ক্যাম্পাস ঘুড়িব্রেকিংরাঙামাটিলিড

অনিশ্চতায় শুরু রাবিপ্রবি’র তৃতীয় ব্যাচের শ্রেণী কার্যক্রম

অনিশ্চতায় শুরু হয়েছে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার তিন বছরেও নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরি করতে না পারা বিশ্ববিদ্যালয়টি মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও ওরিয়েন্টশন ক্লাশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় গিরিলহর নামে শিক্ষার্থীদের একটি প্রকাশনারও মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শিক্ষার্থীরা আদৌ কোথায় ক্লাশ করবেন কিংবা থাকবেনই বা কোথায় সে বিষয়টিরই সুরাহা হয়নি। প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেয়া হয় শাহ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণীকক্ষে,সকাল বিকাল ভাগ করে। অনেকটা গাদাগাদি করেই ক্লাশ করতে হচ্ছে এই দুইটি ব্যাচকে। আর এই অবস্থাতেই তৃতীয় ব্যাচের ক্লাশ শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
‘তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাশ কোথায় নেয়া হবে’ এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্টার অঞ্জন কুমার চাকমা বলেন, শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে আরো দুইটি ক্লাশ রুম নেয়া হয়েছে। এখানেই ক্লাশ চলবে। বুধবার হল সুপার শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে হল বরাদ্দ দিবেন। আশা করছি অর্ধেকের মত শিক্ষার্থীর হলে জায়গা দেয়া সম্ভব হবে। বাকীদের ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
‘কবে নাগাদ স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করতে পারবেন’- এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-রেজিস্টার অঞ্জন কুমার চাকমা বলেন, জেলা প্রশাসন এখনো আমাদের ভূমি বুঝিয়ে দেয়নি। তাই ক্যাম্পাসের কাজ শুরু করতে পারছিনা। ভূমি বুঝিয়ে দিলে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন,কোথায় থাকবো আর কিভাবে স্কুলের চারটি শ্রেণীকক্ষে তিনটি ব্যাচের দুইটি বিভাগের তিনশত শিক্ষার্থী ক্লাশ করবো সেই বিষয়টির সুরাহা না করেই বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করেছে। কপালে কি আছে জানিনা।

এদিকে মঙ্গলবার শহরের মাঝেরবস্তিস্থ শাহ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আড়ম্বরপূর্ণভাবে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনকে অনেকটা চুপিসারেই করার পরামর্শ দেন কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়নি সাংবাদিক কিংবা স্থানীয় কোন বিশিষ্টজনদের। এছাড়াও অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো প্রেস নোটও পাঠানো হয়নি সংবাদমাধ্যমে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসইসি বিভাগের চেয়ারম্যান জুয়েল শিকদারের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারি পরিচালক মাসুদুল হাসান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান সূচনা আকতার, ধীমান শর্মা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ রেজিস্টার অঞ্জন কুমার চাকমা।
আলোচনা সভার পূর্বে শিক্ষার্থীরা নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। আলোচনা সভা শেষে তৃতীয় ব্যাচের ওরিয়েন্টশন ক্লাশ শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে রাঙামাটি পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবল বিরোধীতার মধ্যেই শুরু হয় রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যায়ের কার্যক্রম। শহরের তবলছড়িতে শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাত্র দুটি শ্রেণী কক্ষে গত তিনবছর ধরে চলছে ‘কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ’ ও ‘ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ এর দুই ব্যাচের দুইশত শিক্ষার্থীর শ্রেণী কার্যক্রম। আর শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে ওই স্কুলেরই শিক্ষকদের জন্য নির্মিত ‘শিক্ষক ডরমেটরি’তে। আর ছাত্রীরা থাকছে বেসরকারিভাবে ভাড়া করা একটি বাসায়। অন্যদিকে বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে ছয়কিলোমিটার দূরের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত একটি দ্বিতল ভবনে। ভূমি বিরোধ সহ নানান জটিলতায় গত তিনবছরেও শুরু করা যায়নি বিশ^বিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসের কার্যক্রম।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

১টি কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 10 =

Back to top button