ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

আকবর-মামুনের ‘জেন্টলম্যান ফাইট’ ?

রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচন

একজন ব্যাচ-৮৬’র অন্যজন ব্যাচ-৯২’র, একজন আওয়ামীলীগের নৌকার,অন্যজন বিএনপির ধানের শীষের, এই দুই বড় পার্থক্য ছাড়া এই দুজনের চলনে বলনে,কথনে ভাষণে,খুব একটা পার্থক্য খুঁজে বের করা মুশকিল বটে ! বরং বৈপরীত্বের চেয়েও সমভাবনা পাওয়াই খুব সহজ। দুজনই সাবেক রোটারিয়ান,ছিলেন রেডক্রিসেন্টেও,আছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থায় একই পদ ‘সহসভাপতি’ হিসেবে। ছাত্রজীবন থেকেই নিজ নিজ দলের প্রতিটি পদক্ষেপ ডিঙ্গিয়ে এসেছেন গনতান্ত্রিক চর্চায়। ব্যক্তিগত জীবনের দুজনই যেনো ‘নিপাট ভদ্রলোক’র প্রতিচ্ছবি। দুজনের কারো বিরুদ্ধেই নেই ‘সাম্প্রদায়িক মনোভাব’ এর অভিযোগের তীর,বরং জাতিগত বিদ্বেষ আর অসহিঞ্চুতার জনপদে যেনো ‘সৌভ্রাতৃত্ব আর অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক’ দুজনই !
সবমিলিয়ে দুই দলের,দুই আদর্শের,দুই প্রতীকের, দুই তরুণ ও জনপ্রিয় নেতার লড়াই দেখার জন্য যেনো মুখিয়ে আছে পার্বত্য শহর রাঙামাটি।
আকবর হোসেন চৌধুরী,জেলা যুবলীগের সভাপতি,তাও বছর সাতেক পেরিয়ে গেছে। ছিলেন রাঙামাটি কলেজ ছাত্রলীগ,জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিও। ‘সার্থক পদধারী’ রাজনৈতিক কর্মী থেকে নেতায় উত্তরণের বাস্তব উদাহরণ যেনো তিনি। যুবলীগের সভাপতি হয়ে,হয়েছেন পৌর মেয়রও। বর্তমান মেয়র হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন শেষে,নানা প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে ফের পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন। সঙ্গত কারণেই তার চেষ্টা থাকবে,যেকোন মূল্যে বিজয়ী হওয়ার। তার বড় ভাই জাকির হোসেন চৌধুরীও আওয়ামীলীগ নেতা এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। ‘নিপাট ভদ্রলোক’ জাকিরের ছায়া আছে ‘আকবর’র এর রাজনীতিতেও।

বিপরীতে বিএনপির মামুনের পিতা আলহাজ্ব নাজিমউদ্দিন আহমেদকে বলা হয় রাঙামাটি বিএনপির প্রাণপুরুষ। তার হাত ধরেই পার্বত্য এই জেলায় বিকশিত হয়েছে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি। পারিবারিক রক্তের স্রোতধারায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় মামুন ছেলেবেলা থেকেই। রাঙামাটি কলেজ,জেলা ছাত্রদলে শীর্ষ নেতৃত্ব পার হয়ে এসে দায়িত্ব পালন করছেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে। সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মামুনকে প্রার্থী করাটা বিএনপির কৌশলী অবস্থান বলে মানছেন,ভিন্ন মতাবলম্বীরাও।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আকবর এবং মামুন দুজনই। রাঙামাটিবাসিও প্রত্যাশা করছেন, দুই ‘জেন্টলম্যান’র  লড়াইটাও হোক ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’র মতোই,যেখানে ‘জোর জবরদস্তি’ নয়,ইভিএম মেশিনে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে নিজেদের নগরপিতা বেছে নিবেন পাহাড়ী শহর রাঙামাটির ৬২ হাজার ৮৮৪ জন নির্বাচক। প্রচারনায় কিংবা আচরনবিধি মানায় যেমন ‍দুজনই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিবেন, তেমনি পারষ্পরিক কাদাছোঁড়াছুঁড়িতে মত্ত হবেন না দুজনের কেউই, এমন প্রত্যাশা হ্রদ পাহাড় ঘেরা এই পৌরসভার নাগরিকদের।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button