পার্বত্য উন্নয়নলিড

‘অবাক ভালোবাসা’র বিস্ময় তাদের চোখেমুখে

শো-রুম উদ্বোধনের ব্যতিক্রমী আয়োজনে চার ব্যবসায়ি

অরণ্য ইমতিয়াজ

এমন ঘটনা খুব একটা ঘটেনা বলেই হয়ত বিস্ময় সবার চোখে মুখে। আমন্ত্রিত চার অতিথি তো বটেই,উপস্থিত শ’খানেক মানুষের চোখেমুখেও যেনো ‘অবাক হওয়ার’র ঝিলিক। যেকোন অনুষ্ঠানে চেনা অতিথি হিসেবে কথিত ‘বিশিষ্টজন’দের এড়িয়ে, প্রাদপ্রদীপের বরাবরই আড়ালে থাকা চার আজীবনের সংগ্রামী অথচ সফল মানুষকে দিয়ে নতুন কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করানোটা বেশ ব্যতিক্রমই বৈকি ! বুধবার হ্রদ পাহাড়ের শহর রাঙামাটিতে, এমন ঘটনাটি আলোচিত হচ্ছে শহরজুড়েও।

শহরের প্রাণকেন্দ্র কাঠালতলী প্রধান সড়কের পাশের দ্বিতীয় তলায় যাত্রা শুরু করা বিশ^খ্যাত ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড স্যামসাং এর স্মার্ট প্লাজা এবং আন্তর্জাতিক নানা ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডের জেলার একমাত্র অনুমোদিত পরিবেশক রাঙামাটি ইলেকট্রনিক্স’র নিজস্ব শো-রুম উদ্বোধন করেছেন রাঙামাটির চার বিশিষ্ট ব্যবসায়ি উত্তম দে, মাহাফুজ উদ্দীন,আবু নাসের বিপ্লব এবং আকতার হোসেন। শহরবাসির বেশ চেনা এই চার ব্যবসায়ি নিজস্ব যোগ্যতা,পরিশ্রম আর মেধায় তৈরি করে নিয়েছেন নিজেদের অবস্থান। কোন প্রকার পৈত্রিক সম্পদ বা দান অনুদান নয়,কিংবা রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে পাওয়া অর্জন নয়,একেবারেই নিজেদের পরিশ্রম, মেধায়,প্রচেষ্টায় নিজেদের ভাগ্য বদল করা এই চার ব্যবসায়ি সকলের কাছেই কমবেশি সুপরিচিত।
শুধু প্রতিষ্ঠান দুটির ফিতা কেটে উদ্বোধনই নয়,এই চার ব্যবসায়িকে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারকও। উদ্বোধন পর্ব শেষে ব্যবসায়িক সততার অনন্য নজির প্রদর্শন করায় চার অতিথি উত্তম দে, মাহাফুজ উদ্দীন,আবু নাসের বিপ্লব এবং আকতার হোসেনের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন স্যামসাং এর নাজমুল হাসান বাবু, হায়ার’র আইনুল কবির আশিক এবং ইলেট্রোমার্ট এর হারুন অর রশীদ সোহেল।
এসময় আবেগাপ্লুত কন্ঠে জ¦ালানি তেল ব্যবসায়ি উত্তম দে বলেন, ‘সারাজীবন কাজই করেছি,পরিশ্রম করেছি। কাউকে ঠকানো কিংবা অসৎ পথে আয় করব, এমনটা ভাবিইনি। শুধু নিজের কাজ করে গেছি। আজ পেছন ফিরে তাকালে মনে পড়ে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। কত কষ্ট আর পরিশ্রম যে পেছনে ফেলে এসেছি। আজ এখানে এসে এমন সম্মান পেয়ে নিজেকে সত্যিকার অর্থেই সফল মনে হচ্ছে। আমি চাই প্রতিটি মানুষ,নিজের যোগ্যতায় ও মেধায় নিজের অবস্থান তৈরি করে নিক।’
মৎস ব্যবসায়ি মাহাফুজ উদ্দীন বলেন, ‘সততা,নিষ্ঠা আর পরিশ্রম, এই তিন মন্ত্রেই বদলে যেতে পারে যেকোন মানুষের জীবন। আমি রাঙামাটি ইলেকট্রনিক্স এবং স্যামসাং প্লাজার এই ব্যতিক্রমি উদ্যোগটিতে মুগ্ধ। বরাবরের মতোই আমার চেষ্টা থাকবে মানুষের পাশে থাকার। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
পোলট্রি ব্যবসায়ি আকতার হোসেন বলেন-‘ অনেক কষ্ট করেছি জীবনে। সেসব বলে বুঝানো যাবনা। আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি,সেখানে আসতে অমানবিক কষ্ট ও পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমার অসম্ভব ভালো লাগছে আজকের এই সম্মানে। আমি আপনাদের কাজে কৃতজ্ঞ। ’
পোলট্রি ব্যবসায়ি আবু নাসের বিপ্লব বলেন-‘ আমি আসলেই অবাক হয়েছি,এই বিষয়টি জেনে। আমার কাছে বিষয়টি ব্যতিক্রমি যেমন মনে হয়েছে, তেমনি মনে হয়েছে এটা হয়ত অনেক পরিশ্রম করে আজকের জায়গায় এসে পৌঁছানোর পুরষ্কারও। আমি নতুন প্রতিষ্ঠানের ও উদ্যোক্তার সফলতা কামনা করছি।’
স্যামসাং’র রিজিওনাল রিটেইল ম্যানেজার মোঃ নাজমুল হাসান বাবু বলেন, এটা অভিনব এবং বৈচিত্রময় একটি উদ্যোগ,যা আমাদের সবার মন কেড়েছে। গতানুগতিতার বাইরে গিয়ে এমন ভাবনা সত্যিই অসাধারন। আমি সংগ্রাম করে সফল হওয়া চার বিশিষ্ট ব্যবসায়িকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং এমন সৃজনশীল ভাবনার সাথে জড়িতদেরও সাধুবাদ জানাই।’
হায়ার বাংলাদেশ’র টেরিটরি সেলস অফিসার মোঃ আইনুল কবির আশিক পুরো বিষয়টিকে ‘বিস্ময়কর’ মন্তব্য করে বলেন, আমি সত্যিই মুগ্ধ। আমি এমন ভাবনা শুনেই অবাক হয়েছি। এমনটাই আদতে হওয়া উচিত সবখানেই। রাঙামাটি ইলেকট্রনিক্স পরিবারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন ব্যতিক্রম সুন্দর কাজটির জন্য।’
ইলেট্রোমার্ট বাংলাদেশ’র চট্টগ্রাম বিভাগের এক্সিকিউটিভ মোঃ হারুন অর রশীদ সোহেল বলেন, আমার কাছে পুরো বিষয়টি দারুন লেগেছে। আমি শ্রদ্ধা জানাই এমন চিন্তাকে। সমাজের সত্যিকারের হিরো তো এমন নীরব উদ্যোক্তারাই,যারা নিজেদের পরিশ্রম আর চেষ্টায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন।’
শুধু আমন্ত্রিত অতিথিরাই নয়,উপস্থিত নানান শ্রেণী পেশার মানুষও ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভিন্নধর্মী এই উদ্বোধনকে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button