নীড় পাতা / ব্রেকিং / রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ও একজন টিপু সুলতান

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ও একজন টিপু সুলতান

চারপাশে লেক আর পাহাড়ের বেষ্টনী ঘেরা থাকবে প্রতিষ্ঠানটি। বেড়াতে আসা পর্যটকদের লিষ্টে যোগ হবে নতুন একটা জায়গা ‘রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস’ এমনটাই স্বপ্ন দেখেন কলেজের প্রতিষ্টাতা অধ্যক্ষ এবং রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অভিভাবক ডা: টিপু সুলতান।

স্বপ্ন দেখতে লাগে সাহস তার চেয়ে বেশি লাগে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতা মানসিকতা এমন দৃঢ়তা স্পষ্ট মানুষটার চোখে মুখে কথায়। আর তার দৃঢ় প্রত্যয়ের ফলাফল স্পষ্ট আমাদের চোখের সামনেই পাহাড়ের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ।

শুরুটা সহজ ছিলোনা মোটেও। হুমকি ছিলো ছিলো প্রাণ হারানোর ভয়ও। পরিবার পরিজন থেকে দূরে এই শহরে প্রথমে নিতে চাননি দায়িত্বই। অথচ উচ্চ কর্তপক্ষের ভরসার কারণ ছিলেন তিনিই। গরিমসী স্বত্তেও তাকেই পাঠানো হলো এই রণক্ষেত্রে। হুম রনক্ষেত্রই তো ছিলো তখন এই প্রাঙ্গণ।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ছাত্রছাত্রীদের নিজের জীবনেরও।তবুও পিছপা কি হয়েছিলেন ! একদমই না।
বিরোধী দলকে বারংবার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এই শহরে একটি মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয়তা, সুবিধা,উন্নয়ন। কাজ হয়নি, উল্টো ভেসেছেন নানারকম হুমকিতে। তবুও এগিয়ে গেছেন সাহসের জোরে।নিজ শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে চেয়ে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন পুরো কাজটাই।
‘মৃত্য অবধারিত,এইখানে মরণ লিখা থাকলে এখানেই মরবো’ এই ভাবনা বুকে নিয়েই কার্যক্রম শুরু করে দিলেন। ছাত্রছাত্রীদের অভয় দিয়ে ফিরেয়ে আনলেন ক্যাম্পাসে,অস্থায়ী ক্যম্পাসে শুরু হলো শিক্ষা কার্যক্রম। পরিস্থিতিও শিথিল হতে থাকলো আস্তে আস্তে। ছাত্র ছাত্রীদের জন্য হোষ্টেল ব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্বয়ংসম্পূর্ণ লাইব্রেরি,ক্লাশ ভেদে প্রায় ৪০জন নামীদামী শিক্ষকের নিবিঢ় পরিচর্যার ব্যবস্থা করেছেন নিজেই।

শংকা কাটেনি পুরোপুরি,তবে সেসব নিয়ে আর ভাবছেন না তিনি। এখন একটাই চ্যালেঞ্জ একটাই ভাবনা রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ কে পৌঁছে দেয়া দেশের প্রথম সারির মেডিকেল কলেজের কাতারে।সেই লক্ষ্যেই এগুচ্ছেন তিনি।

তার স্পষ্ট প্রমাণ সদ্য চার শেষ করে পাঁচে পা দেয়া এই প্রতিষ্টানের চার ব্যাচের পরীক্ষার ফলাফলেও।নতুন হিসেবে দেশের প্রথম সারির যেকোন মেডিকেল কলেজ কে টক্কর দেয়ার ক্ষমতা রাখে এই শিক্ষার্থীদের ফলাফল।

একটা স্বপ্নের ভূখন্ডে দাঁড়িয়ে ছিলো সমস্যা আর আক্ষেপের গল্পও,জায়গা সংকট,মেডিকেল হাসপাতালে জায়গা সংকটের দরুন শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষায় বেগ পেতে হয় বেশ। তবে বিশ্বাস করেন সমস্যা থাকবেনা বেশিদিন। চট করেতো হয়ে যায়না কিছু।সময় লাগবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কোন সমস্যা কোন ঝঞ্চার জন্যই যাতে ব্যাহত না হয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেষ্ট। আক্ষেপ করছিলেন বাহিরের ডাক্তারদের আনিয়ে ক্লাশ করাচ্ছি আমরা কিন্তু এই শহরের যে ছেলেমেয়েরা দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে বেরিয়েছি ডাক্তার হয়ে তারা কোথায় ! আক্ষেপের সুর কাটিয়েই আশাবাদ শোনালেন, তিনি বিশ্বাস করেন এই মেডিকেলের ছাত্রছাত্রীরা অন্তত এই শহরের সন্তানেরা থাকবে এই শহরের মানুষগুলোর পাশে। ছুটতে হবেনা অন্য ডাক্তারদের কাছে।দূর শহরের এই মানুষটা ভাবেন এই শহরের পর্যটন শিল্প নিয়েও। সুযোগ আছে সম্ভাবনা আছে কেবল পৃষ্ঠপোষকতার অভাব।
আহ স্বপ্নভূক মানুষটা,এভাবে ভাবতে পারে কজন ! দুই মেয়ে এক ছেলের সফল জনক ডা. টিপু সুলতানের অর্ধাঙ্গিনী পেশায় নিজেও ডাক্তার,বাস শহর চাটগাঁয়। ঘুরতে পছন্দ করেন সময় পেলেই ছুট।কিন্তু সময়টারই অভাব। প্রচন্ড বন্ধুসুলভ এই মানুষটার রয়েছে আপন করে নেয়ার অসীম ক্ষমতাও। প্রচন্ড স্পষ্টবাদী।ঘুরেন ঘুরতে পছন্দ করেন ভ্যাকেশনে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ট্যুর দেন নিজেই। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে নিজ ছাত্রছাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা করেন ভুরিভোজেরও।এমনটাই জানা গেলো তার ছাত্রছাত্রীদের মুখেই।
সহকর্মীর চোখে কেমন এই স্বপ্নভূক প্রত্যয়ী মানুষটা-ডা.গৌরব দেওয়ান। রাঙামাটির সন্তান। প্রচন্ড মেধাবী এই মানুষটা শহরকে ভালোবেসেই আকড়ে পরে আছে এই পাহাড় মাটি মানুষ। আক্ষেপ আছে পাহাড়ের সন্তান বাকি ডাক্তারদের প্রতিও। এই শহরের নামে সুবিধা ভোগ করা ডাক্তাররা কোথায়!
সে হিসেব কষা কঠিন! রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের নামের সাথেই যে দুটো নাম চলে আসে এর একটি অধ্যক্ষ ডা.টিপু সুলতান আর একজন ডা.গৌরব দেওয়ান। ইচ্ছে প্রচেষ্টা ভালোবাসার জোর কত শক্ত তার প্রমাণ স্বয়ং তিনি নিজেই।

