাঁড়ি কামিয়ে আসি। ওনারা যা পারিশ্রমিক দেন তাই নিয়ে খুশিমনে চলে আসি। দোকানে অনেকে চুলদাঁড়ি কামাতে এসে টাকা দিতে না পারলেও আমরা কোন দাবি রাখি না তাদের কাছে।

আমাদের এই সেলুনে কাজ শিখেছে প্রায় ৩৫ জনের মতো। তারাও এখন দেশে এবং বিদেশে সেলুনের দোকান দিয়ে অনেকে আজ প্রতিষ্ঠিত। রোজার ঈদ এবং কোরবান ঈদে কাস্টমারের ভিড় থাকে বেশি। তবুও সকল কাস্টমারের মন আমাদের ব্যবহার ও আন্তরিকতা দিয়েই সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে যাই সব সময়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

অস্ত্রের মুখে রুমায় ৬ গ্রামবাসীকে অপহরণ 

বান্দরবানের রুমায় অস্ত্রের মুখে ৬ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা।  রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে পুলিশ …

Leave a Reply