নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / শক্তিমান চাকমা হত্যা: আরও ২ ইউপিডিএফ নেতা আটক

শক্তিমান চাকমা হত্যা: আরও ২ ইউপিডিএফ নেতা আটক

রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নেতা তপন জ্যোতি চাকমাসহ ছয় হত্যার আসামিসহ দুইজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
এরা হলেন ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের পুলক চাকমা ও অমর বিকাশ চাকমা।

বুধবার বিকালে খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার যতীন্দ্র কার্বারী পাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে লক্ষ্মীছড়ি থানার ওসি আব্দুল জব্বার জানিয়েছেন।

পুলক চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মহাজন পাড়ার বাসিন্দা চপলাল চাকমার ছেলে এবং অমর বিকাশ চাকমা রাঙামাটির কাউখালীর ধারাশ চাকমার ছেলে।

এর আগে সোমবার রাতে চট্টগ্রম নগরী থেকে এ হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন ইউপিডিএফ-এর সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুবফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি কান্তময় চাকমা (৩৫) ও সাধারণ সম্পাদক সুকৃতি চাকমা (৪০)। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি।

অন্যজন হলেন ইউপিডিএফ-এর আরেক সহযোগী সংগঠন পাহাড়ি ছাত্রপরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিকো চাকমা (২৫)। জিকোর বাড়ি নানিয়ারচর।
সি আব্দুল জব্বার বলেন, গোপন সংবাদ পেয়ে বিকাল ৪টার দিকে যৌথবাহিনী লক্ষ্মীছড়ির যতীন্দ্র লাল কার্বারী পাড়ায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের আস্তানায় অভিযান চালায়।

“নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীদের অনেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুলক চাকমাকে একটি এলজি ও তিন রাউন্ড গুলি এবং অমর বিকাশ চাকমাকে ইয়াবা, চাঁদা আদায়ের রশিদ ও ৯ হাজার টাকাসহ আটক করতে সক্ষম হয়।”

ওসি জানান, পুলক চাকমা নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার ২৫ নম্বর এবং তপন জ্যোতি চাকমা হত্যা মামলার ৭১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

এছাড়া অমর বিকাশ চাকমা খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি থানায় গত বছরের ১১ নভেম্বর করা অস্ত্র মামলায় পলাতক আসামি বলে ওসি জানান।

ইউপিডিএফের নিন্দা-প্রতিবাদ

এদিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক সচিব চাকমা বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুলক চাকমা ও অমর চাকমাকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

গত ৩ মে শক্তিমান মোটরসাইকেলে করে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার সময় গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরদিন তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে রাঙামাটিতে একটি মাইক্রোবাসে গুলি চালিয়ে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক-এর প্রধান তপনজ্যোতি চাকমা বর্মাসহ পাঁচজনকে হত্যা করা হয়।

আইনজীবী শক্তিমান চাকমা ২০১০ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা) নামে গঠিত নতুন দলে যোগ দেন। তিনি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে ( ইউডিপিডিএফ) দায়ী করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বলেছিলেন, “তারা দীর্ঘদিন ধরে দাদাকে (শক্তিমান) হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপিডিএফের প্রচার বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেন, “এটি তাদের আন্তঃকোন্দলের ফল হতে পারে।”
(বিডিনিউজ)

আরো দেখুন

পাহাড়ে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার না করার আহ্বান

‘পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সংঘাতপূর্ণ অবস্থার কারণে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই পড়ছে …

5 মন্তব্য

  1. আর কয়েকদিন অলে দঅ ইউগুন পুরেবাক

  2. আরো কয়েকজন,কে,আটক করা,দরকার,,,জাতীর বেইমান,,,,দালাল,,,

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen + nine =