শেষ বিকেলে উত্তাপ ছড়ালো ছাত্রলীগের হরতাল


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময়: ফেব্রুয়ারী 14, 2018

শেষ বিকেলে উত্তাপ ছড়ালো ছাত্রলীগের হরতাল

ছাত্রলীগ নেতা সুপায়ন চাকমার উপর হামলার প্রতিবাদ ও রাঙামাটির তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে হরতাল কর্মসূচী পালন করেছে জেলা ছাত্রলীগ। সারাদিনই শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হওয়া হরতাল শেষ হওয়ার আগমুহুর্ত শহরের বিভিন্নস্থান থেকে খন্ড খন্ড মিছিল বনরূপার সমাবেশে আসার পর কর্তব্যরত দুই সাংবাদিক,ডিবি পুলিশের একজন কনস্টেবল ও পথচারি দুইজন পাহাড়ীকে বেদম মারধর করে।

এসময় বনরূপাসহ সারাশহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষনিকভাবে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বনরূপায় ছুটে আসেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।

এর সকালে হরতালের সমর্থনে রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি, বনরূপা,রিজার্ভবাজার,ভেদভেদী,কলেজ গেইটসহ বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এসময় দফায় দফায় মিছিল করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এসময় মিছিল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা,পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও রাঙামাটির পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান,এএসপি জাহাঙ্গীর আলম,কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়া হয়। একই সাথে একের পর এক ছাত্রলীগ,যুবলীগ এবং আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের হত্যা,গুম,অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা,সম্পত্তি বিনষ্টের জন্য জনসংহতি সমিতি ও সন্তু লারমাকে দায়ি করে শ্লোগান দেয়া হয়।

বিকালে মিছিল নিয়ে রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপায় আসে সারাদিন সারাশহরে পিকেটিং করা ছাত্রলীগ কর্মীরা। এসময় বনরূপা চত্বরেই পেশাগত দায়িত্বপালনকালে দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম এর স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল বিন হাসান, দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন ও পূর্বদেশ এর রাঙামাটি প্রতিনিধি কামালউদ্দিনকে বেদম মারধর করে ছাত্রলীগ। আহত দুই সাংবাদিককে দ্রুত রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাংবাদিক সাইফুল বিন হাসান জানিয়েছেন, আমি মিছিলের ছবি তুলছিলাম,এসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা ডিবি পুলিশের এক সদস্য ও পাহাড়ী যুবককে বিনা কারণেই মারধর শুরু করলে আমি সেই ছবি তোলার সময়ই আমাকে মারা শুরু করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলাকারিদের আমি কয়েকজনকে চিনতে পেরেছি। এর আগে গত সোমবারও পেশাগত দায়িত্বপালনকালে দৈনিক সমকাল ও একুশে টিভির রাঙামাটি প্রতিনিধি সত্রং চাকমাকে মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা।
আহত সংবাদকর্মীদের রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আনা হলে সেখানে তাদের দেখতে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। হাসপাতালে ছুটে যান সকল সংবাদকর্মীরা।

কিছুক্ষণ পরেই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার,সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চাকমা,সহসভাপতি সাইফুল আলম রাশেদসহ ছাত্রলীগের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে আসেন এবং হামলার ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এই হামলার সাথে জড়িতদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দেন।

এদিকে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দিন শ্যামল ও সাধারন সম্পাদক হাসান ফেরদৌস,রাঙামাটি প্রেসক্লাব,রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

বিকালে হরতাল শেষে বনরূপা চত্বরে ছাত্রলীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোঃ শাওয়াল উদ্দিন, জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল,শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক শামসুল আলম,জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চাকমা।

সমাবেশে সুপায়ন চাকমাসহ ছাত্রলীগ,যুবলীগ,আওয়ামলীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলাকারিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবির পাশাপাশি রাঙামাটির পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম এবং কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়–য়াকে প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়। তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর ও ধারাবাহিক কর্মসূচীর ঘোষণা দেন তারা।

প্রসঙ্গত,সোমবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি স্টেডিয়ামে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুপায়ন চাকমাকে একদল পিসিপি কর্মী ব্যাপক মারধর করে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ। এর প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক রাঙামাটি শহরে অবরোধ সৃষ্টি করে পুরো শহর অচল করে দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এসময় রাস্তায় টায়ারও জ্বালায় তারা। পরে পুলিশ এসে টিয়ারশ্যাল ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাঙামাটিতে সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন। ছাত্রলীগের কর্মসূচীকে সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বরও। পুরো শহরেই থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of