ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

‘অপহরণকারিরা সহযোদ্ধার মতো আচরণ করেছে’

আমরা যদিও ওদের কাছে আসামি হই, তারপরও তারা সেই ধরনের আচার-আচরণ করেনি। আমাদেরকে সহযোদ্ধার মতোই দেখেছে। অপহরণের পর তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আমাদেরকে হেঁটে নিয়ে যায়, কোথায় নিয়ে যায় সে গ্রামটির নাম আমরা জানি না, তবে শেষ পর্যন্ত তারা কেন আমাদেরকে মুক্তি দিলো সেটাও আমরা জানি না। এভাবেই অপহরণের বর্ণনা দিচ্ছিলেন এক মাস পর মুক্তি পাওয়া দয়াসোনা চাকমা। শুক্রবার দুপুরে রাঙামাটির জেলার কাউখালীর উপজেলার দুর্গম হাজাছড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে বসে অপহরণের দিনগুলোর এসব কথা বলেছেন তিনি।

গত ১৮ মার্চ রাঙামাটির কুতুকছড়ি থেকে সকাল সোয়া নয়টায় ইউপিডিএফ সমর্থক হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও রাঙামাটির জেলার সাধারণ সম্পাদক দয়া সোনা চাকমাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। অপহরণের এক মাস একদিন পর বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে খাগড়াছড়ি সদরের মধুপুরের এপিবিএন স্কুল গেট এলাকায় তাদেরকে মুক্তি দেয়।

দয়াসোনা চাকমা আরো বলেন, ‘আমাদের গত ১৮ মার্চ সকালে নতুন সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) আমাদের তুলে নিয়ে নানিয়ারচরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ২০ তারিখ একটি বোটে করে খাগড়াছড়ির মহলছড়ির দিকে নিয়ে যায় সেখানে আগের থেকে থাকা তাদের লোকজন আমাদের জন্য অপেক্ষায় ছিল। পরে একটি সিএনজি দিয়ে ৩০ মিনিট নিয়ে যাওয়ার পর আমাদের আরো ২ ঘন্টায় হেঁটে নিয়ে একটি বাড়িতে রাখা হয়। পরের দিন আবার হাঁটা শুরু। পরে আমাদের মেরুং এর একটা গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছাতে আমাদের দুই দিন দুই রাত লাগে। সেখানে আমাদের ২-৩ দিন রাখা হয়েছে পরে আমাদের পাশের একটি গ্রাম বাজেছড়াতে নিয়ে যায়। সেখান তারা আমাদের কাছ থেকে জোর করে লিখিত নেয়। সেখানে লিখতে হয়েছে আমরা ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দ্বারা অপহৃত হয়নি। তিনি আরো বলেন, ওরা আমাদের বলেছে আমার বাবা মামলা করেছে এর জন্য আমাদের মুক্তি দেয়নি ওরা। ওরা অপহরণ করেছে, আমার বাবা তো মামলা করবেই। শেষ মেশ কি করে মুক্তি দিল, আমি এটা জানি না।’

এদিকে দয়াসোনা চাকমা মুক্তির পর শুক্রবার দুপুরে গ্রামে পৌঁছুলে সহযোদ্ধারা ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেয়। দয়াসোনার মা কালিন্দী রানী চাকমা জানান, ‘অনেক দিন পর আমার মেয়ে দেখতে পেয়ে, কাছে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। কত খুশি হয়েছি তা বলে বোঝাতে পারবো না।’

কাউখালি উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রাম্যান জগদীশ চাকমা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার তাদের ছেড়ে দিয়েছে আমিও শুনেছি, এখন তার বাবা মার কাছে সেটিও শুনলাম। আমি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাদের মাধ্যমে খোঁজ খবর রাখছি। অপহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অপহরণ কারা করে, কিভাবে করে, কিভাবে করতেছে এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।

এদিকে অপহরণ থেকে মুক্ত হওয়া মন্টি চাকমার ভাই সুভাষ চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মন্টি চাকমা বর্তমানে নানিয়ারচর উপজেলা বেতছড়ি গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছে। তবে সে বর্তমানে মিডিয়াতে কথা বলতে রাজি নয়।

উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ রাঙামাটির কুতুকছড়ি থেকে সকাল সোয়া নয়টায় হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও রাঙামাটির জেলার সাধারণ সম্পাদক দয়াসোনা চাকমাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার দয়া সোনা চাকমার বাবা বৃষধন চাকমা বাদী হয়ে গত ২১ মার্চ রাঙামাটির কোতয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। অপহরণের এক মাস পর বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে খাগড়াছড়ি সদরের মধুপুরের এপিবিএন গেট এলাকায় তাদেরকে মুক্তি দেয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

ি কমেন্ট

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: