খাগড়াছড়িবান্দরবানব্রেকিংরাঙামাটিলিড

অ্যাডভেঞ্চার দিয়েই শুরু বঙ্গবন্ধু জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার উৎসব

সচরাচর সাধারনের কাছে খুব বেশি পরিচিত কিংবা জনপ্রিয় নয়, কিন্তু বিশ^ব্যাপি ট্রাভেলার আর অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষের কাছে রয়েছে পৃথক এবং অসাধারন আবেদন, এমন সব ইভেন্ট এর প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন আর প্রদর্শন নিয়েই পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে  বঙ্গবন্ধু জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার উৎসব। শনিবার সকালে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলি কলেজ মাঠে বঙ্গবন্ধু জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার উৎসবের পাঁচদিন ব্যাপী বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার ইভেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক।
মুজিববর্ষকে সামনে রেখে এটাই বাংলাদেশের প্রথম কোন কার্যক্রম, যার আয়োজন পাহাড়ের উন্নয়নে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করা সরকারি প্রতিষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন এককভাবে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেওয়া ফ্রান্সের এনি কুইন মেরী,রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর প্রমুখ।

উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘পার্বত্য তিন জেলায় পর্যটন বিকাশের অপার সম্ভাবনা থাকার পরও পরিকল্পনার অভাবে পর্যটন বিকাশ সম্ভব হয়নি। এধরনের অনুষ্ঠান পর্যটন বিকাশে ভূমিকা রাখবে। আমি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের এই ব্যতিক্রমি আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই।’

এইসময় রাজাকারের তালিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রাজাকারের নাম তালিকায় যেভাবে আছে সেভাবেই প্রকাশ করা হবে। কোন রাঘবোয়াল বা চুনো পুটিরও নামও বাদ যাওয়ার সুযোগ নেই। রাজাকারের সন্তানরা সরকারী চাকুরী করছেন, তাদের ব্যাপারে কোন সিন্ধান্ত নিচ্ছে কিনা সরকার, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, এই বিষয়ে আলোচনা চলছে, এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।’

বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দ্যেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ১১-১৫ জানুয়ারী তিন পার্বত্য জেলায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার উৎসব শুরু হলো। এতে দেশি-বেদেশি অ্যাডভেঞ্চার ১০০ জনকে বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মনোনীত করা হয়েছে, তার মধ্যে স্থানীয় ৩১জন, দেশের অন্যান্য এলাকার ৫৩জন এবং ১৬জন বিদেশি এই অ্যাডভেঞ্চারের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি রাঙামাটিতে উৎসবের সমাপনী দিনে এভারেষ্ট বিজয়ী প্রথম নারী নিশাত মজুমদারকে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার সম্মাননা’ প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য(পরিকল্পনা) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী।

অ্যাডভেঞ্চার উৎসবে থাকছে মাউন্টেইন বাইকিং, কায়াকিং, ক্যানিওনিং, কেভ ডিসকভারি, হাইকিং, ট্রেইল রান, রোপ কোর্স, টিম বিল্ডিং, টি ট্রেইল হাইকিং, সেইলিং বোটসহ বিভিন্ন ইভেন্ট। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় ক্রীড়াবিদরা এইসব প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button