রাঙামাটি মনে রেখেছে ডিসি মানজারুল’কে

2
top article add

গেলো বছরের ১৩জুন রাঙামাটিতে স্বরণকালের ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় বিস্মিত পুরো দেশের মানুষ। এই ভয়াবহ দুর্যোগের বেদনা ছড়িয়েছে দেশে-বিদেশেও। একের পর এক মাটির নিচ থেকে নিথর দেহ বের করতে থাকে উদ্ধারকর্মীরা। ঘরে ঘরে কান্নার রোল। ভয়াবহ দুর্যোগে রাঙামাটির সাথে পুরো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাই বন্ধ হয়ে যায়। পুরো জেলা হয়ে পড়ে বিদ্যুৎবিহীন। চারদিন পয়ন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিলো পুরো রাঙামাটি।

এসময় ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। কঠিন সেই সময়ে সবাইকে নিয়ে উদ্ধার কাজ, আহতদের চিকিৎসা প্রদান, আশ্রয়হীনদের আশ্রয়দান ও খাবার ব্যবস্থা, নিহতদের দাফন ও সৎকার এবং পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ যাবতীয় কাজ দক্ষতার সাথে সামাল সেই সময়ের জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান।
দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে নিজেই দায়িত্ব নিয়েছেন এতিম অনেক শিশুর। নিরবে কাজ করেছেন নিবেদিত মানবসেবির মত। মানবিক সেই বিপর্যয়ের সময় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পায়তারা করেছিল কিছু দুস্কৃতিকারী। কিন্তু মোটেই ছাড় দেননি তাদের। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়েও ব্যস্ত রেখেছিলেন তিনি। ফলে খুব সুবিধে করতে পারেনি মুনাফালোভিরা।
দুর্যোগের সময় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকেও এনেছেন তিনি সহায়তা। আর যাওয়ার সময় বিশ লক্ষাধিক টাকা ফান্ডেও রেখে যাচ্ছেন তিনি। জেলার অভিভাবক হিসেবে কোনো দুর্যোগে তিনি এতটুকু বিচলিত হননি জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। জেলার একজন অভিভাবক হিসেবে প্রতিটি দুর্যোগ মোকাবেলায় তাঁর উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়।
নিজের শেষ কর্মদিবসের আগে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সামনে নিজের অনুভুতি বলতে গিয়ে বলেন, রাঙামাটিকে এত বেশি আপন মনে হয়েছে। এখানে দায়িত্ব নেয়ার পর মাত্র ১২টি দিন ঢাকায় রাত কাটিয়েছিলেন। রাঙামাটির প্রতি অগাধ প্রেম অগাধ ভালবাসার কথাটাই উচ্চারণ করেছেন বারবার।
২০১৬ সালে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন-আমার পূর্বসুরিরা অনেক ভাল কাজ করেছেন। তাই রাঙামাটিবাসীর মনে ঠাঁই করে নিয়েছেন। সবাই প্রথম হতে চাই, আমিও দ্বিতীয় হতে চাইনা।
মানুষ বিপদের বন্ধুকেই মনে রাখে সবসময়। আর রাঙামাটিতে গত দেড় বছরে ঘটে যাওয়া স্বরণকালের ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান যে ধৈর্য্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। একই সাথে দুর্গত মানুষের পাশে ছিলেন; সেটা আজীবনই কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে রাঙামাটির মানুষ। বিপদের বন্ধুইতো আসল বন্ধু।

রাঙামাটির সংবাদকর্মী ও সময় টেলিভিশনের রাঙামাটি প্রতিনিধি সৈয়দ হেফাজত উল বারি সবুজ ডিসি মান্নানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি জেলা প্রশাসক হিসেবেই নয়,সেই সময় বিপন্ন মানুষকে রক্ষার জন্য তার যে আপ্রাণ চেষ্টা দেখেছি,তা সচরাচর দেখা যায়না। নিজেদের বন্ধু,পরিচিতজনদের কাছ থেকে নানান খাদ্য,পণ্য সহায়তা,শিশুদের জন্য পোশাক আনা,আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ম্ভরে ঈদ উদযাপন করা সহ বিপন্ন মানুষের পাশে তিনি যেভাবে ছিলেন,তা সত্যিই অসাধারণ। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সেই সময় কাছ থেকে তাকে যেমনটা দেখেছি,তার প্রতি রাঙামাটিবাসির পক্ষ থেকে বিন¤্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই এবং সেই সাথে বলতে চাই,রাঙামাটিবাসি আপনাকে ভুলেনি।

এই সংবাদটিতে আপনার মতামত প্রকাশ করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of