রাঙামাটিলিড

আগস্টেও ৫০০ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ

প্রান্ত রনি ॥
প্রতিবছরই কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ আহরণ নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ভিজিএফ বরাদ্দের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পান জেলেরা। বরাদ্দের আওতায় হ্রদ তীরবর্তী রাঙামাটির আট উপজেলা এবং খাগড়াছড়ির দুই উপজেলার জেলেরা এই সহায়তার আওতায় আসে। তবে এবছর হ্রদে মাছ আহরণের নিয়মতান্ত্রিক নিষেধাজ্ঞা আরও এক মাস বৃদ্ধি হওয়ায় বাড়তি মাসেও ৫০০ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি বরাদ্দপত্র জারি করে। বরাদ্দপত্রে বলা হয়েছে, কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ বন্ধকালীন আগস্ট মাসের জন্য ২৫ হাজার ৩১টি মৎস্যজীবী পরিবারকে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৫০০ টন বিশেষ ভিজিএফ (চাল) খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। বরাদ্দের আওতায় কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দশ উপজেলার নিবন্ধিত মৎস্যজীবী পরিবার ২০ কেজি প্রতি চাল সহায়তা পাবেন।

বিশেষ ভিজিএফ বরাদ্দের আওতায় রাঙামাটির সদর উপজেলার ৪ হাজার ৯৬৫ জন জেলে ৯৯ দশমিক ৩০ টন; লংগদু উপজেলার ৮ হাজার ৫৮১ জন জেলে ১৭১ দশমিক ৬২ টন, বাঘাইছড়ি উপজেলার ১ হাজার ৭০৫ জন জেলে ৩৪ দশমিক ১০ টন, নানিয়ারচর উপজেলার ১ হাজার ৮৬৩ জন জেলে ৩৭ দশমিক ২৬ টন, কাপ্তাই উপজেলার ৭০২ জন জেলে ১৪ দশমিক ৪ টন, বিলাইছড়ি উপজেলার ১ হাজার ৭৭ জন জেলে ২১ দশমিক ৫৪ টন, জুরাছড়ি উপজেলার ৪০৭ জন জেলে ৮ দশমিক ১৪ টন, বরকল উপজেলার ২ হাজার ৯৫৫ জন জেলে ৫৯ দশমিক ১০ টন এবং খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ১ হাজার ৫৯১ জন জেলে ৩১ দশমিক ৮২ টন, দীঘিনালা উপজেলার ১ হাজার ১৮৫ জন জেলে ২৩ দশমিক ৭০ টন খাদ্যশস্য পাবেন। বরাদ্দপত্রে আগস্ট মাসের মধ্যেই বরাদ্দের উত্তোলন, বিতরণ ও নিরীক্ষার জন্য সংশিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর আগে নিয়মতান্ত্রিক তিন মাস নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ের জন্য ২৫ হাজার ৩১টি জেলে পরিবারের জন্য ১ হাজার ৩৩৫ টন ভিজিএফ খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মাছ ধরা বন্ধকালীন তিন মাস সময়ের মধ্যে বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

আগস্ট মাসের বাড়তি বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, রাঙামাটির আট উপজেলার ২২ হাজার ২৫৫ জেলে পরিবারের জন্য ৪৪৫ দশমিক ১ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ এসেছে। আমরা জেলা প্রশাসন থেকে ইউএনও’দের বরাদ্দ দিয়ে দিব, উপজেলা প্রশাসন সেটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ এ প্রসঙ্গে বলেন, কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার জেলেদের জন্য ইতোমধ্যে বাড়তি একমাস (আগস্ট) নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ের জন্য ৫০০ টন ভিজিএফ খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। অতি শীঘ্রই জেলে পরিবারের মাঝে বরাদ্দের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণে প্রতিবছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস সব ধরনের মাছ শিকার, বাজারজাতকরণ এবং পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জেলাপ্রশাসন। এ বছরও নিষেধাজ্ঞার সময় তিনমাস দেয়া হলেও হ্রদে পর্যাপ্ত পানি না বাড়ায় তিন দফায় আরো এক মাস (আগস্ট) হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ থাকে। নিষেধাজ্ঞার তিন মাসে ২৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবার প্রতিমাসে বিশেষ ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য হিসেবে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা পান। তবে এবার নিষেধাজ্ঞার সময় এক মাস বৃদ্ধি হওয়ায় বাড়তি আগস্ট মাসের জন্য ৫০০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button