ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

অধিকার অস্বীকার করে সম্প্রীতি বিকশিত হয় না

সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার বলেছেন, জাতির সাথে কখনো বেইমানি করবো না, প্রয়োজনে সংসদ ত্যাগ করবো। জনতা যাকে চাইবে, সেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি বলেন, আদিবাসীদের অধিকার অস্বীকৃতি করে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও সম্প্রীতি বিকশিত হতে পারে না। কাউকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারে না। তাই আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান তিনি। বুধবার সকালে রাঙামাটি পৌরসভা চত্ত্বরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০১৭ উদযাপন কমিটির আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সকালে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) রাঙামাটি জেলার সহ-সভাপতি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমা।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্যঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, এমএনলারমা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা,স্বাগত বক্তব্য রাখেন রিন্টু মনি তালুকদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উষাতন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে বলেছেন আদিবাসীদের সুরক্ষা ও অধিকার বাস্তবায়ন করা হবে, কিন্তু এখন বলছে বাংলাদেশে আদিবাসী নেই। আজ বাংলাদেশে ত্রিশ লক্ষাধিক আদিবাসী এ দিবস পালন করছে। আজ এই দিবসটি জাতীয়ভাবেও পালন করা যেত,কিন্তু সরকার তা করেনি।

তিনি আরও বলেছেন, আদিবাসী হয়েও আমাদের আদিবাসী জাতীয়তা লাভের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আদিবাসীরা ধ্বংস হওয়ার জন্য জন্ম গ্রহণ করেনি, এরা জীবন দিয়ে হলেও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে যাবে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি হলেও আমরা আজও তা বাস্তবায়ন দেখতে পাইনি। আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের আজ শোষণ, বৈষম্য, নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার বার বার আদিবাসীদের কথা বললেও কোন সরকারই আদিবাসীদের কথা রাখেনি।

এসময় বক্তারা বলেন, সরকার যদি আদিবাসীদের কথা মনে রাখতো তাহলে লংগদুতে নয়ন হত্যাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সামনে তিনটি গ্রামের তিনশত বসতঘরের পোড়া ছাই দেখতে হত না, দেখতো হত না গুনমালা চাকমার পোড়া দেহ।

এসময় বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের আদিবাসী স্বীকৃতি দিলেও সরকার আমাদের স্বীকৃতি দিতে কেন জানি ভয় পাচ্ছে। আদিবাসী স্বীকৃতি না দেওয়াতে আজ আদিবাসীদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

আলোচনা সভা শেষে পৌরসভা চত্ত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে আদিবাসী নারী, পুরুষ ও শিশুসহ হাজার হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button