ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

অর্ধশত কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে নীতিশ-সমরেশ বিরোধ

হত্যাচেষ্টা মামলা থানায়,সমঝোতার একাধিক উদ্যোগও ব্যর্থ

পৈত্রিক প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে রাঙামাটি শহরের শশী দেওয়ান পাড়ায় ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন বড় ভাই। তবে ছোটভাই বলছেন-বড়ভাইয়ের পরিবারের প্রতিহিংসার জবাবে সেটা ছিলো ‘নিছক ভুল বোঝাবুঝি’ !

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম নির্বাহী প্রকৌশলী পুলিন চন্দ্র দেওয়ানের পুত্র নীতিশ দেওয়ান বাদি হয়ে তার ভাই সমরেশ দেওয়ান, ভ্রাতৃবধূ রূপা দেওয়ান এবং ভাতিজা মনোরম দেওয়ানের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগকারি নীতিশ দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা এবং অভিযুক্ত সমরেশ দেওয়ান রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও বনরূপার সমতাঘাটে অবস্থিত সমতা স’মিল এর মালিক। এদের দুজনের পিতা প্রয়াত পুলিন চন্দ্র দেওয়ান সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন।

মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, পারিবারিক সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সোয়া পাঁচটার সময় আসামীরা বাদি ও তার পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ধারালো দা নিয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালায়,দরজা কেটে ফেলে এবং ভাংচুর করে। একইসাথে জোরপূর্বক ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। জোরপূর্বক ঘরে ঢুকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বাগানের ফুল গাছ কেটে দেয়। আসামীদের তান্ডব চলাকালে ৯৯৯ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়।’

বাদি নীতিশ দেওয়ান অভিযোগ করেছেন, পারিবারিক সম্পত্তির ভাগ বন্টনের বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

নীতিশ দেওয়ান বলেন,সম্পত্তির বিষয়টি আদালতে সমাধান হবে,আদালত যা রায় দেবে আমি সেটাই মাথা পেতে নিব। কিন্তু এভাবে আমাদের উপর হামলা,প্রাণনাশের চেষ্টা এবং ক্ষতিসাধন অনভিপ্রেত। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।’

বড়ড় ভাই নীতিশ দেওয়ানের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ছোটভাই সমরেশ দেওয়ান বলেছেন-‘ পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে মামলা চলছে আমাদের। বিভিন্ন সময় প্রয়াত সুবিমল দেওয়ান,একে দেওয়ান,সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাসানসহ অনেকেই সামাজিকভাবে আমাদের বিরোধ মিটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন,কিন্তু আমার ভাইয়ের পরিবারের অনমনীয় মনোভাবের কারণে সমস্যার সুরাহা হয়নি।’

সমরেশ দেওয়ান বলেন-‘মুশকিল হলো আমার ভাই পৈত্রিক সম্পত্তি এবং আমার নিজের উপার্জিত ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে একসাথে মিলিয়ে ফেলছেন। ওনি আমার নিজের কষ্টে শ্রমে অর্জিত সম্পত্তিকেও নিজের বলে দাবি করে সেটার ভাগ চাইছেন। এই কারণেই আমার আপত্তি।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, নীতিশ দেওয়ান শান্তিবাহিনীর সাবেক সদস্য। সে ও তার পরিবার আমার স’মিলের কর্মচারি অপহরণ,স’মিলে আগুন দেয়া এবং আমার বাগান ভাংচুরের ঘটনার ঘটনা ঘটিয়েছে। এইসব কারণে আমি জীবনহানির ঝুঁকিতে থাকি।’

তবে সমরেশ দেওয়ানের এই অভিযোগ দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করেছেন নীতিশ দেওয়ান। তিনি বলেছেন- সে একজন মিথ্যুক। আমি গত ২৪ বছর সরকারি চাকুরি করেছি,সরকারি নিয়ম অনুসারে অবসর নিয়েছি। সে এখন নতুন করে এসব অভিযোগ করে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করছে। সে আমার জন্মজনদ জাল করেছে, আমার বুড়ো মা’কে তাজ্যপুত্র করিয়েছে। সে এখন কপট এবং লোভি ব্যক্তি, যে নিজের আত্মজদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করছে।’

নীতিশ দেওয়ান বলেন- যদি তার স’মিলের কর্মচারি অপহরণ ও আগুন দেয়ার ঘটনার সাথে আমি বা আমার পরিবার জড়িত থাকি,তবে তখন দায়ের করা অভিযোগ সে কেনো আমাদের নাম দেয়নি ? এসব বিষয় আমরা জানিওনা। এসব ঘটনার সাথে এখন সে আমাদের জড়িয়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন- ‘কোনটা পৈত্রিক সম্পত্তি আর কোনটা পৈত্রিক সম্পত্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে,সেটা আদালত সিদ্ধান্ত নিবেন। আদালত যাই বলে সেটাই আমি মাথা পেতে নিব।’ তিনি জানান, চাকমা সার্কেল চীফ মধ্যস্থতা করে আমাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন,কিন্তু সমরেশ তাও মানেননি।

জানা গেছে, সমতাঘাটের সমতা স’মিলসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ার নিয়েই দুই ভাইয়ের বিরোধ চলছে। ইতোমধ্যেই আদালতে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে করা মামলায় যুগ্ম জেলা জজ আদালত,জেলা জজ আদালত এবং রিভিশন আদালতে নিজের পক্ষে রায় পাওয়ার কথা জানিয়েছেন নীতিশ দেওয়ান। তবে আদালতের আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করেছেন সমরেশ দেওয়ান।

এই বিষয়ে রাঙামাটির কোতয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ পুলিশ পরিদর্শক সাগর বড়ুয়া জানিয়েছেন, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বড় ভাই নীতিশ দেওয়ান ও ছোট ভাই সমরেশ দেওয়ানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে, এরই মধ্যে গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর দুই দফায় সমরেশ দেওয়ানের পরিবার নীতিশ দেওয়ানের পরিবারের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ পেয়ে আমরা সেখানে যাই এবং নীতিশ দেওয়ানের দায়ের করা মামলার অভিযোগ আমি তদন্ত করছি। আসামীরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। যেহেতু ঘটনাটি একই পরিবারের এবং দুপক্ষই শহরের অভিজাত পরিবার এবং তাদের সম্পত্তি বিষয়ক বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারধীন আছে,তাই আমরা পুরো বিষয়টি সেভাবেই দেখছি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button