নীড় পাতা / ব্রেকিং / অসচেতনতায় প্রাণহানি বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদে
parbatyachattagram

নৌ-ভ্রমণে আতঙ্কিত পর্যটক

অসচেতনতায় প্রাণহানি বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদে

পর্যটন শহর রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণ। তবে এই নৌ-ভ্রমণ খুব একটা নিরাপদ নয় পর্যটকদের জন্য। কেন না হ্রদে যে ৫ শতাধিক নৌযানে চড়ে পর্যটকরা হ্রদে ঘুরে বেড়ায় তাতে থাকে না পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম। আবার এসব নৌযান চলাচলে নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ, নেই বেশিরভাগের ফিটনেসও। অনেকেই বহন করছেন অতিরিক্ত যাত্রী। নৌকায় লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় নৌকাডুবিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো সম্প্রতি। প্রতিবছর রাঙামাটিতে প্রায় ৫ লাখ পর্যটক ভ্রমণে আসেন। এরমধ্যে অর্ধেক পর্যটক নৌ-পথে সুবলং ঝর্না ও পাহাড় দর্শনে যায়। হ্রদে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত এখন রাঙামাটি বেড়াতে আসা পর্যটকরা। তবে সম্প্রতি নৌ-দুর্ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

শুক্রবারের নৌডুবি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সুমন জানান, সেদিন পর্যটন এলাকায় মানুষের ভীড় থাকায় যে যেভাবে পেরেছে বোটে ওঠেছে। নিরাপত্তা সরঞ্জাম আছে কিনা সেটি কেউ খেয়াল রাখেনি। একজন পর্যটক হিসেবে এসব বিষয় খেয়াল রাখা আমাদের জরুরি ছিল। লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলে এতো প্রাণহানির ঘটনা হতো না।

চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটি বেড়াতে আসা আসমা বেগম জানান, রশুক্রবারে নৌ-ডুবি ঘটনার পর নৌ-ভ্রমনে মনে ভয় ডুকেছে। রাঙামাটি এসে নৌ ভ্রমণ করতে না পারায় মনে আক্ষেপও রয়েছে। এখন থেকে বোট মালিকদের আরও সর্তক হওয়া, সাথে সাথে যারা ভ্রমণে যাচ্ছেন তাদেরও অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কারণ সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। ঢাকা থেকে আসা মো. মাসুদ মিয়া অভিযোগ করেন, যেসব লাইফ জ্যাকেট দেয়া হচ্ছে তা খুব ময়লা এবং দুর্গন্ধযুক্ত। প্রশাসনিকভাবে বাধ্যতামূলক করার কারণে আমাদের এসব দিয়েছে, কিন্তু এগুলো গায়ে দেয়ার মত না।

পর্যটন বোট ঘাটের ইজারাদার রহমত আলী চৌধুরী বলেন, যে ঘটনা ঘটে গেছে তার পর থেকেই আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে কাউকে ভ্রমণ করতে দিচ্ছি না। বোট ছাড়ার আগে লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হচ্ছে। যেসব বোটে ময়লা লাইফ জ্যাকেট রয়েছে তা সরিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন দেওয়ার জন্য বলা রয়েছে।

রাঙামাটি জেলা বিআইডাব্লিউটিএ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন জানান,‘রাঙামাটিতে কোনো ভাল বোট নেই। সবগুলো ছোট ছোট বোট, নিজেরাই বানিয়েছে এইগুলো। গত শুক্রবারের ঘটনার পর আমরা আরও সর্তক অবস্থায় আছি। লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকলে এমন কোন বোট ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে না এবং সাথে বোটের ফিটনেসও দেখতেছি।’

এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, সব বোটের ফিটনেস থাকতে হবে এবং প্রত্যক যাত্রীর জন্য একটি করে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক দিতে হবে এবং কোনো বোটে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। যেসব বোট এসব আইন মানবে না তাদের বোট কাপ্তাই হ্রদে চলতে পারবে না। হ্রদ ভ্রমণে আরও আকর্ষণীয় ও নিরাপদ করার জন্য কাজ করছি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাবা মায়ের সাথে দুই শিশুর দীর্ঘ ‘অমানবিক পথ হাঁটা’ !

আব্দুল, বয়স আনুমানিক ৬, লাকি’র আনুমানিক ৩। তারা বাবা মায়ের সাথে হেঁটেই রওয়ানা দিয়েছে, গন্তব্য …

Leave a Reply