ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

আনন্দের ঈদ যখন বিষাদের স্বরলিপিতে ভরা…

রাঙামাটি পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছে ১২০ জন মানুষ। তাদের প্রিয় জনের ঈদ কেমন কাটছে তা দেখতে সোমবার সকাল থেকেই পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমের কয়েকজন প্রতিবেদক ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছেন তাদের ঈদ আনন্দ,বিষাদ এবং বেদনার সাতকাহন। সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরে তারা দেখেছেন
প্রিয়জন হারানোর শোকে ঈদে যেনো কোন আনন্দ নেই তাদের চোখে মুখে। শুধু প্রিয় জনকে এই দিনে কাছে না পাওয়ার যন্ত্রণা ও বিষাদময় মুহুর্ত তাদের চার পাশ ঘিরে আছে যেনো।
স্বামী সন্তান হারানো জুলেখা খাতুন, তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদ আবার কি, আমার জীবনের সকল আনন্দতো কেরে নিয়েছে। আমার স্বামী, সন্তান, বাড়িঘর কিছুই নাই, আমি কি করবো, আমার যে এখন কোন স্থান নেই দাঁড়ানোর জন্য। স্বামী, সন্তান হারানো এই মধ্য বয়সী নারী তার স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দিয়ে, বলতে বলতে চোখের জল মুছে নিচ্ছিলেন বারবার, নিজেরই শাড়ির আঁচল দিয়ে। এক পর্যায়ে তিনি শাড়ির আঁচল ধরে বলেন, আমার খোকাকে আমি আর পামু না, এর ছেয়ে বেদনার কি হতে পারে। প্রিয়জন হারানো ঈদের বেদনা যেনো এই মহিলার চোখে স্পষ্ট দেখা মিললো।

বাতাসে স্বজনের শরীরের ঘ্রাণ
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। সারা দেশের মানুষ যখন ঈদে আনন্দ করছে, ঘুরে বেড়াছে তখন রাঙামাটির বহু মানুষ বাতাসে খুঁজে বেড়াচ্ছে তাদের প্রিয়জনের লাশের গন্ধ।
যে এলাকাগুলোতে পাহাড় ধস ঘটেছে, সেসব এলাকায় সকালে বহু মানুষের আনাগোণা দেখা গেলো। তারা যেনো বাতাসে খুঁজে বেড়াচ্ছে তাদেরই প্রিয়জনের শরীরের ঘ্রাণ, সাথে খোঁজার চেষ্টা যেনো বিগত সময়ের স্মৃতি,যা এখন কেবলই দীর্ঘশ্বাস। তার সাথে মিলিয়ে নিচ্ছেন প্রিয় মানুষটার শরীরের প্রিয় গন্ধখানা। সব মিলিয়ে ঈদের বাতাসে প্রিয় মানুষটার ছোঁয়া পেতে চাই তার স্বজনেরা।

প্রায় সবগুলো আশ্রয়কেন্দ্রের চিত্রই ছিলো দৃশ্যত একই রকম। কোথাও শোক ,কোথাও বেদনা,খানিকটা উচ্ছাসও। তবে শোক বা বেদনার আবহ সবচে বেশি ছিলো রাঙামাটি সরকারি কলেজ,বিএডিসি,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে। এখানেই যে স্বজন হারানো মানুষের সংখ্যাটা বেশি।

তবুও শোক আর বেদনায় কাটলো ঈদ। জীবন তার স্বাভাবিক নিয়মেই এগিয়ে যাবে। বেঁচে থাকা আত্মজরা বাতাসে খুঁজে ফিরবে প্রিয়জনের শরীরের ঘ্রাণ,যাদের অনুপস্থিতি কিছুটা হলেও এলোমেলো করে দেবে তাদের স্বাভাবিক জীবন।

 

(ঈদের দিন আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরে ঘুরে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন আমাদের প্রতিবেদক হেফাজত সবুজ,সাইফুল বিন হাসান,ইয়াছিন রানা সোহেল)

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 1 =

Back to top button