নীড় পাতা / ব্রেকিং / আত্মীয়-স্বজনের ঘরেই ঠাঁই পেল অগ্নিদুর্গতরা
parbatyachattagram

আত্মীয়-স্বজনের ঘরেই ঠাঁই পেল অগ্নিদুর্গতরা

মাসুম, বয়স ৮ বছর। সকাল বেলার নাস্তা সেরে ঘর থেকে বের হয়েছিলো বন্ধুদের সাথে খেলতে। হঠাৎ শুনলো পাড়ায় আগুন লেগেছে। দৌড়ে হাফিয়ে আসতে-আসতে ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে পুরো পাড়াটি। একই পাড়ার লিটন দাশ। সারাদিনের ব্যস্ততা ঝেড়ে রাত্রে শান্তির জন্য ঘুমালেন। কিন্তু সকালের ঘুম ভাঙল অশান্তির বার্তায়। তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেন পুরো পাড়াটি আগুনে জ্বলছে। তাই কোনও কিছু বুঝে উঠার আগেই এক কাপড়েই ঘর ছাড়তে হলো পুরো পরিবারকে নিয়ে।

গত রোববার রাঙামাটি শহরের বাণিজ্যিক এলাকাখ্যাত রিজার্ভবাজার মসজিদ কলোনী নিজাম টিলায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৮৪টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে পুরো পাড়ায় ৭৬টি পরিবার। রোববার আগুনের ঘটনার পর থেকেই ৭৬টি আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনের বাসায়। এ ঘটনার পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত আছে।

মঙ্গলবার দুপুরে পোড়া ভিটায় বসে রৌদ পৌহাচ্ছেন ঘরের মালিক মতিমালা (৬০)। তাঁর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘যখন পাড়ায় আগুন লাগছে, তখন যে যার মতো করে ঘর থেকে বের হয়ে গেছি। নদী পথে কয়েকটা লঞ্চ এসেছে, যে যার মতো করে এক কাপড়েই লঞ্চে উঠেছি বাঁচার তাগিদে। পুরো পাড়ার কেউই কিছুই সরাতে পারেনি। একেবারে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে ৭৬টি পরিবার।’

মতিমালার সাথেই বসে ছিলেন রেজিয়া বেগম (৬০) ও রাবেয়া বেগম (৬২)। তারাও দিলেন ওই দিনের ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা। বলেন, বাবা, ‘তুমি কও কেমনে কী সরামু? সবাই জান বাঁচাতেই দৌড়ে গিয়ে নৌকায় উঠছে। আর তখন পুরো পাড়ায় চারিদিকে আগুন আর আগুন। এখন আর কী করার আছে, দিনের বেলায় এখানে বসে থাকি। রাত হলেই যাই আত্মীয়-স্বজনের বাসায়।’

পাড়ায় ঢুকতে দেখা গেলে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে অগ্নিদুর্গতদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। এর আগে স্থানীয় এমপি গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ সহায়তা প্রদান করেন। ওখানে কম্বল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুন্নী আক্তার। তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন থেকেই কম-বেশ সহায়তা পাচ্ছে সবাই। কিন্তু এই সহায়তা তো সব ফিরে পাবো না। জানি না, এই সবকটি পরিবারকে উঠে দাঁড়াতে আরও কতদিন সময় লাগে।’

এ সময় কথা হয়েছিলো লিটন দাশের সাথে। তিনি জানান, ‘এদিন সকালে আগুন দেখে পরিবার নিয়ে এক কাপড়েই নৌকায় উঠলাম। এখনো এই এক কাপড়েই আছি।’

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে পিছন থেকে শিশু সন্তান কোলে নিয়ে ডেকে উঠেন এক নারী। বলেন, দাদা, আমার নাম টাও লিখেন। নিজের নাম জানিয়ে বেবী দাশ বলেন, ‘ঘরবাড়ি হারিয়ে বাপের বাড়িয়ে উঠেছি। আবার ঘরবাড়ি বাঁধতে পারলে এখানেই আসবো।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটি যুব রেড ক্রিসেন্ট’র সহশিক্ষা কার্যক্রমের  প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

যুব রেড ক্রিসেন্ট রাঙামাটি ইউনিট’র সহশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় দুইদিন ব্যাপী রেড ক্রস/ রেড ক্রিসেন্ট মৌলিক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen − ten =