ডা.গৌরব দেওয়ান এক কথায় জানালেন ডা: টিপু সুলতান জাস্ট ডায়নামিক’ কোন শিক্ষক ভালো কোন শিক্ষক ক্লাশের জন্য উত্তম এই সব দিক নির্দেশনা স্যার না দিলে আমরা কখনোই শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ পাঠদানের ব্যবস্থা করতে পারতাম না, এত ভালো রেজাল্টও আমাদের হতোনা।”এই ছিলো ডা.টিপু সুলতানের আত্মজ এবং একদম শুরু থেকে ছায়া হয়ে থাকা সহকর্মীর তার জন্য ভাবনা। এইতো চাই একজন সফল শিক্ষকের।

আর শিক্ষার্থীদের চোখে–
স্নেহাশিষ চক্রবর্তী, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এক কথায় জানালো,স্যার সেদিন সাহস করে এগিয়ে না গেলে আমাদের মেডিকেলে পড়া হতো কিনা জানিনা। এত কম সময়ে আমাদের মেডিকেল কলেজে যতখানি এগিয়েছে তার পুরো কৃতিত্ব স্যারের। স্যারের শুধু একটাই লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের তাদের সর্বোচ্চটা দেয়া।

রাওফিন নাহার মুন,তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী.
স্যারের কথা জানতে চাইতেই এক গাল হাসিতে “স্যার অসাধারণ”। বাড়ির বাইরে পড়তে এসছি আমরা কিন্তু স্যারের জন্য কখনো মন খারাপ করার সুযোগ নেই আমাদের। যেকোন সমস্যায় স্যারের সাথে সরাসরি কথা বলতে পারি আমরা। আমাদের বার্ষিক বনভোজনেও স্যার হাসিখুশিতে মাতিয়ে রাখে আমাদের।”

ডা.টিপু সুলতান। একজন পিতা একজন শিক্ষক একজন ডাক্তার। সর্বোপরী তিনি অভিভাবক,সন্তানতূল্য রাঙামাটি মেডিকেল কলেজকে আগলে রাখতে চান নিজের সবটুকু ভাবনা ভালোবাসা দিয়ে। অন্যত্র বদলির সুযোগ থাকলেও সহসা গ্রহন করছেন না সে সুযোগ। বাতিলও করেছেন প্রস্থাব। যতদিন আছেন থাকতে পারবেন রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ কে নিয়ে যেতে চান অন্য উচ্চতায়। “ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থী যেই বই পড়ছে সেই বই পড়ছো তুমিও,সুতরাং হিনমন্যতায় ভোগার কোন কারণ নেই, রেজাল্ট ভালো করার চেষ্টা করতে হবে তোমার নিজের,ওটাই জরুরী,সুযোগ পেয়েছো সুযোগ কাজে লাগাও” নিজ শিক্ষার্থীদের জন্য শেষ বেলায় এই ছিলো তার আদেশ,উপদেশ।

মানুষটার গল্প কথা সাহসী পদক্ষেপ শুনেছিলাম লোকমুখে। তার মুখে শোনার জানার আগ্রহ ছিলো বেশি। শীতের সকালে তাই হাজির ক্যাম্পাসে।প্রচন্ড ব্যস্ত মানুষটার ব্যস্ততা ফুড়ে অ-নে-ক খানি সময় নিয়ে নিলাম। ফিরতে ফিরতেই মনেহচ্ছিলো আরো কত গল্প বাকি!! সময়ের যে অভাব।
একজন ডা.টিপু সুলতান আপনি ভালো থাকবেন। আপনার মত নিষ্ঠাবান প্রত্যয়ী সাহসী মানুষ এই সমাজে এই শহরে ভীষন প্রয়োজন…….

আরো দেখুন

দীঘিনালায় ইয়াবাসহ আটক যুবক

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালার তাইন্দং কলোনি এলাকা থেকে ২২ পিস ইয়াবাসহ মো. সোহাগ হোসেন (২০) নামে …

3 মন্তব্য

  1. রাবিপ্রবিতেও এই রকম কারো দরকার. salute sir?

  2. Idol in Rangamati Hill Tract- Professor Dr. Tipu Sultan
    (from North Bengal)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen + 9 =