শিক্ষক হয়ে পাহাড়ে আলো ছড়াতে চায় জিফোর চাকমা


সাইফুল বিন হাসান প্রকাশের সময়: জুলাই 28, 2018

শিক্ষক হয়ে পাহাড়ে আলো ছড়াতে চায় জিফোর চাকমা

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার ভূবন জয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র জিফোর চাকমা (১৫)। জিফোরের বাড়ি উপজেলার ২নং বনযোগীছড়া ইউনিয়নের ধামাইপাড়া গ্রামে। সে তার মা ও নানির সাথে সেখানে বাস করে। জিফোরের সাড়ে চার বছর বয়সের সময় তার বাবা শৈলেন চাকমা তাকে ও তার মা রিতা চাকমাকে ছেড়ে চলে যায়। থমকে যায় তাদের জীবন চাকা। সে থেকে মা রিতা চাকমা ধামাইপাড়া বিহার এলাকা বাজারে একটি ছোট্ট দোকানে ভাঙা একটি সেলাই মেশিন দিয়ে সেলাই কাজ করে ছেলেকে লালন-পালন ও পড়ালেখা খরচ চালাচ্ছে।

থেমে নেই জিফোরও, সেও মায়ের কাছ থেকে শিখেছে সেলাই কাজ। একটি ভাঙা সেলাই মেশিনে চলে মা ছেলের কর্মজীবন। স্কুলের পরে বাকি সময়টা মাকে সেলাই কাজে সহযোগিতা করে জিফোর চাকমা। সেলাই কাজের অনেক কিছুই জানে এখন সে। তাই তো স্কুল চলাকালে মা সেলাই কাজ করে আর স্কুলের পরে অবসর সময়টাতে মায়ের মেশিনেই সেলাই কাজ করে জিফোর।

কথা হয় জিফোর চাকমার সাথে। জিফোর বলেন, আমি আমার মায়ের কাছ থেকে সেলাই কাজ শিখেছি। আমি বর্তমানে সেলাই কাজের সব কিছুই পারি। স্কুলের পরে মাকে সেলাই কাজে সহযোগিতা করি।

তিনি আরো বলেন, আমি অনেক পড়ালেখা করবো। পড়ালেখা করে শিক্ষক হব। শিক্ষক হয়ে আমার আদামের (গ্রাম) ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা শেখাবো।

জিফোর চাকমার মা রিতা চাকমা বলেন, আমরা গরিব মানুষ তাই জানি না ছেলেকে কতটুকু পড়ালেখা করাতে পারবো। তবে আমার ছেলে পড়ালেখা করতে চাই। তার বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে আমি অনেক কষ্ট করে তাকে লালন-পালন ও পড়ালেখা করাচ্ছি।

জুরাছড়ি উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক রকি চাকমা জানান, ধামাইপাড়া গ্রামে জিফোর চাকমা তার মা রিতা চাকমা ও নানির সাথে বসবাস করে। তার মা ঐ এলাকার বিহার বাজারে একটি ছোট্ট দোকানে ভাঙা একটি মেশিন দিয়ে সেলাই কাজ করে ছেলেকে পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছে, সাথে সংসারও। এ ছেলে স্কুল সময়ের পরে বাকি সময়টা মায়ের কাজে সহযোগিতা করে। খেলাধুলা না করে জিফোর পড়ালেখার পরে বাকি সময়টা দোকানে বসে বসে সেলাই কাজ করে। এমন ছাত্রের পাশে সামাজিকভাবে সকলকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় এ সাংবাদিক।

ভূবন জয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকা দিশা চাকমা বলেন, জিফোর অনেক ভালো ছেলে, পড়ালেখায়ও ভালো। সে আমার কাছে প্রাইভেট পড়তো। কিন্তু বেশ কিছুদিন যাওয়ার পরে সে আর প্রাইভেটে আসে না। তখন আমি তার মাকে জিজ্ঞাসা করি। তার মা জানান আর্থিক সমস্যার কারণে তার ছেলেকে আর প্রাইভেটে পাঠাতে পাচ্ছে না। দারিদ্রতার জন্যে ছেলেটাকে পড়ালেখা করাতেও তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। পরে আমরা জানতে পারি ছেলেটা পড়ালেখার পাশাপাশি সেলাই কাজ করে মাকে অর্থ উপার্জনে সহযোগিতা করে। আমরা যতটুকু পারি ছেলেটাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

জুরাছড়ি উপজেলার বাসিন্দা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা বলেন, এ ধরণের শিক্ষার্থীদের পাশে আমরা সব সময় থাকি। আমি ব্যক্তিগতভাবেও আমার উপজেলায় এ ধরণের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে থাকি। তিনি আরো বলেন, এ ছাত্রের কথা শুনে আমার ভালো লেগেছে। আমি জিফোর ও তার মায়ের সাথে দেখা করে তাদেরকে সহযোগিতা করবো। আমি তাদের পাশে আছি।

জুরাছড়ি উপজেলার নির্বাহী অফিসার রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন শিক্ষার্থীদের পাশে সব সময় দাঁড়াই। তাদের সহযোগিতা করার জন্য সব সময় আমরা প্রস্তুত। আমি ছেলেটার খোঁজ-খবর নিবো এবং যতটুকু পারি তাকে সহযোগিতা করবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Top advertise


এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of