নীড় পাতা / ব্রেকিং / রাঙামাটিতে ‘পাহাড়ধস’ আতঙ্ক

রাঙামাটিতে ‘পাহাড়ধস’ আতঙ্ক

রোববার ও সোমবারের বৃষ্টিতে রাঙামাটিতে পাহাড়ধস আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরমধ্যে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গায় ধস, ফাটল ও গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক আরো বেড়েছে। বোরবার সকাল থেকে রাঙামাটিতে থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়। পরে দুপুর ঘনিয়ে বিকেল থেকে শুরু হয় ভারি বর্ষণ। এর মধ্যে দুপুরে শহরের উন্নয়ন বোর্ড এলাকায় একটি দেয়াল ধসে পড়ে। রাতে শহরের চম্পকনগরসহ আরো কয়েকটি স্থানে মাটি ধসে পড়ে।

এদিকে সোমবার সকালে শহরের রূপনগর এলাকায় ১৫টি তাবু টাঙানো হয়েছে। যারা ঝুঁকিতে বসবাস করছে তারা যেনো দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব তাবুতে এসে আশ্রয় নিতে পারে সে জন্যই এগুলো টাঙানো হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে মাটি শহরের মধ্যে ২১টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করাও হয়েছে।

পাহাড়ের বাসিন্দারা বলছে, যেভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, এতে এবারও পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়েছে। কেবল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা নন, রাঙ্গামাটির মানুষের মনে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক কাজ করছে।

ভেদভেদী এলাকার সানি বড়–য়া জানান, গত বছরে আমাদের এলাকায় পাহাড়ধসে অনেক মানুষ মারা গেছে। আজ দু’দিন থরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাতে ভয়ে ঘুম আসেনা, কখন আবার কে মাটিচাপা পড়ে মারা যায়।

ভেদভেদী এলাকার সাইফুল উদ্দিন বলেন, আমার ঘর পুরো ঝুঁকিতে আছে। ঘরের সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আত্মীয়ের বাসায় পাঠিয়েছে। আগে জীবন বাঁচানো প্রয়োজন।

পৌর কাউন্সিলর রবি মোহন চাকমা বলেন, ‘কাল থেকে আমাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। যারা ঝুঁকিতে আছে আমরা তাদেরকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য বলছি। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে না গেলেও আত্মীয়স্বজনের বাসায় উঠেছেন। এখনো খারাপ কোনও কথা শুনিনি।’

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ জানান, ‘পাহাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তো কাজ করবেই। যারা ঝুঁকিতে বসবাস করছে আমরা তাদেরকে নিরাপদস্থানে আশ্রয়নেওয়ার জন্য বলছি। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে ৩০০টি তবৃু রয়েছে। রূপনগর এলাকায় কিছু তাবু টাঙানো হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধস ও যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।’

ধসের শঙ্কা সড়কেও
দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক ও অন্যান্য সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেয়া দিয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে সড়ক বাঁধ ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ। এর মধ্যে সড়কে ধস ও মাটিধসে যাওয়ার শঙ্কা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সড়কে বড়ধরণের কোনও ধস দেয়া দেয়নি।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু মুছা জানিয়েছেন, ‘এখনো সড়কে বড় ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘাগড়া থেকে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে সড়কবাঁধ ভেঙে গেছে। আর আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আশাকরছি আমরা দুর্যোগ মেকাবেলা করতে পারবো।’

উল্লেখ্য, গেল বছরের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তখন সারাদেশের সাথে বন্ধ হয়ে যায় রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তিনমাসের বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে থেকেছে।

আরো দেখুন

বৃষ কেতু’র সাথে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাক্ষাত

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা এর সাথে নবগঠিত সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen − 16 =