ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

অতিরিক্ত এ্যালকোহল পানের কারণে পাহাড়ে বাড়ছে লিভার সিরোসিজ

‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জান্তিক দিবস’-এ পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে ‘সুস্বাস্থ্যেই সুবিচার, মাদক মুক্তির অঙ্গীকার’ এর প্রতিপাদ্যকে বিষয়কে সামনে রেখে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরেরর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

সভায় রাঙামাটির ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এসএম শফি কামালের সভাপত্বিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার, রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাঈন উদ্দীন, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের রাঙামাটি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে দেশীয় ও আন্তর্জান্তিক মহল দেশের ৫ কোটি তরুণকে টার্গেট করে তাদের মাঝে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে। যাতে করে সরকারের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা যায়। বিশেষ করে আমাদের তরুণ সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে। নেশামরণ ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। তাদের মেধা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার বলেন, ‘ফেন্সিডিল ইয়াবা হিরোইনের পাশাপাশি পার্বত্য জেলাগুলোতে এখানকার মানুষ ব্যাপক মাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণ করে। যদিও আইনের বিধিবিধানে এখানকার বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অ্যালকোহল গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা আছে। কিন্তু আমি মনে করি, এ ব্যাপারেও কঠোর হওয়া উচিত। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পার্বত্য জেলাগুলো লিভার সিরোসিজ রোগীর সংখ্যা বেশি। এর প্রধান কারণ স্থানীয় এই অ্যালকোহল। দীর্ঘদিন এই অ্যালকোহল পান করলে যে কারোই লিভার সিরোসিজ, লিভার ক্যান্সারসহ নানান জটিল রোগ হতে পারে। তাই সময় এসেছে এই অ্যালকোহলের ব্যাপারেও সরকারকে আইনপ্রয়োগের ব্যাপারে বিধিবিধান প্রনয়নের।’

প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর বলেন, ‘সমতলের চেয়ে রাঙামাটিতে মাদকের ব্যবহার অনেক কম। পুলিশ-প্রশাসন এ ব্যাপারে সচেতন আছে। আপনার পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝতে পারবেন। ২০১৮ সালে যতগুলো মামলা হয়েছে, ১৯ সালের ছয়মাসেই সমপরিমাণ মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ পুলিশের কাজের একটি অংশমাত্র। প্রধান কাজ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। কিন্তু তাদের যে জনবল আছে, তা দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করা কোনোভাবেই সম্ভব না। সে কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এটি রোধে আর কোনো বিকল্প নেই। সে হিসেবে আজকের এই দিনে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সঠিক কাজটি করেছেন।’ এসপি আরও বলেন, ‘এখন দেশের যে অবস্থা তাতে জেলখানাতেও মাদক পাওয়া যায়। টাকা দিলে বাঘের চোখও মেলে। তাই এই মাদক সন্ত্রাস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় জনসচেতনতা।

সভার সভাপতি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এসএম শফি কামাল বলেন, ‘শুধুমাত্র মাদকদ্রব্যই নেশা তাই নয়। আমাদের তরুণ প্রজন্ম দিনদিন আইটি টেকনোলজি নেশাতেও আসক্ত হচ্ছে। এগুলোও এক ধরণের নেশা। এ থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button