বান্দরবানব্রেকিংলিড

আতঙ্কের নাম বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগা সড়ক

বান্দরবানের রাবার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগা সড়কপথ। গাড়ীর গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি এবং অপহরণ করে মুক্তিপন আদায় এখন সড়কে চলাচলকারী মানুষদের কাছে নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে তারপরও জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন এ সড়কে চলাচল করছে প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সঙ্গে কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগা পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার সড়কপথ রয়েছে। এ সড়কের একপ্রান্তে রয়েছে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এবং অপরপ্রান্তে রয়েছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। সড়কের মধ্যেখানে ২টি পুলিশ চৌকি এবং ঈদগড়ে একটি পুলিশ ক্যাম্পও রয়েছে। দীর্ঘ সড়কের অধিকাংশ এলাকায় নির্জন জনশূণ্য পাহাড়ী পথ। এ সড়কের সাতটি পয়েন্টে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গাড়ীর গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে মানুষদের ডাকাতি এবং অপহরণ করে ধরে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপন আদায় করছে। এগুলো হচেছ- হাতিভাঙ্গা, বেংডেফা, অলিরঝিরি, বৈধ্যপাড়া এবং ধুমচাকাটা, অর্জুন বাগান, চনখোলা। ২০১৪ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় চার বছরে প্রায় ৩৪ জন’কে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে মোটা অংকের মুক্তিপন আদায় করেছে সশস্ত্র ডাকাতরা। তারমধ্যে ২০১৪ সালে ১৫ জন, ২০১৫ সালে ১৩ জন, ২০১৬ সালে ৩ জন এবং ২০১৭ সালে ৩ জন। আর ডাকাতির ঘটনা ছাড়িয়েছে শতাধিক। ডাকাতের হামলায় আহত হয়েছে পুলিশ সদস্যও।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর বলেন, বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগা সড়কপথটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আতঙ্ক। গাড়ীর গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি এবং অপহরণ করে মুক্তিপন আদায় এখন সড়কে চলাচলকারীদের কাছে নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরো জোরদার এবং সড়কে পুলিশ ক্যাম্প, টহল বাড়ানোর দাবী জানাচ্ছি।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনু বলেন, বিকল্প রাস্তা না থাকায় রাবার শিল্পাঞ্চল বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়েই চলাচল করছে প্রতিদিন। হর হামেশাই এ সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।
২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় চার বছরে প্রায় ৩৪ জন’কে অস্ত্রের মুখে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে মোটা অংকের মুক্তিপন আদায় করেছে অপহৃতের পরিবারের কাছ থেকে। কক্সবাজার এবং বান্দরবান দুটি জেলার সীমান্ত এলাকা হওয়ায় সশস্ত্র ডাকাতরা ঘটনা ঘটিয়ে সহজেই পালিয়ে যায়। এ সড়কের নিরাপত্তায় নাইক্ষ্যংছড়ি এবং রামু দুটি উপজেলার প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বয় করে একসঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে এ সমস্যা থেকে উত্তোরণ সম্ভব হবে।
অপহৃত বাইশারী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নূরুল কবীর রাসেদ বলেন, গত’বছর আমরা তিন’জনকে গাড়ীর গতিরোধ করে অপহরণ করে চার লাখ আদায় করেছিল সশস্ত্র ডাকাতরা। গত’মাসের ৭ জুলাই সড়কের অলিরঝিরি থেকে ২ জন’কে অপহরণ করা হয়। অপহরণের আটদিন পর দেড়লাখ টাকা মুক্তিপন নিয়ে অপহৃদের ছেড়ে দেন ডাকাতরা। তারপরও সড়কের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছেনা।
অপহৃত পরিবারের সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, নিরাপত্তাহীনতায় বাইশারীতে রাবার শিল্পে নতুন বিনিয়োগ এবং ক্রেতাদের আগমন অনেক কমে গেছে। সড়কের নিরাপত্তায় অন্তত আরো দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং পুলিশের টহল টিমের সংখ্যা দ্বিগুন করার দাবী স্থানীয়দের।
জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ডাকাতি, অপহরণ, খুন’সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগা সড়কটি বান্দরবান এবং কক্সবাজারের দুটি উপজেলার সংযোগ সড়ক। সড়কের যে পয়েন্ট গুলোতে ডাকাতি এবং অপহরণের ঘটনাগুলো ঘটছে তার অধিকাংশই ঈদগড়ে। তারপরও সড়কের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button