নীড় পাতা / ব্রেকিং / রত্না চাকমাদের বৈসাবি

রত্না চাকমাদের বৈসাবি

পাহাড়ে বইছে বৈসাবি হাওয়া। উৎসব আয়োজনে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পাহাড়ের সব জাতিগোষ্ঠী। পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর বরণের এ সময়ে পাহাড় সাজে ভিন্নরূপে। পাহাড়ে বসবাস করা বিভিন্ন জাতির নানান সংস্কৃতি একসঙ্গে মিলেমিশে তৈরি হয় ভিন্ন রকম পরিবেশ।

রত্না চাকমা এসেছেন দূর আদাম (গ্রাম) থেকে পাহাড়ি আলু, কচু, কাঁচকলাসহ নানা সবজি বাজারে বিক্রি করতে। বুধবার সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপা বাজারে দেখা হয় রত্নার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিজু সবার উৎসব হলেও আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্যে সেই উৎসব আসেনি। আমার বাড়ি ঘিলাছড়ি আদামে (গ্রামে)। সেই ভোর পাঁচটাই বাগানে গিয়ে কিছু পাহাড়ি আলু, কচু, পেঁপে নিয়ে বিজুর শেষবাজার ধরার জন্য রাঙামাটি শহরের বনরূপা বাজারে এসেছি। বুধবার বিজুর শেষবাজার, এখন যা বেচাকেনা হবে। বৃহস্পতিবার থেকে তো বিজুর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু, ক্রেতারা যা ক্রয় করার তা আজই করে ফেলছেন।’

বিজু কেমন কাটবে রত্নার? এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘আমার দুই ছেলে। দুজনই পড়ালেখা করে সাপছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আর স্বামী কাজ করে জুমে। ছেলেদের বিজু উপলক্ষে কাপড় এখনো কিনে দিতে পারিনি। তবে বিকেলে ফেরার পথে বাজার বিক্রি করে যে টাকা পামু তা দিয়ে তাদের জন্য কাপড় নিয়ে যাব।’

নিজের জন্য কিনবেন না কাপড়? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ছেলেদের জন্যে এখনো কিনতে পারিনি আবার নিজের জন্য! তাদেরকে কাপড় কিনে দেব। তারা নানান বাড়িতে ঘুরে-বেড়াবে এটাই আমাদের আনন্দের, এটাই আমাদের বিজু উৎসব।’

বিজুর কি আয়োজন হবে বাসায়? জানতে চাইলে বলেন, ‘কি হবে আর প্রতিদিন যা হয়, তবে বাসায় একটা মুরগি আছে সেটা দিয়ে মুরগির গুদাইন্না (পাহাড়ে মুরগি মাংস রান্নার নাম) করে বাচ্চাদের ও ঘরের মানুষটারে (স্বামী) খাওয়াব।’

বাজারে আসা আরেক বিক্রেতা কৃপাধন চাকমা বলেন, ‘আমি বাজারে কিছু কাঁঠাল, পেঁপে, আলু, পুদিনাপাতা নিয়ে এসেছি। এগুলো আমার বাগানের সবজি। এসব বিক্রি করে বিজুর জন্যে কিছু ফল কিনে নিয়ে যাব। বিজুতে কাপড় কেনা হয়নি। তবে বাচ্চাদেরকে কিনে দেওয়া হয়েছে কাপড়। নতুন বছরে নতুন কাপড় পরে ঘোরার ইচ্ছে সব বাচ্চারই আছে। তাই তাদেরকে কিনে দিয়েছি, আমি অন্য সময় কিনতে পারব।’

শুধু ওই দুজন নন, বাজারে আসা শিল্পী চাকমা, কৃতমনি চাকমা, প্রভারণ চাকমাসহ আরো অনেকের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, তাঁদের বিজু উদযাপনের অনুভূতি।

পাহাড়ে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা যখন শেষ মুহূর্তে বৈসাবির কেনাকাটায় ব্যস্ত তখন রত্না চাকমার মতো অনেকে বাজারে আসেন পাহাড়ের সবজি বিক্রি করে সন্তানদের জন্য বিজুর উপহার কিনে নিতে। কিন্তু নিজের জন্য বিজুর নতুন কাপড়ের কথাটাই ভুলে যান তাঁরা।

আরো দেখুন

নানিয়ারচরে দুই ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

‘দলত্যাগ’ করে ইউপিডিএফ-এ যোগ দেয়ার ‘অপরাধে’ দুই কর্মীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 9 =