খাগড়াছড়ি

আওয়ামীলীগ নেতার পাহাড় কাটা তদন্তে সরেজমিনে ইউএনও

দীঘিনালা প্রতিনিধি
বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদের সত্যতা পাওয়া গেলেও অভিযুক্তকে না পেয়ে তাৎক্ষনিক আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জনিয়েছেন নির্বাহী অফিসার।
জানা যায়, গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আরাফাতুল আলম। সঙ্গে যান সংশ্লিষ্ট মেরুং ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম লাকিসহ স্থানীয় লোকজন।
সেখানে উপস্থিত থাকা স্থানীয় অনেকে , নির্বাহী কর্মকর্তা পরিদর্শনে যাওয়ার আগে পাহাড়ের কর্তনকৃত জায়গাটিতে গোবর ছিটিয়ে রাখা হয়। আর তা দিয়ে পরিদর্শন টিমকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে এটি পুরাতন একটি খামারের কাজ। অভিযুক্তের পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে, একটি খামার তৈরির জন্য এরকম মাটি কাটা অস্বাভাবিক না।
তখন স্থানীয় অনেকেই রাতের আঁধারে পেলোডার দিয়ে পাহাড় কাটার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিদর্শন টিমকে। এরকম একজন ছোটমেরুং বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আলী কালের কন্ঠকে জানান, পরিদর্শনের সময় ঘটনাস্থলে তিনিও ছিলেন। পাহাড় কাটার সত্যতা সম্পর্কে তিনিও বলেছেন। কিন্তু অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা নুরুল কালাম ভূট্টোকে সেখানে উপস্থিত করার চেষ্টা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা; উপস্থিত করা সম্ভব হয়নি।
মেরুং ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম লাকি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পেলোডার দিয়ে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে; যা ইউএনও স্যার নিজেও দেখেছেন।’
অপরদিকে খাগড়াছড়ি বার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক এড. আক্তার উদ্দিন মামুন বলেন, ‘আইন লঙ্ঘন করে পাহাড় কাটার মতো অপরাধ করলে সেটাকে ভূল হিসেবে দেখার কোন সুযোগ নাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন (সংশোধন) আইন- ২০১০-এর ৪ ধারার ৬ (খ) এ বলা আছে, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কতৃক সরকারী বা আধা সরকারী বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইবেনা।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আরাফাতুল আলম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পাহাড়টি কাটা হয়েছে যা সর্বশেষ ২/১ দিন আগের কাজ। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি, এবং পাহাড় কাটায় ব্যাবহৃত কোন যন্ত্রপাতিও না পাওয়ায় তাৎক্ষনিক আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তকে কাগজপত্র সহ অফিসে হাজির করার জন্য চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারী জমি না ব্যাক্তিগত জমি এবং পাহাড় কাটার অপরাধ সব ধরন বুঝে তখন আইনানুগভাবে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
প্রসঙ্ড়ত, মেরুং ইউনিয়ন (দক্ষিন) আওয়ামীলীগ কমিটির সহসভাপতি নুরুল কালাম ওরফে ভূট্টো প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গভীর রাতে পেলোডার দিয়ে উপজেলার ছোটমেরুং-ছোংড়াছড়ি সড়কের ১৬ নম্বর নামক স্থানে মসজিদের পাশে পাহাড় কাটছেন। এক সপ্তাহে বিশাল একটি পাহাড় কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঘটনাটি রহস্যজনক ভাবে কারো চোখে পড়ছেনা

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + four =

Back to top button