বান্দরবানের পাহাড়ি পল্লীতে আতঙ্ক

সশস্ত্র প্রশিক্ষনে যোগ দিতে সন্ত্রাসীদের চাপ


বান্দরবান প্রতিনিধি প্রকাশের সময়: মার্চ 31, 2018

সশস্ত্র প্রশিক্ষনে যোগ দিতে সন্ত্রাসীদের চাপ

তরুণদের প্রশিক্ষণে যোগদিতে বান্দরবানের থানচি উপজেলাতে বার্মিজ ভাষায় চিঠি দিয়েছেন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। চিঠি পাওয়া পর মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পাহাড়ী পল্লীগুলোতে কার্বারি (পাড়া প্রধান) ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বার্মিজ ভাষায় কম্পিউটারে লেখা একটি চিঠিতে থানচির দুর্গম অন্তত ১৫টি পাড়ার তরুণদের বুধবারের (২৮মার্চের) মধ্যে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীতে যোগদেয়ার আহবান জানানো হয়। কয়েকদিন আগে অস্ত্রধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা স্থানীয় লোক দিয়ে পাড়া কার্বারির (প্রধান) হাতে চিঠিটি পৌঁছে দেন। চিঠিতে আরো বলা হয়, যোগদেয়া পাহাড়ি তরুণদের ৩১ মার্চ থেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তবে কোথায় যোগদান করবে এবং প্রশিক্ষণ কোথায় দেয়া হবে স্থানটি উল্লেখ করা হয়নি চিঠিতে।

স্থানীয়রা জানায়, জেলার থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি পল্লীগুলোর বাসিন্দারা বার্মিজ ভাষা পড়তে এবং বুঝতে পারেন। এই চিঠিতে পাওয়ার পর থেকে পাহাড় পল্লীগুলোর কার্বারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। কার্বারি ও স্থানীয়রা বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমার সভাপতিত্বে গত মঙ্গলবার থানচি উপজেলা সদরে চিঠির বিষয়টি নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে সেনাবাহিনীর আলীকদম জোন কমান্ডার লে: কর্নেল মাহবুবুর রহমান, বিজিবি বলিপাড়া ব্যাটেলিয়ানের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার রহুল আমীন, সেনাবাহিনীর ৬৯ রিজিয়নের জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর মাহফুজুল হক, থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, মৌজা প্রধান (হেডম্যান) ও স্থানীয় বাসিন্দাররা চিঠি পাওয়ার বিষয়টি সকলকে জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম প্রতিবেদককে বলেন, বার্মিজ ভাষায় লেখা একটি চিঠি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দুর্গম পাড়াগুলোতে দেয়া হয়েছে। চিঠির ফরমেটটি কম্পিউটারে লেখা। কিন্তু নাম ও ঠিকানাগুলো হাতেই লেখা মনে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি মতবিনিময় করেছি। স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ এবং বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি পল্লীগুলোতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আনাগোনা বেড়েছে খবর পেয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিশ্চুক তীন্দু ও রেমাক্রী কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তীন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের বাসিন্দারা মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছে জিম্মি। বিনা পয়সায় কাজ করানো, চাঁদা আদায় এবং লালন পালন করা হাঁস মুরগী ধরে নিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের অত্যাচারে অতিষ্ট পাহাড়িরা। কিন্তু ভয়ে কেউই মুখ খুলতে পারে না। তারা আরো বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকায় থাকা তরুণরা প্রশিক্ষণে যোগ না দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুমকি ধমকি দিয়েছেন। ভয়ে অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন।

থানচি উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ভয়ে স্থানীয় পাহাড়িরা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন কথাটি সত্য। আমরাও আতঙ্কে আছি, কিন্তু ভয়ে কথা বলতে পারি না। মুখ খুললে নানা ধরণের চাপ আসে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of