রাঙামাটিলিড

আইসিইউ ও অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসছে রাঙামাটি হাসপাতালে

মাসিক আইনশৃংখলা সভায় জানালেন সিভিল সার্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটির সার্বিক আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে মাসিক সভা রবিবার সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মলন কক্ষে জেলাপ্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার শুরুতেই জেলার সার্বিক পরিস্থিতি চিত্র এবং বিগত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহ উত্থাপন করা হয়। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করে জনপ্রতিনিধি, সুধীজন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নানান ইস্যুতে আলোচনা করেন।

জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে জুরাছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, জুরাছড়ি স্বাস্থ্য কম্পেক্সের অবস্থা খুবই নাজুক, জরাজীর্ণ ভবনের ফলে সাধারণ মানুষের সেবা পেতে কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

সিভিল সার্জন ডা: বিপাশ খীসা জেলার স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে বলেন, গত ৩ মাসে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে, তবে সেটা উদ্বেগ জনক নয়। তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের পিসিআর ল্যাব রয়েছে, তার সক্ষমতাও অনেক, কিন্তু ক্ষমতার অর্ধেকও কাজ হচ্ছেনা। মানুষ টেস্ট করাচ্ছে না। অসুস্থতা অনুভব করলে জনগণকে টেস্ট করানোর অনুরোধ করেন তিনি।

সিভিল সার্জন বলেন, করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের তালিকা প্রণনয়নের জন্য কেন্দ্রীয় নির্দশনা মোতাবেক ১৬ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করে পাঠানো হয়েছে, কমিটিতে উপদেষ্টা হিসিবে আছেন আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, সভাপতি হিসাবে রয়েছেন জেলা প্রশাসক, সদস্য সচিব সিভিল সার্জন, এছাড়াও সুশীল সমাজ এনজিও প্রতিনিধিগনও রয়েছে এই কমিটিতে। কেন্দ্র থেকে তালিকা প্রনয়নের জন্য এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি, আসা মাত্রই সে নির্দশনা মোতাবেক তালিকার প্রনয়নের কাজ শুরু করতে পারব।

তরল অক্সিজেন সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জেনারেল হাসপাতালের জন্য কেন্দ্রীয় তরল অক্সিজেন সরবরাহ প্লান্ট পেয়েছি, সহসাই কাজ শুরু হবে। তবে এর একটা খারাপ দিকও সামনে চলে এসেছে। এই প্ল্যান্ট চালু হলে করোনা রোগীদের সদর হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। এমনিতেই আমাদের ৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০০ শয্যার সেবা দিতে হচ্ছে। কোভিড রোগীর জন্য যদি একটি ফ্লোর ছেড়ে দিতে হয় তাহলে সাধারণ রোগী ভর্তির করার সংখ্যা আস্বাভাবিক হারে কমিয়ে দিতে হবে। আমাদের হাসপাতালে শিশুর বিশেষ পরিচর্যার জন্য আধুনিক কেয়ার সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ফলে জায়গা অনেক কমে গেছে। তবে আশার কথা হলো জেলা পরিষদ আমাদের অক্সিজেন সিস্টেম চালু করার জন্য টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলো, সেটা না করাতে টাকা রয়ে গেছে, এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি, সেই টাকা দিয়ে হাসপাতাল চত্বরে কোভিট রোগীদের চিকিৎসা দেবার জন্য পৃথক ঘর তৈরি করে দিতে পারেন কিনা। তাহলে হাসপাতালে আসন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

আইসিইউ সম্পর্কে বিপাশ খীসা বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালের জন্য অনুমোদিত আইসিইউ’র কাজও শুরু হবে, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশও দিয়ে দেয়া হয়েছে, রাঙামাটি তালিকার ৩ নাম্বারে আছে। জুরাছড়ি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাঙামাটিতে ৯ টি হাসপাতাল মন্ত্রনালয়ের তালিকায় আছে এর মধ্যে ২টি উদ্বোধন হয়ে গেছে, ৩টার কাজ প্রায় শেষ ৪টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button